• ঢাকা শনিবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ৭ আশ্বিন ১৪২৫

যৌন নিপীড়নকারী শিক্ষকের শাস্তি ‘তিরস্কার’, বাড়ছে ক্ষোভ

আরটিভি অনলাইন রিপোর্ট
|  ৩০ এপ্রিল ২০১৮, ১১:১৭ | আপডেট : ৩০ এপ্রিল ২০১৮, ১১:৪৩
ছবি : সংগৃহীত
ছাত্রীকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) নাট্যকলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মো. আবদুল হালিম প্রামাণিককে (সম্রাট) লঘু সাজা দেয়ার কারণে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন শিক্ষার্থী ও নাট্যজনেরা।

একাধিক ছাত্রীর অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে গত বৃহস্পতিবার বিশ্ববিদ্যালয়ের ৭৭তম সিন্ডিকেট সভায় অভিযুক্ত শিক্ষককে তিরস্কার এবং নির্ধারিত সময়ের চেয়েও দুই বছর পরে পদোন্নতি দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

এদিকে যৌন নিপীড়নের জন্য এমন লঘু সাজা দেয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ভুক্তভুগী এক ছাত্রী। নিজের ফেসবুকে লেখা এক স্ট্যাটাসে ওই ছাত্রী বলেন, ‘যেহেতু তাকে তিরস্কার এবং দুই বছরের পদোন্নতি থেকে বিরত করা হয়েছে, সেহেতু শাস্তি তাকে দেয়া হয়েছে। কিন্তু আমার প্রশ্ন- একজন যৌন নিপীড়নকারীর শাস্তি মাত্র তিরস্কার? মাত্র দুই বছরের পদোন্নতি থেকে বিরত? তাহলে বাঙালি জাতির মা-বোনদের লাঞ্ছিত করার শাস্তি শুধুমাত্র তিরস্কার! বাহ্‌, বাংলাদেশ বাহ্‌!! আমি এই বিচার মানি না, আমি এই শিক্ষকের উপযুক্ত শাস্তি চাই। সবার সহযোগিতা প্রার্থনা করছি।'

--------------------------------------------------------
আরও পড়ুন : রাবি অধ্যাপক রেজাউল হত্যাকারীদের দ্রুত শাস্তির দাবি
--------------------------------------------------------

ওই ছাত্রীর এমন স্ট্যাটাসটি ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে অনেকেই সোশ্যাল মিডিয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন। নাট্য নির্দেশক অলোক বসু তার ফেসবুকে লিখেছেন, ‘সিন্ডিকেট সভায় তিরস্কার ও দুবছর পদোন্নতি না হওয়ার সিদ্ধান্তে কি অপরাধ প্রমাণ হয় না? কথা হলো এই শাস্তি কি ভিকটিমদের শান্তনা দেয়ার জন্য?’

নাট্যজন মোহাম্মদ আলী হায়দার প্রতিবাদী একটা ব্যানার নিজের ফেসবুকে শেয়ার করে লিখেন, ‘আমাদের আরও জোড়ালো প্রতিবাদ করা উচিত।’

অভিনয়শিল্পী শামীম আক্তার মুক্তা ফেসবুকে লিখেন, ‘এই অভিযুক্ত শিক্ষক রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক থাকাকালীন এমন ঘটনা ঘটিয়েছেন। তবুও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কেন এমন লঘু শাস্তি দিলেন তা রহস্যময়। তাকে বহিষ্কার করা হোক। তা না হলে এমন ঘটনা ঘটতেই থাকবে আর তিরস্কার করে ছেড়ে দেয়া হবে। তাহলে নারীর সম্ভ্রমের নিরাপত্তা কোথায় থাকল? এই যদি হয় সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠের বিচার তাহলে তা উদ্বেগজনক!’

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ড. আবদুল হালিম প্রামাণিক (সম্রাট)  গত বছরের ১৫ ফেব্রুয়ারি বিকেলে নাট্যকলা বিভাগের এক ছাত্রীকে তার ব্যক্তিগত মুঠোফোনে ক্লাসের জন্য বিভাগে আসতে বলেন। ছাত্রীটি সন্ধ্যার দিকে বিভাগে এলে তিনি ছাত্রীটিকে বিভিন্ন একাডেমিক পরামর্শ দিয়ে বিভাগের শ্রেণিকক্ষে বসতে বলেন। শ্রেণিকক্ষে সম্রাট ছাত্রীকে যৌন হয়রানি করে কুপ্রস্তাব দেন। এ সময় ছাত্রীটি তাকে ধাক্কা মেরে শ্রেণিকক্ষ থেকে বের হয়ে আসেন। পরে সম্রাট ছাত্রীটিকে তার রুমে নিয়ে ঘটনার কথা অন্য কাউকে না বলার জন্য অনুরোধ করেন। এ নিয়ে ১৬ ফেব্রুয়ারি এ ছাত্রী উপাচার্য বরাবর যৌন হয়রানির অভিযোগ করেন।

অভিযোগের পরদিন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে ওই শিক্ষককে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাময়িকভাবে বরখাস্তের কথা জানানো হয়। তাতে বলা হয়, অভিযোগ পাওয়ার পরপরই শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ এ বিষয়ে ‘জরুরি ব্যবস্থা’নিতে বিশ্ববিদ্যালয়টির উপাচার্য অধ্যাপক ড. মীজানুর রহমানকে বলেছিলেন।

‘বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ঘটনার প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ায় ওই শিক্ষককে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করেছে।’ বরখাস্তের ওই ঘোষণা আসার পর প্রশাসনের কাছে আব্দুল হালিম প্রামাণিকের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ করেন বিভাগের আরেক ছাত্রী।

এদিকে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মীজানুর রহমান গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, ওই ছাত্রীর অভিযোগের বিষয়টি এক বছরেরও বেশি সময় ধরে তদন্ত হয়েছে। তারপর বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তাকে তিরস্কার ও দুই বছর পদন্নতি বিলম্বিত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

বিষয়টি নিয়ে সম্রাট প্রামাণিকের সঙ্গে কথা বলতে চাইলে তার মোবাইল ফোনে সংযোগ পাওয়া যায়নি। এদিকে আজ সোমবার সকালে জবি শিক্ষার্থীরা নিপীড়ক শিক্ষককে বহিষ্কারের দাবিতে মানববন্ধন করেন।  

প্রামাণিকের বিরুদ্ধে অভিযোগকারী এক শিক্ষার্থী বলেন, ‘পুনরায় সঠিক তদন্ত এবং সঠিক বিচারের জন্য আবেদন করব। এ লড়াই আমার একার না। এ লড়াই আমাদের সবার। আজ যদি আপনাদের এই বোন বিচার না পায় তবে আর কোনো বোন হয়তো বিচার পাবে না। দিনের পর দিন মুখ বুঝে সহ্য করে যাবে তাদের ওপর হওয়া যৌন নির্যাতন ও লাঞ্ছনা।’

আরও পড়ুন :

পিআর/পি

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়