close
ঢাকা, মঙ্গলবার, ২১ নভেম্বর ২০১৭ | ০৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৪

ইসলামে বিয়ের গুরুত্ব

হাফেজ মাওলানা নাসির উদ্দিন
|  ২০ অক্টোবর ২০১৭, ২০:১৯ | আপডেট : ২০ অক্টোবর ২০১৭, ২০:৫২
বিয়ে ইসলামের এক বিশেষ বিধান। সব মানুষের জীবনে বিয়ে জরুরি। মানুষ একা একা থাকতে পারে না। বিয়ের মাধ্যমে মানুষ নিজের জীবন সঙ্গিনী খুঁজে পায়। প্রশান্তির ছায়া লাভ করে। পবিত্র কোরআনের সুরা নিসা অবতীর্ণ হয়েছে বিয়ে সংক্রান্ত বিধান বিষয়ে।

তাছাড়া নারীদের বিভিন্ন অধিকার ও দায়িত্ব সম্পর্কে বিবরণ দেয়া হয়েছে এই সুরায়। বিয়ের গুরুত্ব সম্পর্কে নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের অনেক বর্ণনা রয়েছে।

হজরত ইবনে মাসউদ (রা.) বলেন, নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, হে যুব সম্প্রদায়! তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি বিয়ের সামর্থ্য রাখে, সে যেন অবশ্যই বিয়ে করে। কেননা তা দৃষ্টিকে অবনত করে এবং লজ্জাস্থানকে সুরক্ষিত রাখে। আর যে ব্যক্তি সামর্থ্য না রাখে, সে যেন রোজা রাখে। কেননা রোজা প্রবৃত্তিকে দমন করে।(বুখারি ও মুসলিম শরিফ)

হজরত আনাস (রা.) বলেন, নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, যে ব্যক্তি বিবাহ করল সে তার অর্ধেক ইমান পূর্ণ করে নিলো। এখন সে যেন বাকি অর্ধেকের জন্য তাকওয়া ও আল্লাহভীতি অবলম্বন করে।(বায়হাকি শরিফ)

ইসলাম বিয়ে খুব সহজ করে দিয়েছে। অথচ আজকের সমাজ বিয়েকে অনেক কঠিন করে ফেলেছে। ইসলাম চায় মানুষ কম খরচে বিয়ে করুক। আর আমাদের সমাজ ব্যবস্থায় প্রচলিত আছে লাখ লাখ টাকা ছাড়া বিয়ে করার সুযোগ নেই। কেন এমনটি হলো?

ইসলাম বলে একটি আর আমরা বলি অন্যটি। কম খরচে বিয়ে সম্পর্কে হাদিসে কি বলে তা জেনে নিই।

হজরত আয়েশা (রা.) বলেন, নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, কম খরচে বিয়ে করা সবচেয়ে বরকত।(বায়হাকি শরিফ)

হে বন্ধু এই হাদিসের ওপর আমল করলে আমাদের ব্যক্তি জীবন ও পারিবারিক জীবন অনেক সহজ হবে। সামাজিক বিশৃঙ্খলা কমে যাবে। কারণ ছেলেমেয়েরা বিয়ের বয়স হওয়ার পরও যদি বিয়ে না করে তখন সামাজিক অবক্ষয় বাড়তে থাকে। মূল্যবোধ কমতে থাকে। অপরাধ বাড়তে থাকে।

প্রিয় নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নির্দেশনা মেনে উপযুক্ত পাত্র-পাত্রীর বিয়ের আয়োজন করলে সবার জন্যই কল্যাণ বয়ে আনবে।

এ বিষয়ে হজরত আবু হুরায়রা (রা.) বলেন, নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, তোমাদের কাছে এমন কোনো ব্যক্তি যেনো বিয়ের প্রস্তাব দেয়, যার দীন ও চরিত্রের ওপর তুমি সন্তুষ্ট। তা হলে তার প্রস্তাব কবুল করে তার সঙ্গে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হও। যদি এমন না কর, তাহলে পৃথিবীতে ফেতনা ছড়িয়ে পড়বে এবং ভীষণ ফ্যাসাদ সৃষ্টি হবে।(তিরমিজি শরিফ)

দেখুন ইসলামের অনুসরণ না করলে কী রকম ক্ষতি হয়। ছেলেমেয়েদের উপযুক্ত সময় বিয়ে না দিলে অবৈধ প্রেম, জেনা, ব্যভিচার দেখা দেয়। এবং পিতা-মাতার অস্থিরতা বেড়ে যায়। তাই প্রতিটি পরিবার ও পিতা-মাতার উচিত ইসলামের শিক্ষা অনুসরণ করে ছেলেমেয়েদের লালন-পালন করা। তাহলেই পরিবারে ও সমাজে শান্তি ফিরে আসবে। আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে শুদ্ধ জীবন যাপন এবং কোরআন ও হাদিস অনুযায়ী আমল করার তওফিক দান করুন। (আমিন)

কে/এমকে 

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়