এতেকাফ কেন এবং কখন করতে হয়

প্রকাশ | ২১ জুন ২০১৭, ১৩:৪৬ | আপডেট: ২১ জুন ২০১৭, ১৪:২১

হাফেজ মাওলানা নাসিরুদ্দিন

আল্লাহর নৈকট্য লাভ ও সন্তুষ্টি অজর্নের জন্য নির্দিষ্ট সময় মসজিদে অবস্থান করাকে এতেকাফ বলে। এতেকাফ তিন প্রকার।

ওয়াজিব এতেকাফ :  কোন কাজের ওপর এতেকাফ মান্নত করলে সেই এতেকাফ ওয়াজিব হয়। যেমন কেউ যদি বলে যে, আমার সেই কাজটি হয়ে গেলে আমি এতোদিন এতেকাফ করবো।

সুন্নত এতেকাফ : রমজানের শেষ দশদিনের এতেকাফকে সুন্নত বলা হয়। নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এই ‍দিনগুলো এতেকাফ করতেন।

নফল এতেকাফ : এই এতেকাফের জন্য কোন দিন বা সময় নির্দিষ্ট নেই। যতক্ষণ বা যতদিন ইচ্ছা করা যাবে। এমনকি কেউ সারাজীবনের এতেকাফের নিয়ত করলেও তা জায়েজ হবে। নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, এতেকাফকারী সমস্ত গুনাহ হতে মুক্ত থাকে এবং তার জন্য ঐ পরিমাণ নেকি লিখা হয় যে পরিমাণ আমলকারীর জন্য লিখা হয়। (মিশকাত ও ইবনে মাযাহ শরীফ)

এই হাদিসে এতেকাফের দুটি বিশেষ উপকারিতা পাওয়া যায়।

প্রথমত : এতেকাফের কারণে গোনাহ থেকে হেফাজত হয়।

দ্বিতীয়ত : এতেকাফে বসার কারণে কিছু কিছু আমল বা এবাদত করা সম্ভব হয় না। অথচ এতেকাফের ওসীলায় ঐ সমস্ত ইবাদত না করেও সে সওয়াবের অধিকারী হওয়া যায়।  

মাসআলা : পুরুষের জন্য এতেকাফের সর্বোত্তম স্থান হলো মক্কার মসজিদে হারাম। তারপর মসজিদে নববী। তারপর বাইতুল মুকাদ্দাস। এরপর জামে মসজিদ এবং তারপর স্থানীয় মহল্লার মসজিদ।

এতেকাফ সহীহ হবার জন্য মসজিদে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের জামাত হওয়া শর্ত।

মহিলারা নিজের ঘরে নামাজের জন্য নির্ধারিত স্থানে এতেকাফ করবেন। যদি ঘরে নামাজের জন্য কোন নির্ধারিত স্থান না থাকে তাহলে এতেকাফের জন্য কোন একটি স্থান নির্দিষ্ট করে নিতে হবে।

এতেকাফের অন্যতম উদ্দেশ্য হলো শবে কদর পাওয়া। তার গুরুত্ব বুখারী ও মুসলিম শরীফের একটি হাদিস দ্বারাই বুঝা যায়।

হযরত আবু সাঈদ (রা.) বলেন, নবী করীম (সা.) রমজানের প্রথম দশকে এতেকাফ করলেন। এরপর দ্বিতীয় দশকে এতেকাফ করলেন। এরপর তাবু থেকে মাথা মুবারক বের করে বললেন, আমি প্রথম দশকে এতেকাফে শবে কদর খুঁজেছি। এরপর দ্বিতীয় দশকে একই উদ্দেশ্যে এতেকাফ করলাম। অতঃপর একজন ফেরেস্তা এসে বললেন, শবে কদর শেষ দশকে।

সুতরাং যারা আমার সঙ্গে এতেকাফ করছে, তারা যেনো শেষ দশকেও এতেকাফ করে।

রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, যেই রাতটি আমাকে দেখানো হয়েছিল পরে তা আমার স্মৃতি থেকে মুছে দেয়া হয়েছে। তবে তার আলামত এই যে, আমাকে আমি সকালে কাদা মাটিতে সেজদা করতে দেখেছি। কাজেই তোমরা উহাকে শেষ দশকের রোজার রাতগুলিতে খোঁজ।

রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, এতেকাফকারীর দৃষ্টান্ত হলো ঐ ব্যক্তির মতো যে কারো দরজায় গিয়ে পড়ে থাকে আর বলতে থাকে যে, দরখাস্ত মঞ্জুর না হওয়া পর্যন্ত আমি এখান থেকে যাবো না।

আল্লাহ আমাদের সবাইকে এই মহান আমল করার সুযোগ দান করুন। (আমিন)

এমকে