ঈদের আনন্দ হোক সবার সমান

প্রকাশ | ২৫ জুন ২০১৭, ১১:২৬ | আপডেট: ২৫ জুন ২০১৭, ১২:০৭

হাফেজ মাওলানা নাসিরউদ্দিন

আমরা সবাই জানি ঈদ অর্থ আনন্দ, ঈদ অর্থ খুশি। ঈদের শাব্দিক অর্থ হলো বারবার ফিরে আসা। সবাই যেহেতু চায় দিনটি সবার জীবনে বারবার ফিরে আসুক, তাই হয়তো একে ঈদ বলা হয়। অথবা এমনও হতে পারে মহান আল্লাহ এ দিনটিতে তার অনুগ্রহ নিয়ামত বারবার ফিরিয়ে দেন তাই এর নাম ঈদ।

আসুন এখন জেনে নেই ঈদের প্রচলন কখন কিভাবে শুরু হয়? অনেকে মনে করেন, ঈদ অর্থ গাম্ভীর্যপূর্ণ আনন্দ। নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়সাল্লাম যখন মদিনায় হিজরত করেন, তখন তিনি মদিনায় গিয়ে দেখলেন মদিনাবাসী আগে থেকেই দু’টি উৎসব পালন করেন, যা ছিল মূলত ইহুদিদের উৎসব। কিন্তু মুসলামনদের কোনো উৎসব না থাকায় তারাও না বুঝে সেই উৎসব পালন করতেন। উৎসব দু’টির একটি ছিল নওরোজ ও অপরটি মেহেরজান। নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়সাল্লামের আগমণের পর সাহাবায়ে কেরাম আনহুম আজমাইনরা দ্বিধাগ্রস্ত হয়ে পড়লেন। তখন আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়সাল্লাম তাদের জানিয়ে দিলেন আল্লাহ তোমাদের জন্য এর পরিবর্তে আরো উৎকৃষ্টতর দু’টি দিন দান করেছেন। এর একটি হলো ঈদুল ফিতর ও অপরটি হলো ঈদুল আজহা।

প্রত্যেক জাতির নিজস্ব ঈদ রয়েছে, আর এটা আমাদের ঈদ(বুখারী ও মুসলিম)

ঈদের দিন করণীয়

ঈদের দিন সকালটা হয় সবচে’ মধুর সকাল। সকাল বলছি কেন? ভোর থেকেইতো শুরু হয়ে যায় নানা আয়োজন। ঈদের দিন সকালে কি করা উচিত। ঈদের দিনটি সবার জন্য খুশির। যারা দরিদ্র তাদের জন্যও খুশির, তাদের জন্য কিছু করা উচিত, তাদেরকেও কিছু দেয়া উচিত। তাদেরকে কিছু দাও না দাও একটা জিনিস দিতেই হবে। আর সেটা হলো ফিতরা। এই ফিতরা দেয়া ওয়াজিব। আর ফিতরা দেয়ার কারণেই এ ঈদের নাম ঈদুল ফিতর।

ফিতরার টাকা দেয়া উত্তম হলো ঈদগাহে যাবার আগে। তবে পরেও দেয়া যাবে। নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়সাল্লাম দুই ঈদের দিন গোসল করতেন।(মুসনাদে আহমদ) ঈদের দিন সকাল বেলা গোসল করা, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও পবিত্রতা অর্জন করা, সুগন্ধি ব্যবহার করা মোস্তাহাব। ঈদগাহে হেঁটে যাওয়া এবং এক পথ দিয়ে যাওয়া এবং অন্য পথ দিয়ে আসা সুন্নত। নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়সাল্লাম এক পথ দিয়ে গিয়ে অন্য পথ দিয়ে ঘরে আসতেন।(মুসনাদে বাযযার)

ঈদুল ফিতরের দিন ঈদগাহে নামাজের জন্য যাবার আগে মিষ্টি জাতীয় কিছু খাওয়া সুন্নত। নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়সাল্লাম ঈদুল ফিতরের দিন না খেয়ে বের হতেন না।(মুসনাদে আহমদ)

ঈদের নামাজে যেতে যেতে তাকবির পাঠ করতে হবে। তাকবির হলো- আল্লাহু আকবর আল্লাহু আকবর লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াল্লাহু আকবর ওয়াল্লাহু আকবর ওয়ালিল্লাহিল হামদ।

নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়সাল্লাম ঈদের নামাজের জন্য ঘর থেকে বের হয়ে তাকবির বা দোয়া পড়তেন। ঈদের দিন আরো একটি কাজ করা উত্তম। আর তা হলো ঈদের নামাজ আদায়ের পর নিজের জন্য ও জীবিত-মৃত সব মুসলমানের জন্য দোয়া করা।(তিরমিজি শরিফ)

ঈদের দিনের প্রধান গুরুত্বপূর্ণ কাজ হলো ঈদুল ফিতরের নামাজ। আসুন আমরা গরিব-ধনী সবাই মিলে-মিশে ঈদের খুশি ভাগাভাগি করে নেই। আল্লাহ তাআলা আমাদেরকে কবুল করুন।(আমিন আমিন ছুম্মা আমিন)

কে/এমকে