• ঢাকা শনিবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ৭ আশ্বিন ১৪২৫

সরকারি প্রশিক্ষণের কারণে এবার হাজি মৃত্যু কম (ভিডিও)

হানিছ সরকার, জেদ্দা প্রতিনিধি
|  ০৭ আগস্ট ২০১৮, ১১:৪৯ | আপডেট : ০৭ আগস্ট ২০১৮, ১৩:০২

চলতি বছর বাংলাদেশ থেকে প্রায় এক লাখ ২৬ হাজার ৭৯৮ জন হজ করতে যাচ্ছেন। এই বিপুল সংখ্যক হজযাত্রীর নিরাপত্তা ও সেবা নিশ্চিত করতে মিনা, মুজদালিফা ও আরাফায় সরকারি কর্মকর্তারা কাজ করে যাচ্ছেন।

সৌদি প্রবাসী একজন ব্যবসায়ী মো. বাচ্চু বলেন, সৌদি আরবে খুব গরম পড়েছে। তাই তিনি হাজিদের প্রয়োজন ছাড়া ঘর থেকে বের না হওয়ার পরমার্শ দিয়েছেন। যদি হাজিরা কোনও বিপদে পড়েন তাহলে পুলিশের নাম্বার ৯১১-এ কল দেবেন বা উজারাতুল হজ বা হাজিদের জিম্মাদারের সহযোগিতা নেবেন।

এ প্রসঙ্গে হাজিদের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা পুলিশের অতিরিক্ত ডিআইজি মনিরুজ্জামান বলেন, হজ মৌসুমটা এবার চরম গ্রীষ্মে অনুষ্ঠিত হচ্ছে। মিনা, মুজদালিফা ও আরাফায় সর্বোচ্চ সতর্কতা নেয়া একটা গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। ইতোমধ্যে সরকারের তরফ থেকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। হজযাত্রীদের নিরাপত্তার বিষয়টির ওপর জোর দেয়া হয়েছে। যদি কেউ হজ করতে গিয়ে হারিয়ে যায় তাহলে তাদের বিচলিত না হয়ে নিকটবর্তী হজ ক্যাম্পের সঙ্গে যোগাযোগ করতে হবে।

-------------------------------------------------------------------------------
আরও পড়ুন : মিশিগানে প্রথম মুসলিম আমেরিকান গভর্নর প্রার্থী ডা. আব্দুল
--------------------------------------------------------------------------------

তিনি বলেন, এছাড়া অত্যন্ত ভীড়ের মধ্যে বা বেশি লোকজন থাকলে সেখানে সাবধান থাকতে হবে। প্রচণ্ড গরমের কারণে সবসময় পানি কাছে রাখতে ও ছাতা ব্যবহার করতে হবে।

এদিকে হাজিদের নিরাপত্তা ও হজ এজেন্সিগুলোর অনিয়ম বন্ধে কাজ করে যাচ্ছে বাংলাদেশ হজ মিশন। এ নিয়ে অতিরিক্ত ডিআইজি মিজানুর রহমান বলেছেন, হজ ব্যবস্থাপনা একটি বড় ও জটিল বিষয়। বাংলাদেশ থেকে আসা হাজিদের সেবার জন্য হজ মিশন ব্যাপক ব্যবস্থা নিয়ে থাকে। আগে বাংলাদেশ মিশন থেকেই এসব কার্যক্রম পরিচালিত হতো। কিন্তু এবারই প্রথম হজ মিশনের প্রতিনিধিরা হাজিদের হোটেল বা বাড়িতে ব্যক্তিগতভাবে উপস্থিত থাকছেন।

তিনি বলেন, সেখানেই হজ মিশনের প্রতিনিধি ও হজ কর্মীদের নিয়ে টিম গঠন করা হয়েছে। তাদের কাজ হচ্ছে হাজিদের কোনও সমস্যা হচ্ছে কিনা তা খতিয়ে দেখা। তবে হাজিদের এই সমস্যাগুলো সাধারণত থাকা, তাদের চিকিৎসা, নিরাপত্তা, হজ ব্যবস্থাপনা কেন্দ্রিক হয়ে থাকে।

সৌদি প্রবাসী ব্যবসায়ী মতিউর রহমান বাবলু মনে করেন এসব সমস্যা সমাধানে আরও হজকর্মী পাঠানো দরকার। তিনি বলেন, আরও বেশি সংখ্যক হজকর্মী পাঠালে হাজিদের ভালোভাবে সেবা দেয়া সম্ভব।

এদিকে পুলিশ কর্মকর্তা রহমান বলেন- প্রতি বছরের মতো এবারও সরকারের চেয়ে বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় বেশি হজযাত্রী এসেছে। এই বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় যেসব হজযাত্রীরা আসেন সেইসব এজেন্সিগুলোর কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করেন হজ প্রশাসনিক দলের সদস্যরা। সেক্ষেত্রে প্রতিনিধি দলের দায়িত্ব হচ্ছে ওই এজেন্সিগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করা। তবে এক্ষেত্রে যদি কোনও ব্যত্যয় ঘটে তাহলে আমরা বাংলাদেশ হজ মিশনের মাধ্যমে ব্যবস্থা নেয়ার সুপারিশ করবো।

তবে দুই একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছাড়া এবার হজ এজেন্সিগুলো নিয়ম মেনেই তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করছেন বলে জানিয়েছেন হজ কাউন্সিলর মাকসুদুর রহমান। তিনি বলেন, বাংলাদেশের হাজিরা তাদের এজেন্সির সহায়তায় মক্কা-মদিনার বাড়ির ঠিকানা সম্বলিত স্টিকারসহ এসেছেন। আমি খুশি হয়েছি যে, তারা আমাদের নিয়ম মেনে এসেছে। তবে আটটি এজেন্সির বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ পাওয়ার পর আমরা এ ব্যাপারে ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়কে জানিয়েছি।

অন্যদিকে সরকারি বিভিন্ন কার্যক্রম নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন হাজিরা। হাজি মো. রতন বলেন, সরকার আমাদের হজ সম্পর্কে প্রশিক্ষণ দিয়েছে। তাই আমরা সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা পাচ্ছি, কোনও সমস্যা হচ্ছে না।

বাংলাদেশি হাজিদের মেডিকেল টিমের প্রধান ডা. মো. জাকির হোসেন খান বলেন, এ বছর সরকারি উদ্যোগে সব জেলায় হাজিদের ট্রেনিং দেয়া হয়েছে। এজন্য এবার হাজি মৃত্যু কম হয়েছে। তবে ডাক্তারদের সহায়ক কর্মী আরও দক্ষ হলে হাজিদের সুষ্ঠু সেবা দেয়া সম্ভব হতো।

আরও পড়ুন : 

এ/পি

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়