বিশ্ববিদ্যালয়ে যৌন হয়রানির অভিযোগে শিক্ষক বরখাস্ত

‘আমি চোখ মেরেছি, চুলে হাত দিয়েছি ফান করে’ (অডিও)

প্রকাশ | ১৯ জুলাই ২০১৮, ১১:৫৩ | আপডেট: ১৯ জুলাই ২০১৮, ১৩:৪৭

বিশ্ববিদ্যালয় সংবাদদাতা
অভিযুক্ত শিক্ষক রুহুল আমিন

 

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের নাট্যকলা ও পরিবেশনা বিদ্যা বিভাগের শিক্ষক রুহুল আমিনের বিরুদ্ধে একই বিভাগের একাধিক শিক্ষিকার সঙ্গে যৌন হয়রানি করার অভিযোগ উঠেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য বিষয়টি আমলে নিয়ে রুহুল আমিনকে সাময়িকভাবে বহিষ্কার করেন।

যৌন নিপীড়নের এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে চাপা আতঙ্ক বিরাজ করছে বিশ্ববিদ্যালয়ে। নিপীড়নের শিকার ওই তিন শিক্ষিকা অভিযোগপত্রের মাধ্যমে উপাচার্যকে বিষয়টি অবহিত করেন এবং এর বিচার দাবি করেন।

সেই অভিযোগপত্রকে আমলে নিয়ে উপাচার্য প্রফেসর ড. এ এইচ এম মোস্তাফিজুর গতকাল বুধবার ১৮ জুলাই সকালে শিক্ষকদের সঙ্গে আলোচনায় বসেন। তারপর প্রশাসনিকভাবে অভিযুক্ত শিক্ষক রুহুল আমিনকে সাময়িক বহিষ্কার এবং দায়িত্বে অবহেলার কারণে প্রক্টর প্রফেসর ড. জাহিদুল কবীরকে অব্যাহতি দেয়া হয়।

অভিযোগে জানা যায়, শিক্ষক রুহুল আমিন দীর্ঘ ৪ বছর ধরেই যৌন উত্তেজনামূলক ব্যবহার করে আসছিলেন তাদের সঙ্গে। শরীরে হাত দেয়া, চোখে ইশারা দেয়া, চুলে হাত দেয়া এমনকি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক ম্যাসেঞ্জারে কুরুচিপূর্ণ ছবি এডিট করে পাঠাতেন।  

‘এতদিন ভয়ে চুপ ছিলাম এখন ধৈর্য্যের বাইরে চলে গেছে তাই এ ব্যাপারটা প্রকাশ করতে বাধ্য হয়েছি, এমনটাই আরটিভি অনলাইনকে জানিয়েছেন ভুক্তভোগী এক শিক্ষিকা। 

--------------------------------------------------------
আরও পড়ুন :  যেভাবে জানবেন এইচএসসি’র ফলাফল
--------------------------------------------------------

তিনি বলেন, কেবল আমি নই অন্য নারী শিক্ষিকা শাড়ি পরে আসলে শিক্ষক রুহুল আমিন বাজেভাবে তাকাতো। কেবল নারী শিক্ষক নয় ছাত্রীদের সঙ্গেও এমন আচরণ করেন রুহুল আমিন।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত শিক্ষক রুহুল আমিন বলেন, আমি চোখ মেরেছি, চুলে হাত দিয়েছে ফান করে। উনি সিরিয়াসলি নেবেন তা ভাবিনি। তবে হঠাৎ করে এই অভিযোগ তোলা পরিকল্পিত। 
সম্প্রতি স্নাতকোত্তর শেষ বর্ষের ফলাফল নিয়ে অভিযোগকারী এক শিক্ষিকার সঙ্গে আমার কথা কাটাকাটি হয় তাই এখন তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে আমার ইমেজ নষ্ট করার জন্যে এই কাজ করছেন।

এদিকে এই ঘটনার একটি অডিও রেকর্ডে রুহুল আমিন উত্ত্যক্ত করার অভিযোগ স্বীকার করে ক্ষমা চাইতেও শোনা গেছে।

এছাড়া বিষয়টি যখন ক্যাম্পাসে জানাজানি হতে শুরু করে তখন রুহুল আমিন তার স্ত্রীকে নিয়ে দেখা করেন নিপীড়নের স্বীকার এক শিক্ষিকার সঙ্গে। যেখানে তার স্ত্রীকে বলতে দেখা গেছে ‘এটা তার অভ্যাস’। আমি আপনার ছোট বোন হিসেবে এসেছি বিষয়টা বাদ দিন। 

এই প্রেক্ষিতে ওই ভুক্তভোগী শিক্ষিকা বলেন, অনেকবার বলেছি সংশোধন হয়নি। রুহুল ভাই আমায় বলেছে তিনি নাকি আমার প্রেমে পড়েছেন তাই এমন করেন (চুলে হাত, চোক টিপ, উত্তেজক লেখা ফেসবুকে দেন)। এটাকে প্রেম বলে না হেরেজ বলে তা জানেন না রুহুল ভাই।

এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে নাট্যকলা বিভাগের শিক্ষক রুহুল আমিন এখন বিশ্ববিদ্যালয়ের আলোচনার শীর্ষে। প্রায় সময় ক্যাম্পাসের আলোচনার শীর্ষে চলে আসেন এই শিক্ষক। একাধিক শিক্ষক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, তিনি ( রুহুল আমিন) ক্যাম্পাসের শিক্ষক নয় দাদা। অপর দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশেই ছাত্রাবাস নির্মাণ, জমি ক্রয়সহ প্রাইভেট গাড়ি কিনে আলোচনায় আসেন তিনি।

এসএস