close
ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২৭ এপ্রিল ২০১৭ | ১৪ বৈশাখ ১৪২৪

বিআরটিএ'র নির্দেশ পাত্তাই দিচ্ছেন না বাস মালিকরা

মিথুন চৌধুরী
|  ১৮ এপ্রিল ২০১৭, ১৩:৪২ | আপডেট : ১৮ এপ্রিল ২০১৭, ২২:২৯
বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথরিটির (বিআরটিএ) সিদ্ধান্ত তোয়াক্কা করছে না বাস মালিকরা। অভিযানকালে বাস না চললে রুট পারমিট বাতিল করা হবে, বিআরটিএ চেয়ারম্যান মশিউর রহমান এমন ঘোষণা দিলেও অভিযানের ৪র্থ দিনেও রাজধানীতে বাসের সংখ্যা তুলনামূলক কম দেখা যাচ্ছে।

বেশ কয়েকটি বাস সার্ভিস অভিযানের শুরুর দিন চালু না করলেও পারমিট বাতিলের ঘোষণার পর  কিছু বাস সড়কে নামানো হয়েছে।  

এদিকে রাজধানীতে ৪র্থ দিনের মত বাস কম থাকায় অনেককে পায়ে হেঁটে কিংবা বাড়তি টাকা খরচ করে সিএনজি অটোরিক্সা করে যাতায়াত করতে দেখা যায়। এনিয়ে যাত্রীদের মধ্যে রয়েছে চাপা ক্ষোভ।  

রাজধানীর বেশ কয়েকটি এলাকা ঘুরে দেখা যায়, দীর্ঘক্ষণ যাত্রীরা দাঁড়িয়ে থাকার পর যানবাহনে উঠছে। কৃত্রিম এ পরিবহন সংকটের কারণে অতিরিক্ত যাত্রী বোঝায় করে বেশিরভাগ বাস চলাচল করছে রাজধানীজুড়ে। বাসগুলোতে অধিক যাত্রী বোঝায় থাকার কারণে অনেক যাত্রী বাসেও উঠতে পারছে না।

বিশেষ করে নারীরা দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকার পরেও বাসে উঠার সুযোগ মিলে না বললেই চলে।  মগবাজারে দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকার পর মুখের ঘাম মুছতে মুছতে সিএনজি অটোরিক্সায় উঠার জন্য চেষ্টা করছিলেন এক নারী। কিন্তু বার বার তিনি ফিরে আসছেন আর মলিন মুখে এদিক ওদিক তাকাচ্ছেন। মুখ জুড়ে বিষাদের ছায়া।



কথা বলে জানা গেলো, উনার নাম সুস্মিতা চৌধুরী। বনানীতে উনার একটি প্রতিষ্ঠানে চাকুরির পরীক্ষা রয়েছে। বাসে অধিক যাত্রী থাকায় অনেক বাস না থেমে চলে যাচ্ছে। অনেক বাস নারী দেখে উঠাচ্ছে না। এদিকে পরীক্ষার সময়ও ঘনিয়ে আসছে। তাই তিনি বেশ চিন্তিত। তিনি আদৌ জানেন না ঠিক সময়ে তিনি পৌঁছাতে পারবেন কিনা। সুস্মিতার কথার সঙ্গে তাল মিলিয়ে পারভীন খান শিমু জানান, অনেকক্ষণ দাঁড়িয়ে থেকে বাস পাচ্ছি না। বাচ্চাকে নিয়ে উত্তরায় যাবো। সিএনজি অটোরিক্সাও পাচ্ছি না। সিএনজি পেলেও ভাড়া বেশি চাচ্ছে। গেলো কয়েকদিন ধরে বাস কম চলায় অধিক ভাড়া হাঁকছেন তারা।

এদিকে ৪র্থ দিনেও রাজধানীতে চলছে ফিটনেস বিহীন গাড়ি ও সিটিং সার্ভিসের বিরুদ্ধে বিআরটিএর অভিযান। অভিযানে সহায়তা করছে ডিএমপি ও বাস মালিক সমিতি।

বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন সমিতির মহাসচিব খোন্দকার এনায়েত উল্লাহ খান বলেন, বাসের সংকট নেই, সমস্যার কারণে অনেক গাড়ি গ্যারেজে রয়েছে। আবার যাদের কাগজপত্রে সমস্যা রয়েছে তারা অভিযানের ভয়ে রাস্তায় গাড়ি নামাচ্ছে না। তবে তা খুব সামান্য। অভিযানের কারণে আগের তুলনায় অনিয়ম কমেছে।

তিনি বলেন, আসছে সপ্তাহে মালিকদের নিয়ে ফের বসছি। যাত্রীরা মনে করছে ২০১৫ সালের বিআরটিএ’র চার্টের পর হয়তো নতুন চার্ট হয়েছে। আসলে এটা ভুল। ২০১৫ সালের পর আর কোন চার্ট তৈরি হয়নি। ২০১৫ সালের চার্টে বাস ভাড়া দেয়ার অনুরোধ জানান তিনি। প্রয়োজনে বাস চার্ট না দেখালে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহায়তার কথাও জানান তিনি।

তিনি আরো বলেন, বিআরটিএর তালিকা মেনেই বাস চালাতে হবে। আর যেসব মালিক ভাড়ার তালিকা মেনে ব্যবসা করতে পারবে না তারা পরিবহন খাতে ব্যবসা না করলেই পারে। জনগণের সেবা করেই ব্যবসা করতে হবে। পরিবহন ব্যবসার নামে জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করার সুযোগ নেই।  বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন সমিতি অভিযানে সহায়তা করবে এবং সিটিং প্রথাকে চিরদিনের মতো বন্ধ করতে যা করার দরকার করবে। এতে কেউ কোন অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটাতে চাইলে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেবে সরকার। যাতে মালিক সমিতিও সহায়তা করবে। পরিবহন খাতের নৈরাজ্য কোনোভাবে মেনে নেয়া হবে না।

সোমবার শাহবাগে অভিযানের কারণে রাজধানীতে বাস সার্ভিস বন্ধ রাখা প্রতিষ্ঠানগুলোকে হুশিয়ারি করে বিআরটিএ চেয়ারম্যান মশিউর রহমান  রুট পারমিট বাতিলের ঘোষণা দেন। 
গেলো রোববার বিআরটিএ ও মালিক সমিতি জরুরি মিটিং শেষে সিটিং, গেটলক বা স্পেশাল সার্ভিস বন্ধসহ রাজধানীতে অভিযানের ঘোষণা দেন বিআরটিএ চেয়ারম্যান। ৪ এপ্রিল সংবাদ সম্মেলনে ১৫ এপ্রিল থেকে ঢাকার বাস-মিনিবাসে সিটিং সার্ভিস  বাতিলের ঘোষণা দেয় পরিবহন মালিকদের সংগঠন ঢাকা সড়ক পরিবহন সমিতি।

এর আগে ৩০ মার্চ সিটিং সার্ভিস বন্ধের যৌক্তিকতা নিয়ে পরিবহন মালিকদের সংগঠন ঢাকা সড়ক পরিবহন সমিতির নেতারা বৈঠক করেন। রাজধানীতে সিটিং, গেটলক বা স্পেশাল সার্ভিস নাম দিয়ে একটি চক্র বিআরটিএ’র দেয়া চার্টের বাইরে নিজেদের মতো ভাড়া ঠিক করে যাত্রীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। বিষয়টি বিআরটিএ ও মালিক সমিতিকে ভাবিয়ে তোলে। 

পরে তারা এ নিয়ে অনুসন্ধান চালালে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের সত্যতা মেলে। পরে এজন্য সার্ভিস বন্ধের সিদ্ধান্ত নেন মালিক সমিতি ও বিআরটিএ।

এমসি/ এমকে

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়