• ঢাকা সোমবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ৯ আশ্বিন ১৪২৫

যৌন নিপীড়নকারী জবি শিক্ষককে বহিষ্কারের দাবিতে মানববন্ধন

আরটিভি অনলাইন রিপোর্ট
|  ৩০ এপ্রিল ২০১৮, ১১:৫৬ | আপডেট : ৩০ এপ্রিল ২০১৮, ১২:১১
ছবিতে মানববন্ধনের দৃশ্য
যৌন নিপীড়নের অভিযোগে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) নাট্যকলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মো. আবদুল হালিম প্রামাণিককে (সম্রাট) বহিষ্কারের দাবিতে মানববন্ধন করেছেন শিক্ষার্থীরা। আজ সোমবার সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ মিনারের সামনে শতাধিক শিক্ষার্থীরা মানববন্ধন করেন।

একাধিক ছাত্রীর অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে গত বৃহস্পতিবার বিশ্ববিদ্যালয়ের ৭৭তম সিন্ডিকেট সভায় অভিযুক্ত শিক্ষককে তিরস্কার এবং নির্ধারিত সময়ের চেয়েও দুই বছর পরে পদোন্নতি দেয়ার সিদ্ধান্ত হয়। যৌন নিপীড়নের সুনির্দিষ্ট অভিযোগের পরেও এমন লঘু সাজা দেয়ায় ক্ষোভে আন্দোলনে নেমেছে জবি শিক্ষার্থীরা।

মানববন্ধনে শিক্ষার্থীরা অভিযুক্ত শিক্ষকের স্থায়ী বহিষ্কারের দাবি জানান। একইসাথে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে পুনঃতদন্তের আবেদন জানান। আন্দোলনকারীদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পুনঃতদন্তের জন্য তারা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত আবেদন জানাবেন।

এদিকে বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ড. আবদুল হালিম প্রামাণিক (সম্রাট)  গত বছরের ১৫ ফেব্রুয়ারি বিকেলে নাট্যকলা বিভাগের এক ছাত্রীকে তার ব্যক্তিগত মুঠোফোনে ক্লাসের জন্য বিভাগে আসতে বলেন। ছাত্রীটি সন্ধ্যার দিকে বিভাগে এলে তিনি ছাত্রীটিকে বিভিন্ন একাডেমিক পরামর্শ দিয়ে বিভাগের শ্রেণিকক্ষে বসতে বলেন। শ্রেণিকক্ষে সম্রাট ছাত্রীকে যৌন হয়রানি করে কুপ্রস্তাব দেন। এ সময় ছাত্রীটি তাকে ধাক্কা মেরে শ্রেণিকক্ষ থেকে বের হয়ে আসেন। পরে সম্রাট ছাত্রীটিকে তার রুমে নিয়ে ঘটনার কথা অন্য কাউকে না বলার জন্য অনুরোধ করেন। এ নিয়ে ১৬ ফেব্রুয়ারি এ ছাত্রী উপাচার্য বরাবর যৌন হয়রানির অভিযোগ করেন।

--------------------------------------------------------
আরও পড়ুন : যৌন নিপীড়নকারী শিক্ষকের শাস্তি ‘তিরস্কার’, বাড়ছে ক্ষোভ
--------------------------------------------------------

অভিযোগের পরদিন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে ওই শিক্ষককে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাময়িকভাবে বরখাস্তের কথা জানানো হয়। তাতে বলা হয়, অভিযোগ পাওয়ার পরপরই শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ এ বিষয়ে ‘জরুরি ব্যবস্থা’ নিতে বিশ্ববিদ্যালয়টির উপাচার্য অধ্যপক মীজানুর রহমানকে বলেছিলেন।

“বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ঘটনার প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ায় ওই শিক্ষককে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করেছে।”বরখাস্তের ওই ঘোষণা আসার পর প্রশাসনের কাছে আব্দুল হালিম প্রামানিকের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ করেন তার বিভাগের আরেক ছাত্রী।

এরই প্রেক্ষিতে দীর্ঘ তদন্ত শেষে গত বৃহস্পতিবার বিশ্ববিদ্যালয়ের ৭৭তম সিন্ডিকেট সভায় অভিযুক্ত শিক্ষককে তিরস্কার এবং নির্ধারিত সময়ের চেয়েও দুই বছর পরে পদোন্নতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। অভিযোগকারী এক ছাত্রী তার ফেসবুকে লেখা এক স্ট্যাটাসে বলেন, 'যেহেতু তাকে তিরস্কার এবং দুই বছরের পদোন্নতি থেকে বিরত করা হয়েছে, সেহেতু শাস্তি তাকে দেওয়া হয়েছে। কিন্তু আমার প্রশ্ন- একজন যৌন নিপীড়নকারীর শাস্তি মাত্র তিরস্কার? মাত্র দুই বছরের পদোন্নতি থেকে বিরত? তাহলে বাঙালি জাতির মা-বোনদের লাঞ্ছিত করার শাস্তি শুধুমাত্র তিরস্কার! বাহ্‌, বাংলাদেশ বাহ্‌!! আমি এই বিচার মানি না, আমি এই শিক্ষকের উপযুক্ত শাস্তি চাই। সবার সহযোগিতা প্রার্থনা করছি।'

সেই ছাত্রীর ফেসবুক স্ট্যাটাসের পরই নিন্দার ঝড় উঠে সোশ্যাল মিডিয়ায়। ফেসবুকে অনেকেই লিখেন, নিপীরক প্রমাণিত হবার পর কিভাবে সম্রাট প্রামানিক শিক্ষক পদে বহাল থাকেন। নৈতিকতা স্খলনের পরই তো তিনি শিক্ষক হবার যোগ্যতা হারিয়েছেন।

এদিকে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মীজানুর রহমান গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, ওই ছাত্রীর অভিযোগের বিষয়টি এক বছরেরও বেশি সময় ধরে তদন্ত হয়েছে। তারপর বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তাকে তিরস্কার ও দুই বছর পদন্নতি বিলম্বিত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

বিষয়টি নিয়ে সম্রাট প্রামাণিকের সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করলে তার মোবাইল ফোনে সংযোগ পাওয়া যায়নি। এদিকে প্রামাণিকের বিরুদ্ধে অভিযোগকারী ওই শিক্ষার্থী বলেন, ‘পুনরায় সঠিক তদন্ত এবং সঠিক বিচারের জন্য আবেদন করব। এ লড়াই আমার একার না। এ লড়াই আমাদের সবার।’

আরও পড়ুন : 

পিআর/পি

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়