• ঢাকা বৃহস্পতিবার, ১৯ এপ্রিল ২০১৮ | ০৬ বৈশাখ ১৪২৫

হরতালে এই প্রথম সাউন্ড স্টিমুলেটর, 'মারণাস্ত্র' বলছেন ডাক্তাররা

সিয়াম সারোয়ার জামিল
|  ৩০ নভেম্বর ২০১৭, ১৪:৫২ | আপডেট : ০১ ডিসেম্বর ২০১৭, ০১:২৩
বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার সকাল ৬টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত আধাবেলা হরতাল ডেকেছিল সিপিবি-বাসদ ও গণতান্ত্রিক বামমোর্চা। এ হরতালে আন্দোলনকারীদের দমাতে নতুন অস্ত্র ব্যবহার করলো ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)।

'সাউন্ড স্টিমুলেটর' নামের এ অস্ত্রটি দেশে প্রথমবারের মতো ব্যবহার করা হলো। প্রবল শব্দ সৃষ্টির মাধ্যমে আন্দোলনকারীদের সমস্যা সৃষ্টি করাই এ যন্ত্রের কাজ। তবে আন্দোলনকারী ও চিকিৎসকরা একে মারণাস্ত্র বলে মন্তব্য করেছেন।

ছাত্র ইউনিয়নের সভাপতি জিএম জিলানী শুভ অভিযোগ করে বলেন, শাহবাগে অবস্থান নিয়ে সমাবেশ করতে চাইলে পুলিশ তীব্র শব্দ সৃষ্টি করে আমাদের আক্রমণ করে। গণতান্ত্রিক আন্দোলন রুখে দিতেই পুলিশ এই নতুন অস্ত্র ব্যবহার শুরু করেছে। অথচ এই তীব্র শব্দ তৈরি করা পরিবেশ আইন অনুযায়ী নিষিদ্ধ। তিনি বলেন, শব্দের কারণে অনেকেই তাৎক্ষণিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়েছেন।

এ বিষয়ে ডক্টরস ফর হেলথ অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টের কেন্দ্রীয় সদস্য ডা. সাজেদুল হক রুবেল জানান, শাহবাগ এলাকায় হাসপাতাল, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান রয়েছে। তাই এসব এলাকার বাইরে ১০০ মিটার পর্যন্ত নীরব এলাকা হিসেবে ধরা হয়। সেখানে এতো বিকট শব্দ সৃষ্টি আইনের লঙ্ঘন।

তিনি বলেন, পরিবেশ সংরক্ষণ আইনে নীরব এলাকার জন্য শব্দসীমা ৪৫ ডেসিবেল, শব্দ দূষণ রোধ নীতিমালা অনুসারে সর্বোচ্চ শব্দসীমা ৫০ ডেসিবেল। এখানে যে মাত্রা ছিল তা ১০০ ডেসিবেলেরও বেশি বলে মনে হয়েছে। এতে হার্ট অ্যাটাক বা উচ্চ রক্তচাপে মৃত্যুর সম্ভাবনাও থাকে।

বাংলাদেশ মেডিকেল এসোসিয়েশনের (বিএমএ) সাবেক সভাপতি ডা: রশিদ-ই-মাহবুব বলেন, শাহবাগে দুটো হাসপাতাল। পাশেই শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। এখানে এতো বেশি মাত্রার শব্দদূষণ হলে সেটা অপরাধের পর্যায়েই পড়ে। সেটা যেই করুক না কেন। কারণ, জনবহুল স্থানে এমন যন্ত্রের শব্দ মৃত্যুর ঝুঁকি বাড়ায়। 

এসব বিষয়ে পুলিশ প্রশাসনকে বিকল্প ভাবা উচিত বলে মন্তব্য করেন তিনি।

তবে এ বিষয়ে ডিএমপির রমনা জোনের সহকারী কমিশনার এহসানুল ফেরদৌস জানান, এটা প্রথমবারের মতো ব্যবহার করা হয়েছে। এর মাধ্যমে শব্দ সৃষ্টি করে বিশৃঙ্খলাকারীদের সহজেই ছত্রভঙ্গ করে দেয়া যায়।

তিনি বলেন, টিয়ার গ্যাস ছুড়লে সাধারণ মানুষের সমস্যা হয়। সেদিক দিয়ে এটি ভালো। যন্ত্রটি যেদিকে তাক করে দেয়া হবে সেদিকেই শব্দ বেশি হবে। অন্যদিকে তেমন কোনো সমস্যা হয় না।

গেলো ২৩ নভেম্বর বিদ্যুতের দাম গড়ে ৩৫ পয়সা বা ৫ দশমিক ৩ শতাংশ বাড়ানোর ঘোষণা দয়ে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। নতুন এ দাম কার্যকর হবে আগামীকাল ১ ডিসেম্বর থেকে।

এসজে/সি

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়