• ঢাকা সোমবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ৯ আশ্বিন ১৪২৫

কার্বন গ্রিনে বিষমুক্ত হবে সবজি-ফল: লাইফ অ্যান্ড হেলথ

আরটিভি অনলাইন রিপোর্ট
|  ১৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ২২:১৭ | আপডেট : ১৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ২২:২৩
‘বিষযুক্ত খাবারের কারণে মারাত্মক ঝুঁকিতে জনস্বাস্থ্য। আর জনস্থাস্থ্যের এই ঝুঁকি কমাতে, বিষযুক্ত খাবারকে নিরাপদ করবে কার্বন গ্রিন। এটি এখন দেশের সুপার শপ, ফার্মেসি ও খুচরা দোকানে পাওয়া যাচ্ছে।’

রাজধানীর ডেইলি স্টার ভবনে শুক্রবার সংবাদ সম্মেলন করে এমন তথ্য জানান লাইফ অ্যান্ড হেলথ লিমিটেড-এর চেয়ারম্যান ডা. শক্তিরঞ্জন পাল।

ডা. শক্তিরঞ্জন পাল বলেন- ‘ফলমূল ও শাকসবজিতে আর কীটনাশক ও ফরমালিনের ভয় নেই। নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে আমরা নিয়ে এসেছি কার্বন গ্রিন; যা ফলমূল ও শাকসবজির উপরিভাগে লেগে থাকা কীটনাশক ও ফরমালিনের ৯০ থেকে ৯৫ শতাংশ মুক্ত করে খাবার করবে নিরাপদ। সাধারণত লবণ পানি, ভিনেগার কিংবা পটাশিয়াম পারম্যাঙ্গানেট ব্যবহারে ফলমূল ৩০ থেকে ৫০ শতাংশ কীটনাশক ও রাসায়নিক মুক্ত হয়; যা খাওয়ার জন্য নিরাপদ নয়।

১৮০ মিলিয়ন বাংলাদেশির খাদ্য নিশ্চিতে উচ্চ ফলনের দরকার উল্লেখ করে ড. শক্তি আরও বলেন- ‘বেশি ফলনের জন্য খাদ্যশস্যে ব্যবহার করা হয় কীটনাশক। তবে দিন দিন কীটনাশক ব্যবহারের মাত্রা বাড়ছে। এক সমীক্ষায় দেখা গেছে, গত ১০ থেকে ১২ বছরে বাংলাদেশের কৃষিপণ্যে কীটনাশকের ব্যবহার ৩২৮ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে।

তিনি আরও বলেন- সাধারণত কীটনাশকগুলোর মধ্যে অর্গানোফসফেট (প্যারাথিওন, ম্যাল্যাথিয়ন, ডায়াজিনন), কার্বামেটস (এলডিকার্ব, কার্বোফুরান), পাইরিথ্রয়ড্স (এলাথ্রিন, রেসমেথ্রিন, প্যারমেথ্রিন, সাইফ্লথ্রিন) এবং অর্গানোক্লোরাইডস (ডিডিটি, এলড্রিন) বেশি ব্যবহার হয়। জনস্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের ফুড সেফটি ল্যাবরেটরি, ফসল ভেদে কখনও কখনও সহনশীল মাত্রার চেয়ে ৫ থেকে ৩১ গুণ বেশি কীটনাশক এবং কীটনাশক জাতীয় পদার্থের অস্তিত্ব পেয়েছে ।’

ড. শক্তি বলেন- ‘কীটনাশক-ফরমালিনযুক্ত ফল ও শাকসবজি জনস্বাস্থের জন্য খুবই ঝুঁকিপূর্ণ। এর প্রভাবে ক্যানসার, হাঁপানি, ডায়াবেটিস, ক্রনিক ব্রঙ্কাইটিস, গর্ভপাত, অ্যান্ডোমেট্রিওসিস, জন্মগত ত্রুটি, অটিজম, আলঝেইমার রোগ, পারকিনসন্স ডিজিজসহ বিভিন্ন রোগ হতে পারে। অর্গানোফসফেটের কারণে হৃদযন্ত্র ও ফুসফুসের সমস্যা হয়। কার্বামেটস ও পাইরিথ্রয়ডস শরীরের বিভিন্ন ধরনের ক্যানসার হওয়ার কারণ। কীটনাশকের ব্যাপারে সামাজিক ও জনগণের স্বাস্থ্য সচেতনতার অভাবে আমরা একটি রোগগ্রস্ত জাতিতে পরিণত হচ্ছি।’

তিনি বলেন-‘তাই লাইফ অ্যান্ড হেলথ লিমিটেড সামাজিক প্রচারণা ও গণসংযোগের মাধ্যমে সাধারণ মানুষ এবং যেসব সংস্থা স্বাস্থ্য বিষয়ক প্রচারণা এবং রোগ প্রতিরোধ নিয়ে কাজ করে, তাদেরকে সঙ্গে নিয়ে এই অবস্থার পরিবর্তন করতে চায়। তাই আমরা নিরাপদ ও কম খরচে কীটনাশক এবং ফরমালিন দূষণের প্রতিকার হিসেবে নিয়ে এসেছি কার্বনগ্রিন।’

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, থাইল্যান্ড থেকে আমদানিকৃত কার্বন গ্রিন বাংলাদেশ বিজ্ঞান ও শিল্প গবেষণা পরিষদ (বিসিএসআইআর) দ্বারা পরীক্ষিত এবং বিএসটিআই অনুমোদিত।

ফলমূল ও শাকসবজিতে অতিমাত্রায় কীটনাশক ও ফরমালিন ব্যবহারের বিরুদ্ধে গণসচেতনতা সৃষ্টির জন্য গণমাধ্যম ও সাংবাদিকদের ধন্যবাদ জানান লাইফ অ্যান্ড হেলথ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ডা. নীলাঞ্জন সেন।

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন ডা. এনামুল হক, ফয়সাল আনোয়ার, রাসেল মাহমুদ খান, সামসুল আরেফিনসহ লাইফ অ্যান্ড হেলথ লিমিটেডের কর্মকর্তারা।

আরও পড়ুন   :

পি

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়