• ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ৫ আশ্বিন ১৪২৫

সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ দিয়ে হবে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটের সম্প্রচার শুরু

আরটিভি অনলাইন রিপোর্ট
|  ০৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ২২:৪১ | আপডেট : ০৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ১০:৩৯
মঙ্গলবার দক্ষিণ এশীয় ফুটবল ফেডারেশন (সাফ)চ্যাম্পিয়নশিপ সম্প্রচারের মধ্য দিয়ে পরীক্ষামূলক কার্যক্রম শুরু করতে যাচ্ছে বাংলাদেশের গর্ব বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১।

এ উপলক্ষে বিএস-১-এর তদারকী সংস্থা বাংলাদেশ কমিউনিকেশন স্যাটেলাইট কোম্পানি লিমিটেড (বিসিএসসিএল) যাবতীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে।

এ বিষয়ে বিসিএসসিএল’র চেয়ারম্যান ড. শাহজাহান মাহমুদ  জানান, বাংলাদেশ টেলিভিশনের (বিটিভি) মাধ্যমে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ ব্যবহার করে সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ খেলা সম্প্রচারের জন্য প্রস্তুত।

এ সম্প্রচারকে বাণিজ্যিক কার্যক্রমের ‘প্রাক-পরীক্ষা’হিসেবে অভিহিত করে তিনি বলেন, এ টুর্নামেন্টের সম্প্রচার স্বত্ব পাওয়া একটি বেসরকারি স্যাটেলাইট স্টেশনে সম্প্রচারের পর আমরা তা বিটিভিতে প্রচার করবো। খবর বাসস। 

স্যাটেলাইটটি মহাকাশে স্থান করে নেয়ার পর থেকে যাবতীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে উল্লেখ করে ড. মাহমুদ বলেন, এখন আমাদের সামনে চলার সময় এসেছে। আমরা আগামী দুই সপ্তাহ পরীক্ষামূলক সম্প্রচারের মাধ্যমে বিএস-১-এর কার্যক্রম অবলোকন করব।

স্থানীয় স্যাটেলাইট টিভি চ্যানেল সমূহের প্রস্তুতি সম্পর্কিত এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বিসিএসসিএল’র প্রকৌশলীগণ তাদের সঙ্গে প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি স্থাপনের ব্যাপারে কাজ করছেন।

চেয়ারম্যান বলেন, বঙ্গবন্ধু-১ স্যাটেলাইট সংযোগের জন্য তাতে অন্যান্য স্যাটেলাইট থেকে কিছু যন্ত্রপাতি স্থাপন করা প্রয়োজন। এ স্যাটেলাইটের প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান থমাস অ্যালিনিয়া স্পেস এখনো বিসিএসসিএল-এর কাছে দুটি গ্রাউন্ড স্টেশনের নিয়ন্ত্রণ হস্তান্তর করেনি। এ দুই গ্রাউন্ড স্টেশনের প্রাথমিকটি গাজীপুরে এবং মাধ্যমিকটি রাঙ্গামাটিতে অবস্থিত।

সোমবার (৪ সেপ্টেম্বর) থেকে বাংলাদেশে ১২তম সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ দ্বিবার্ষিক আন্তর্জাতিক পুরুষ ফুটবল প্রতিযোগিতা শুরু হচ্ছে। চলবে ১৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত।

গেল ১২ মে বাংলাদেশ সময় মধ্যরাতে মহাকাশ পানে তীব্র গতিতে ছুটে যায় বঙ্গবন্ধু-১ স্যাটেলাইট। যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা থেকে উৎক্ষেপণের ১০ দিন পর তার নিজস্ব অবস্থানে (অরবিট স্লট) পৌঁছায়। স্যাটেলাইটটি তৈরিতে শুরুতে বাজেট ধরা হয় ২ হাজার ৯৬৮ কোটি টাকা। শেষ পর্যন্ত অবশ্য ২৭৬৫ কোটি টাকায় এ পুরো প্রকল্প বাস্তবায়ন সম্ভব হয়েছে। এর মধ্যে ১৩১৫ কোটি টাকা দিয়েছে বাংলাদেশ সরকার আর বাকিটা বিদেশি অর্থায়ন থেকে এসেছে।

প্রায় তিন হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে এ স্যাটেলাইট প্রকল্পের বাস্তবায়ন হচ্ছে। এ স্যাটেলাইটে ৪০টি ট্রান্সপন্ডার থাকবে, যার ২০টি বাংলাদেশের ব্যবহারের জন্য রাখা হবে এবং বাকিগুলো ভাড়া দিয়ে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন সম্ভব হবে।

সরকার আশা করছে, এ স্যাটেলাইটের মাধ্যমে বিদেশি স্যাটেলাইটের ভাড়া বাবদ বছরে ১৪ মিলিয়ন ডলার সাশ্রয় হবে বাংলাদেশের। সে সঙ্গে নেপাল, ভুটানের মতো দেশের কাছে ভাড়া দিয়ে বছরে বড় অংকের টাকা আয় করা যাবে।

আরও পড়ুন :

এমসি/এমকে  

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়