• ঢাকা সোমবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ৯ আশ্বিন ১৪২৫

৩ বার ওই রেস্তোরাঁয় গেছি

মাজহার খন্দকার
|  ০৩ জুলাই ২০১৬, ১৫:২৪ | আপডেট : ০৩ জুলাই ২০১৬, ১৫:২৮
পৃথিবীতে এখন সব দেশে জঙ্গিহানা কোনো নতুন ব্যাপার নয়। কদিন আগে ইস্তানবুলে দেখেছি মানুষ মারা গেছেন। এবার ঢাকায় হল। এতদিন বাংলাদেশে যখন কোনো ব্লগারকে খুন করা হত বা কোনো মুক্তমনা খুন হত, কোনো হিন্দু পুরোহিতকে খুন করা হত, সেটাকে প্রায় ব্যক্তিগত পর্যায়ে দেখতাম। মূলত ইসলামের প্রতি অন্ধ আনুগত্য এই খুনগুলো করতে উৎসাহিত করেছে। কিন্তু এবারে যে ঘটনা ঘটল তার তাৎপর্য আলাদা।

মনে রাখতে হবে গুলশানের যে রেস্তেরাঁয় জঙ্গিরা হত্যালীলা চালিয়েছে তার চারপাশে ৩৪টি দেশের দূতাবাস আছে। আমি অন্তত তিনবার ওই রেস্তোরাঁয় গেছি। দেখেছি বিভিন্ন দূতাবাসের বিদেশি কর্মীরা ওখানে খাওয়া–দাওয়া করেন। তাহলে এই রেস্তোরাঁকে বেছে নেওয়ার পেছনে আন্তর্জাতিক প্রচারই জঙ্গিদের কামনায় ছিল। ব্যক্তি হত্যা বা হিন্দু হত্যা নয়, মুসলমান জেহাদ সারা পৃথিবীর লোকের কাছে পৌঁছে দেওয়ার জন্যই এই রেস্তোরাঁ বেছে নেওয়া হয়েছিল।

রবীন্দ্রনাথ লিখেছেন ‘অন্যায়ের ছুরির কোনও বাঁট থাকে না। যাকে মারা হয় সে যেমন রক্তাক্ত হয়, যে মারে তার হাতও রক্তাক্ত হয়।’ওই সময় রোজার পর শুক্রবার রাতের আজান মসজিদ থেকে দেওয়া হচ্ছিল, তখন যারা ঢাকার ওই রেস্তোরাঁয় মানুষ খুন করেছে, তারা কোন ধর্মে বিশ্বাসী?তারা প্রকৃত মুসলমান হলে আজানের সময় এই কাজ করার কথা ভাবতে পারত না। লক্ষ্য করার ব্যাপার বাংলাদেশ সরকার খুব তৎপরতার সঙ্গে এই জঙ্গিহানার মোকাবিলা করেছে। কিন্তু এটাই কি শেষ?এই ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঢাকা বা কলকাতায় হবে না?যারা উন্মাদ তাদের সংখ্যা তো দিন দিন বেড়ে যাচ্ছে। ঢাকা শহরের গুলশান অত্যন্ত অভিজাত এলাকা। সেখানে যাঁরা বসবাস করেন তাঁরা অবশ্যই অর্থবান মানুষ। পুরনো ঢাকার সঙ্গে এই এলাকার আকাশ–পাতাল তফাত।

আমার বিস্ময় হচ্ছে এই কারণে যে, ওই অভিজাত এলাকার রেস্তোরাঁয় জঙ্গিরা কীভাবে পৌঁছল!যারা সংখ্যায় প্রায় ৮–১০ জন ছিল। সঙ্গে ছিল প্রচুর অস্ত্রশস্ত্র। তারা যদি গাড়িতে চেপে গিয়ে থাকে তাহলে তাদের তল্লাশি হল না কেন?ওই এলাকায় যেহেতু অনেক দূতাবাস তাই নিরাপত্তার প্রয়োজনে এই তল্লাশি হওয়াটাই স্বাভাবিক। তাহলে কি কোথাও ত্রুটি ছিল?প্রবাদ আছে, চোর পালালে বুদ্ধি বাড়ে।

শুধু গুলশানের ক্ষেত্রেই নয়, আমরা অন্যত্র, অন্য  সব জায়গায় যখনই এই রকম জঙ্গিহানা হয় তখনই লক্ষ্য করেছি সরকারি ঢিলেঢালা ব্যবস্থার সুযোগ নিয়েছে এরা। এই আমাদের কলকাতাতেই ফোর্ট উইলিয়ামের মতো নিষিদ্ধ জায়গায় দুদিন আগেই একজন স্বচ্ছন্দে ছবি তুলে বেড়ালেন। এর থেকেই প্রমাণ হয়, আমাদের নিরাপদ রাখার মতো তৎপরতা দুর্ঘটনা ঘটার আগে নিরাপত্তরক্ষীরা দেখান না।

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়