• ঢাকা বুধবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ৪ আশ্বিন ১৪২৫

ওদের নিঃশ্বাসে অন্যরকম প্রত্যয়

আরটিভি অনলাইন রিপোর্ট
|  ২৩ জুন ২০১৭, ২৩:৩০ | আপডেট : ২৩ জুন ২০১৭, ২৩:৪৭
রাস্তার মাঝখানে সেই দুপুর থেকে রোদ-বৃষ্টিকে মাথায় নিয়ে বাঁশি বাজিয়ে-লাঠি দেখিয়ে ইশারা দিয়ে বেশ আসাদ গেট পুলিশ বক্সে বিচক্ষণতার সঙ্গেই দায়িত্ব পালন করছিলেন ট্রাফিক পুলিশের ২ কনস্টেবল রফিকুল ইসলাম ও মহসিন আলী। 

মাগরিবের আজান দেয়ার তখনো ১৫ মিনিট বাকি, কিন্তু সেদিকে বিন্দুমাত্র খেয়াল নেই তাদের। এ সময়টুকুর মধ্যে যেভাবেই হোক রাস্তা জ্যাম মুক্ত রেখে রোজাদার যাত্রীদেরকে গন্তব্যে পৌঁছে দিতে হবে- তারা যেন পরিবারের সঙ্গে একত্রে ইফতার খেতে পারেন। এই ব্যস্ত শহরের গাড়ির স্রোত কিছুতেই থামে না। পাশের রাস্তায় গাড়ীর চাপ একটু থামায় সহকর্মীর ইশারায় ট্রাফিক্স পুলিশ বক্সের ভেতরে গিয়ে ঢুকলেন রফিকুল ইসলাম।

হাতে এক বোতল পানি নিয়ে তার জায়গা দখল করলেন সহকর্মী মহসিন আলী। দুজনের যেকোন একজনকে আজানের সময়েও রাস্তা নিয়ন্ত্রণে থাকতে হবে। 

ঠিক এমন সময় পুলিশ বক্সের সামনে ভিত-সন্ত্রস্থ অবস্থায় এসে দাঁড়ালো একই পোশাকের কিছু ছেলে মেয়ে। তাদেরকে দেখে কনস্টেবল রফিকুল ইসলাম ভেতর থেকেই বলে উঠলেন ‘কিছু বলবেন?’

এ কথায় যেন তারা কিছুটা সাহস ফিরে পেলো। সঙ্গে সঙ্গেই জিজ্ঞেস করলেন, ‘আপনারা রোজা? ইফতার করবেন না?’ 

রফিকুল ইসলাম মৃদু হেসে জবাব দিলেন, ‘হ্যা! আমরা রোজা।’ 

ছেলে মেয়েগুলো তৎক্ষণাৎ তাদের ব্যাগ হতে পুলিশের সংখ্যা অনুযায়ী ইফতারের প্যাকেট তুলে দিলেন। 

রফিকুল খুশি হয়ে প্যাকেট হাতে জিজ্ঞেস করে উঠলেন, ‘আপনারা কারা?’

এমন সময় এক বৃদ্ধসহ কয়েকজন এগিয়ে এলো। স্বেচ্ছাসেবকদেরকে দেখে জানালো তারা ভুল করেছে বিধায় ট্রাফিক পুলিশ তাদের রিক্সা প্রায় দু’ঘন্টা ধরে আটকে রেখেছে -ওরা অনুরোধ করলে ছেড়ে দিবে। স্বেচ্ছাসেবকেরা অনুরোধ করার সঙ্গে সঙ্গেই ট্রাফিক পুলিশ সদস্যরা অনুরোধ রেখে সবগুলো রিক্সা ছেড়ে দিলেন। রিক্সাওয়ালাদের হাসিমুখ যেন ওদের মনোবলকে আরো বাড়িয়ে দিলো।   
    
মুহূর্তেই আসাদগেট তিন রাস্তার মোড়ে টিম ডিএসই’র স্বেচ্ছাসেবক ছেলে মেয়েগুলো ইফতার বিতরণের ব্যাগ হাতে চারিদিকে ছড়িয়ে পড়লো। পথে হাঁটতে থাকা কিংবা জ্যামে বাসের জানালা দিয়ে বাইরে ওদের দিকে উৎসুক তাকিয়ে থাকা ক্লান্ত রোজাদার মানুষগুলোকে অবাক করিয়ে দিয়ে তাদের হাত হতে ইফতারির প্যাকেট ধরিয়ে দিলেন স্বেচ্ছাসেবকরা। 

এভাবে কিছুক্ষণের মধ্যেই ইফতারির প্যাকেট শেষ হয়ে গেলো। সবশেষে নিজেদের জন্যে রাখা প্যাকেটগুলো দিয়েও মনকে সান্ত্বনা দিলেন তারা। সাধ অনেক কিন্তু সাধ্য সীমিত। আর এই সীমিত সাধ্যের মধ্যেও যে তারা পবিত্র রমজান মাসে পথে আটকে পড়া রোজাদার ব্যক্তিদের মুখে হাসি ফুটিয়েছে এই বা কম কীসের? এতেই যেন টিমডিএসই স্বেচ্ছাসেবকদের তৃপ্তি।

ডু সামথিং একসেপশনাল ফাউন্ডেশন (ডিএসইএফ) সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকেই জন্ম নেয়া এই সংগঠনটি প্রায় আড়াই লক্ষেরও বেশি সদস্যের একটি প্ল্যাটফর্ম; নিজস্ব স্বকীয়তা, বৈশিষ্ট্য ও ভিন্নধারার সাহায্যমূলক কার্যক্রমের জন্য দিনদিন সগৌরবে এগিয়ে চলছে। 

সংগঠনটির প্রধান ও একমাত্র উদ্দেশ্য হচ্ছে মানুষকে সাহায্য সেবা প্রদান করা। সেটা হতে পারে অসহায়কে আর্থিক সহায়তা, হতে পারে চিকিৎসা সেবা কিংবা যেকোন বিষয় সম্পর্কে তথ্য প্রদানমূলক সেবা।   

সে সাহায্য সেবারই ধারাবাহিকতাকেই অব্যহত রেখে ডিএসই আয়োজন করেছিলো রাজধানী ঢাকার ৭টি পয়েন্টে পথে আটকে পড়া রোজাদারদের জন্য বিনামূল্যে মাসব্যাপি ইফতার বিতরণের আয়োজন। মাসজুড়ে রাজধানীর বিজয় স্মরণি, আসাদ গেট, ধানমন্ডি ২৭, বিমানবন্দর রেল স্টেশন, রমনা, গুলিস্তান, প্রেস ক্লাব এলকায় ইফতার দিয়েছেন তারা।

টিম ডিএসইর রয়েছে একনিষ্ঠ, দৃঢ় আত্মবিশ্বাসী কিছু তরুণ-তরুণী স্বেচ্ছাসেবক। যারা পুরো মাসব্যাপি পথে আটকে পড়া ইফতার কার্যক্রমকে সফল করতে নিরলস পরিশ্রম করে গিয়েছেন।

সংগঠনটির চেয়ারম্যান ইমন খান বলেন, যদি প্রতিটা এলাকা থেকে সবাই এগিয়ে আসেন তাহলে সামনের বছরে এই কার্যক্রম আর বিশাল ব্যপ্তিতে করা যাবে। তিনি আরো জানান ডিএসই’র সরকারিভাবে নিবন্ধীকরণ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে, সব কিছু সম্পন্ন হলে ডিএসইএফ আরো বড় পরিসরে এগোতে ইচ্ছুক।

ওয়াই/এসজে

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়