• ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ৫ আশ্বিন ১৪২৫

গ্রীষ্মকালীন রোজার ফজিলত

আরটিভি অনলাইন ডেস্ক
|  ১৫ জুন ২০১৭, ১৩:৩৫ | আপডেট : ১৫ জুন ২০১৭, ১৩:৩৯
গ্রীষ্মকালের দীর্ঘ সময়ে রোজা রাখার ফজিলত তুলে ধরতে গিয়ে বিশ্বনবী হযরত মুহাম্মাদ (সা) বলেছেন, মহান আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য যে তীব্র গরমের মধ্যেও রোজা রাখাবে তাদের সম্পর্কে ঘোষণা দেয়া হবে এক হাজার ফেরেশতার মাধ্যমে। তারা ইফতারের সময় পর্যন্ত ঘোষণায় মশগুল থাকবে। এরপর আল্লাহ বলবেন, ফেরেশতারা তোমরা সাক্ষী থাক যে আমি এই রোজাদারকে ক্ষমা করে দিলাম।

রমজান এমন এক ঝর্ণাধারা যা প্রকৃত রোজাদারদের পাপ ধুয়ে মুছে সাফ করে দেয়।  আর রহমতের এই মাসেও যে নিজের গোনাহ মাফ করাতে ব্যর্থ হয় তার জন্য রহমতের দরজা বন্ধ হয়ে যায়।

রমজান মানুষকে শেখায় খোদা প্রেম। তবে খোদাপ্রেমের অন্যতম শর্ত হল আল্লাহর সৃষ্টির প্রতি ভালোবাসা। রমজানে রোজাজনিত ক্ষুধা ও তৃষ্ণা আমাদেরকে দরিদ্রদের কষ্ট অনুভব করতে শেখায়। তাই দরিদ্রদের প্রতি সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেয়া রজমানের অন্যতম বড় শিক্ষা।

রমজান খোদাপ্রেমের বসন্ত। এ মাসে আল্লাহ তার প্রেমিকদের জন্য রহমত, বরকত, মাগফিরাত ও অজস্র আধ্যাত্মিক সমৃদ্ধির দরজা খুলে দিয়েছেন। এ মাসেই নাজিল হয়েছিল পবিত্র কুরআন যা মানুষকে দেখায় সঠিক পথ এবং ভুল ও বাকা পথগুলো সম্পর্কে করে সতর্ক। এ মাসেই রয়েছে পবিত্র কদরের রাত তথা মহিমান্বিত রাত যে রাতের ইবাদত হাজার রাতের ইবাদতের চেয়েও উত্তম।

আমিরুল মু’মিনিন হযরত আলী (রা.) বলেছেন, আসমানি গ্রন্থ তৌরাত (অবিকৃত সংস্করণ) শেষ হয়েছিল ৫টি উপদেশ দিয়ে। আমি প্রতিদিন সকালে তাতে নজর বুলাতে পছন্দ করি। ওই পাঁচ উপদেশ হল:

 ১. যে আলেম তার জ্ঞান বা ইলম অনুযায়ী আমল করে না সে আর শয়তান অভিন্ন।

২. যে সুলতান বা শাসক তার প্রজাদের মধ্যে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করে না সে আর ফেরাউন অভিন্ন।

৩. যে দরিদ্র ব্যক্তি ধনী ব্যক্তির সামনে নিজেকে বিনম্র করে কিছু পাওয়ার আশায় সে আর কুকুরের মধ্যে পার্থক্য নেই।

৪. অর্থ-সম্পদের অধিকারী যে ব্যক্তি তার অর্থ ব্যয় করতে প্রস্তুত নয় এবং (দুনিয়া ও পরকালের চিন্তা বাদ দিয়ে) কেবলই অর্থ জমা করতে ব্যস্ত সে আর ইট অভিন্ন।

৫. যে নারী কোনো দরকার ছাড়াই ঘর থেকে বাইরে যায় সে আর দাসী অভিন্ন।

পবিত্র রমজান মাস আমাদের শেখায় শৃঙ্খলা, নিয়মানুবর্তিতা ও ধৈর্যসহ অশেষ গুণের অনুশীল। সময়মত পানাহার মানুষকে দেয় সুস্বাস্থ্য। পেটভরে না খাওয়া, ক্ষুধা না পেলে কিছু না খাওয়া, হালাল খাবার খাওয়া, লোভ-লালসা পরিহার,  পর্যাপ্ত মাত্রায় ঘুমানো-এসবেরই অনুশীলন করা সম্ভব পবিত্র রমজান মাসে।

মহান আল্লাহর সান্নিধ্য লাভই মানব সৃষ্টির প্রকৃত উদ্দেশ্য। কিন্তু মানুষের নাফসে আম্মারা বা কুপ্রবৃত্তি খোদাপ্রেমের পথে বড় বাধা। তাই নাফসের বন্দীত্ব থেকে নিজেকে মুক্ত করাই হচ্ছে ইবাদত-বন্দেগির আসল উদ্দেশ্য।

মহান আল্লাহর দিকে হিজরতের জন্য রমজানেই কঠিন শপথ নিতে হবে এবং এ জন্য আল্লাহর সাহায্য চাইতে হবে। বহু মানুষ পার্থিব দুনিয়ার ক্ষণস্থায়ী সুখের জন্য বিসর্জন দিচ্ছে মহান আল্লাহর সান্নিধ্যকে। অথচ মহান আল্লাহর সান্নিধ্য হচ্ছে বেহেশতের চেয়েও বড় প্রাপ্তি। তাই অন্তত বেহেশতের চেয়ে কম মূল্যে আমাদের আত্মাকে বিকিয়ে দেয়া ঠিক হবে না। আর মহান আল্লাহর সান্নিধ্য বা ঘনিষ্ঠতাই হওয়া উচিত প্রকৃত মু’মিনের মূল টার্গেট। অথচ বিশ্বের বহু মানুষ ও এমনকি বহু মুসলমান যেন জাহান্নামে কার চেয়ে কত বেশি দ্রুত এগিয়ে যাওয়া যায় সেই প্রতিযোগিতাতেই মশগুল হয়ে আছে।

মহান আল্লাহ আমাদের সবাইকে আত্ম-সচেতন এবং মহান আল্লাহর রহমতের ব্যাপারে আশাবাদী ও তাঁর সান্নিধ্যের দিকে এগিয়ে যাওয়ার জন্য দৃঢ়-মনোবল  আর পথনির্দেশনা দান করুন।

এমকে 

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়