কানসাট আন্দোলনের প্রথম কবিতা ও কবির খোঁজে

প্রকাশ | ০৫ জানুয়ারি ২০১৮, ১৮:৫৯ | আপডেট: ২২ জুন ২০১৮, ১৮:২১

স্পৃহা রিজভী, আরটিভি অনলাইন

কানসাট আন্দোলন নিয়ে আমার আগ্রহ বরাবরই। আমাদের জাতীয় জীবনে এই আন্দোলনের গুরুত্ব অপরিসীম। চাঁপাইনবাবগঞ্জের মতো মফস্বল অঞ্চলের নির্ভৃত এলাকা কানসাটে বিদ্যুতের দাবিতে গড়ে উঠেছিল আন্দোলন। সেই আন্দোলনে প্রাণ হারিয়েছিল জনা কুড়ি মানুষ। স্থানীয় মানুষের গড়ে তোলা এই গণআন্দোলনে কতটা সাড়া ফেলেছিল কবি সাহিত্যিকদের? 

প্রত্যেক আন্দোলনেই গণমানুষের লেখা সাহিত্যরচনা থাকে। কানসাট আন্দোলনেও কী এমনটা প্রভাব ফেলেছিল? ফেললে কতটা? কেউ কী কবিতা-গল্প লিখেছিলেন? বা কথাসাহিত্য? লিখলে কে? সেই অনুসন্ধান করতে গিয়েই সাংবাদিক সিয়াম সারোয়ার জামিলের সঙ্গে পরিচয়। যিনি এই আন্দোলনের একজন প্রত্যক্ষদর্শীও ছিলেন। 

তিনিই কানসাট আন্দোলনের প্রথম কবিতা ও কবির খোঁজ দিয়েছিলেন। এমন এক কবি, যিনি রাজধানীকেন্দ্রীক সাহিত্যিকদের আড়ালে চাপা পড়ে গিয়েছিলেন। যিনি ঝরে গিয়েছিলেন মাত্র কুড়ি বছর বয়সেই। হারিয়ে গিয়েছিলেন গহিনের অতলে। হারিয়ে যাওয়া সেই কবির নাম রাজিত রহমান। আন্দোলন নিয়ে প্রথম লেখা কবিতার নাম কানসাট। প্রকাশিত হয়েছিল স্থানীয় শিক্ষাসাগর পত্রিকায়।  

রাজিত `কানসাট` কবিতায় লিখেছিলেন,

"আমি আর মানুষ হবো না
পিশাচ হয়ে যাব
হলি খেলবো না, 
রক্ত নিয়ে খেলবো।

কানসাটের রাজপথ 
তাজা রক্তে রাঙাবো
বুলেটের আঘাতে আঘাতে 
জনতাকে স্তব্ধ করে দেব।"

এই কবিতা সে সময় কতটা আলোড়িত হয়েছিল, তা জানা যায়নি। তবে ইতিহাসকে ধারণ করে গেছি। কবিমনে দাগ কাটার প্রমাণ মিলেছে। রাজিত রহমানের কবিতায় শুধু কানসাট আন্দোলন নয়, ২০০৭ সালে দেশে জরুরি অবস্থা জারির সময় ২০ আগস্ট ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের খেলার মাঠে ছাত্র নির্যাতনের ঘটনাও নাড়া দিয়েছিল। এর পরপরই তিনি `হানাদার` কবিতাটি লিখেছিলেন। 

"আট আনা-আট আনা
পাকি হায়েনা-বাঙালি হায়েনা
তফাৎহীন একই কথা
একই আয়না"
 
এবার খোঁজ নিয়ে জানা গেলো, বেদনাদায়ক ঘটনাটিও। ১৯৯২ সালের ১১ই আগস্ট এই তরুণ প্রতিবাদী কবি জন্ম নিলেও মৃত্যুবরণ করেন ২০১২ সালের ১৭ ই জানুয়ারী ২০১২। লিভারের জটিল রোগে আক্রান্ত হয়েছিলেন তিনি। দীর্ঘদিন শয্যাশায়ী অবস্থায় থাকার পর মাত্র কুড়ি বছর বয়সেই পরলোকগমন করেন। 

দেশের সর্বপশ্চিমের ছোট জেলা শহর চাঁপাইনবাবগঞ্জে এক সম্ভ্রান্ত মুশলিম পরিবারে তার জন্ম। প্রগতিশীল চিন্তাধারার অধিকারী চাঁপাইনবাবগঞ্জের এই তরুণ লেখকের সাহিত্যে মার্কসবাদী ভাবধারার আভাস পাওয়া যায়। যদিও তিনি কখনও নিজেকে সরাসরি রাজনীতিতে জড়াননি। তবে তার কবিতায় আধুনিক মানবতাবোধের স্পষ্টতা লক্ষণীয়। 

রাজিত রহমান মূলত কবিতা লিখতেন, তার লেখায় যে শক্তিমত্তা, সাবলীলতা, আন্তরিকতা এবং নিষ্ঠার ছাপ পাওয়া যায় তার তুলনা সমসাময়িক তরুণদের মাঝে মেলা ভার। রাজিত রহমানকে সম্পর্কে খুব বেশি জানা যায়নি। প্রকৃতি তাকে নক্ষত্র হওয়ার সুযোগ দেয়নি। তবে তিনি নক্ষত্র হতে এ কথা নি:সন্দেহে বলা যায়। 

জেএইচ