close
ঢাকা, শনিবার, ১৬ ডিসেম্বর ২০১৭ | ০২ পৌষ ১৪২৪

সহমর্মিতার মাস রমজান

হাফেজ মাওলানা নাসিরউদ্দিন
|  ১৯ জুন ২০১৭, ১৮:২৯
পবিত্র কোরআনে আল্লাহতাআলা বলেন, ‘হে মুমিনরা! তোমাদের ওপর সিয়াম (রোজ) ফরজ করা হয়েছে, যেমনিভাবে ফরজ করা হয়েছিল তোমাদের পূর্ববর্তীদের ওপর। যাতে করে তোমরা মোত্তাকি(আল্লাহ ভীরু) হতে পার।(সুরা বাকারা: ১৮৩)

মোত্তাকি সেই ব্যক্তিকে বলা হয়, যিনি সংযমের জীবনযাপন করেন। আর সংযমের জীবনে অভ্যস্ত করার জন্যই আল্লাহতাআলা আমাদের ওপর একমাসের সিয়াম সাধনা ফরজ করেছেন। মাহে রমজানের একমাস সিয়াম সাধনার মাধ্যমে বান্দা সংযমের প্রশিক্ষণ নেয়। আর এটা সম্ভব হয় একে অন্যের প্রতি সহমর্মিতার মাধ্যমে। তাই বলা যায়, পবিত্র রমজান সহমর্মিতা চর্চার মাস। সন্দেহ নেই ধৈর্য, সহনশীলতা, তাকওয়া অর্জনই সিয়াম সাধনার মূল উদ্দেশ্য। কিন্তু এসবের বাইরেও রোজার বড় একটা উদ্দেশ্য হলো, মানবজাতিকে সহানুভূতি-সহমর্মিতার শিক্ষা প্রদান করা। ইসলামে সাম্য-মৈত্রীর যে নান্দনিক দর্শন রয়েছে, সিয়াম সাধনার মাধ্যমেই মূলত এর বাস্তবায়ন হয়ে থাকে। রমজান যেমন বান্দার প্রতি মহান আল্লাহর রহমত বা দয়াকে আকর্ষণ করে, ঠিক তেমনিভাবে এক বান্দার প্রতি অপর বান্দার, এক মানুষের প্রতি অপর মানুষের অন্তরে সহানুভূতি, দয়া, ভালোবাসার উপলক্ষ সৃষ্টি করে। সংযম সাধনার এ মাসে ক্ষুধা ও পিপাসার প্রকৃত অনুভূতির মাধ্যমে বিত্তবান সচ্ছল রোজাদার দরিদ্র ও অভাবি মানুষের না খেয়ে থাকার কষ্ট বুঝতে সক্ষম হন। এ উপলব্ধির আবেশেই বিত্তশালী ব্যক্তি সহানুভূতি-সহমর্মিতা বোধ করেন।

নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রমজানকে শাহরুল মুওয়াসাত তথা সহমর্মিতা-সহানুভূতির মাস বলে আখ্যায়িত করেছেন। আর এ সহমর্মিতার ক্ষেত্র শুধু আর্থিক সহযোগিতার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং আর্থিক সাহায্যের পাশাপাশি অপর মুসলমান ভাইয়ের সঙ্গে সর্বোত্তম বিনম্র আচরণ সদুপদেশ প্রদান, তার জন্য প্রভুর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা সবই সহমর্মিতার মধ্যে গণ্য। এ বিষয়টির অপরিহার্যতা ফুটে উঠেছে নুমান ইবনে বাশির (রা.) থেকে বর্ণিত একটি হাদিসে।

তিনি বলেন, নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, মুমিনরা একে অপরের প্রতি সম্প্রীতি, দয়া ও মায়া-মমতার উদাহরণ একটি দেহের মতো। যখন দেহের কোনো অঙ্গ ব্যথা পায়, তখন তার জন্য পুরো শরীরই অনিদ্রা ও জ্বরে আক্রান্ত হয়।(বুখারি শরিফ)

আমি নিজেকে যতটুকু ভালোবাসি। নিজ দেহের যত্ন নিই, যতটুকু নিজের পরিচর্যা করি, অবহেলা করি না। ঠিক তেমনি অন্যের প্রতি ও অবহেলা দেখানো যাবে না। মানুষের প্রতি দয়াশীল হতে হবে, মন উজাড় করে মানুষকে ভালোবাসতে হবে। রমজান মানুষের ঘুমন্ত আত্মাকে জাগিয়ে তোলে। দুস্থ মানুষের পাশে দাঁড়ানোর প্রেরণা জোগায়। নতুন উন্নত পোশাক পরিধান যাদের কাছে স্বপ্ন ছাড়া কিছু নয়, রমজানে বিত্তবান কর্তৃক সেই দরিদ্র শ্রেণির মানুষের নতুন জামাকাপড় প্রদান এক অনিন্দ্য সুন্দর দৃশ্যের অবতারণা ঘটায়।

আত্মিক তৃপ্তি প্রশান্তি মূলত এ সহমর্মিতা প্রকাশেই রয়েছে। নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, আত্মার অভাব মুক্তিই হচ্ছে আসল অভাব মুক্তি।(বুখারি শরিফ)

রমজান মাসের সহমর্মিতার এই শুভ শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ আমরা যদি বছরব্যাপী অনুশীলন করি, তবেই মানব সমাজে আর দেখা যাবে না কোনো রকম অসাম্য ও শ্রেণিবৈষম্য। দূর হয়ে যাবে ক্ষুধা, দারিদ্র্য, অশান্তি, হানাহানি। তাই আসুন! মাহে রমজান থেকে সহমর্মিতা ও ভ্রাতৃত্ববোধের শিক্ষা নিয়ে আমরা সামনের জীবন পরিচালনা করি। আল্লাহ আমাদেরকে কবুল করুন। এর ওপর আমল করার তৌফিক দান করুন।(আমিন)

কে/এমকে 

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়