close
ঢাকা, শুক্রবার, ১৮ আগস্ট ২০১৭ | ০৩ ভাদ্র ১৪২৪

বাবা আমার আকাশ সমান ছায়া (ভিডিও)

আরটিভি অনলাইন ডেস্ক
|  ১৮ জুন ২০১৭, ১১:৩৪ | আপডেট : ১৮ জুন ২০১৭, ১৯:২৮
সন্তানের জন্য সবচে’ নিরাপদ আশ্রয়স্থল হলো বাবা। বাবার তুলনা বাবা নিজেই। শুধু ভালোবাসা বা আদর-শাসন নয়, একজন বাবা দায়িত্ব ও কর্তব্য নিয়ে তার সন্তানকে বড় করে তোলেন। বাবা শাশ্বত, চির আপনজন। বাবার দায়িত্ব অপরিসীম। সন্তানের মাথার ওপরে যার স্নেহ ছায়া বটবৃক্ষের মতো।

প্রতি বছর বাবা দিবস জুন মাসের তৃতীয় রোববার পালিত হয়। মূলত বাবার প্রতি সন্তানের ভালোবাসা প্রকাশের জন্য দিনটি বিশেষভাবে পালন করা হয়ে থাকে। যদিও বাবার প্রতি সন্তানের ভালোবাসা প্রকাশের জন্য বিশেষ কোনো দিনের দরকার হয় না।

বাবা দিবসের ইতিহাস : প্রায় চার হাজার বছর আগের কথা। প্রাচীন ব্যাবিলনে এলমেসো নামে এক সন্তান একটি ধূসর কার্ডে বাবাকে শুভেচ্ছা জানায়। সেই শুভেচ্ছাপত্রে এলমেসো তার বাবার দীর্ঘ এবং সুস্থ জীবন প্রত্যাশা করেছিল।

আর তাই ইতিহাসবিদরা ধারনা করেন বাবা দিবসের প্রচলন কয়েক হাজার বছরের পুরনো। তবে বাবা দিবস প্রচলনের মূল ভিত্তি স্থাপিত হয় গত শতাব্দীতে। ধারনা করা হয় ১৯০৮ সালের ৫ জুলাই আমেরিকার পশ্চিম ভার্জিনিয়ার ফেয়ারমন্টের এক গির্জায় এই দিনটি প্রথম পালিত হয়। সনোরা স্মার্ট ডড সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত উদ্যোগে ১৯১০ সালের ১৯ জুন থেকে বাবা দিবস পালন করা শুরু করেন।

অবশ্য শুরুতে বাবা দিবসের প্রতি মানুষের আগ্রহ না থাকলেও ধীরে ধীরে অবস্থা পাল্টাতে থাকে। ১৯১৩ সালে আমেরিকান সংসদে বাবা দিবসকে ছুটির দিন ঘোষণা করার জন্য বিল উত্থাপন করা হয়। ১৯২৪ সালে তৎকালীন আমেরিকান প্রেসিডেন্ট ক্যালভিন কুলিজ বিলটিতে পূর্ণ সমর্থন দেন। ১৯৬৬ সালে প্রেসিডেন্ট লিন্ডন বি জনসন বাবা দিবসকে ছুটির দিন হিসেবে ঘোষণা করেন। তখন থেকে বিশ্বের বেশিরভাগ দেশে জুন মাসের তৃতীয় রোববার বাবা দিবস হিসেবে পালিত হয়।

বিভিন্ন ভাষায় বাবা ডাক : বিভিন্ন দেশে বাবাকে বিভিন্ন নামে ডাকা হয়।

জার্মান ভাষায় বাবা শব্দটি হচ্ছে ‘ফ্যাট্যা’ আর ড্যানিশ ভাষায় ‘ফর’। আফ্রিকান ভাষায় ‘ভাদের’ হচ্ছেন বাবা। চীনারা আবার বাবা কেটে শুধু ‘বা’ বলেই ডাকে। কানাডিয়ান ভাষায় বাবা হচ্ছেন পাপা। আরো আছে ব্রাজিলিয়ান ও পর্তুগিজ ভাষায় বাবাকে ডাকা হয় ‘পাই’। ডাচ ভাষায় পাপা। তবে বাবার সবচে’ বেশি প্রতিশব্দ ইংরেজি ভাষাতেই।

ইংরেজরা বাবাকে ডাকেন ফাদার, ড্যাড, পপ বা পাপা। তবে আমরা কিন্তু বাবাকে আদর করে হিব্রু ভাষাতেও ডাকি। হিব্রু ভাষায় বাবাকে ডাকে ‘আব্বাহ’।   

বাবার সঙ্গে সন্তানের সম্পর্ক : আমাদের সমাজ ব্যবস্থায় অধিকাংশ ক্ষেত্রেই দেখা যায় বাবারা থাকেন একটু বহির্মুখী। মা যেমন হতে পারেন চাকরিজীবী তেমনি তিনি হতে পারেন গৃহিণীও। তবে বাবা বরাবরই পেশা আর জীবিকার কারণে বহির্মূখী । ফলে বাবার সঙ্গে সন্তানের সময় কাটানোর সুযোগটা তুলনামূলক কমই হয়ে ওঠে। তার ওপর সংসারে সন্তানের মঙ্গলের জন্য যে শাসন, সেটিও যদি বাবার ওপরই বর্তায় তাহলে সেখানে সন্তানের অভিমানটাও বাড়ে। ক্রমে ক্রমেই মা হয়ে ওঠেন প্রশ্রয়ের আর বাবা ভয়ের। তবে আধুনিক জীবনধারায় এখন মায়ের পাশাপাশি বাবারাও হয়ে উঠছেন অনেক বেশি বন্ধুবৎসল।

বাবার সঙ্গে সন্তানের ভুলবোঝাবুঝিতে দূরত্ব তৈরি হতে পারে। তবে সেই দূরত্ব ঘোচানোর জন্য বাবা আর সন্তানের পাশাপাশি মায়ের ভূমিকাটিও কম নয়। বাবার কোনো আচরণে সন্তানের মনে কষ্ট তৈরি হলে সেটির প্রতি লক্ষ্য রেখে সন্তানকে বিষয়টি বুঝিয়ে বলবার দায়িত্ব নিতে হবে মাকেই। এমনকি দাম্পত্য সম্পর্কের অস্থিরতার কারণে যদি তিনি তার সঙ্গীর প্রতি কোনো কারণে বিরক্ত হোন তবুও বাবার প্রতি সন্তানের অনীহাকে প্রশ্রয় দেয়া যাবে না। অন্যদিকে বাবা যদি কোনো কারণে সন্তানের প্রতি  বিরক্ত হন বা হতাশ হয়ে পড়েন তবে সন্তানকে সঠিক দিকনির্দেশনার পাশাপাশি বাবার আস্থাভাজন করে তোলা এবং সঙ্গীকে বিষয়টি বুঝিয়ে বলার দায়িত্বটিও পালন করতে হবে মাকেই।

 

আরকে

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়