close
ঢাকা, শনিবার, ১৯ আগস্ট ২০১৭ | ০৪ ভাদ্র ১৪২৪

গণপরিবহনে নৈরাজ্য চলছেই

মিথুন চৌধুরী
|  ১৭ এপ্রিল ২০১৭, ১৯:৫০ | আপডেট : ১৮ এপ্রিল ২০১৭, ০৯:৫৭
আব্দুল্লাহপুর থেকে মালিবাগ মোড়ে আসছিলেন জাহিদ আনোয়ার। 'অনাবিল' বাসে তালিকা অনুযায়ী ভাড়া দিলে ক্ষিপ হয়ে উঠেন কন্ডাক্টর মাসুদ। একপর্যায়ে যাত্রীকে বললেন, 'কম ভাড়া দিবেন দ্যান, কাইল ফ্যান খুইলা লমু। ফ্যানের হাওয়া খাইয়া লোকাল ভাড়া দিলে হইবো না।' 

অপর যাত্রীবাহী বাসে লোকাল ভাড়া দেয়ায় এক যাত্রীকে না নামিয়ে গন্তব্যস্থান থেকে সামনে নিয়ে নামিয়ে দেয়। এছাড়া বাসস্টান্ডে নিয়ে যাওয়ার হুমকি দিতে থাকে কন্ডাক্টর। পরে অপর যাত্রীদের তোপের মুখে নামিয়ে দেয়া হয়। এছাড়া বিভিন্নস্থানে যাত্রীদের গাড়িতে উঠতে দেয়া হচ্ছে না যাত্রীদের। 

অনেকস্থানে গেট বন্ধ করে গাড়ি চলতে দেখা যায়। বিভিন্ন স্থানে বাড়তি ভাড়া না দেয়ায় গাড়ি থেকে নামিয়ে দেয়ার ঘটনাও ঘটেছে বলে বেশ অভিযোগ পাওয়া গেছে। বেশ কিছু বাস সার্ভিসকে বাস তোলার আগে ভাড়া নির্ধারণ করে যাত্রী উঠাতেও দেখা গেছে। সোমবার রাজধানীতে বাস সার্ভিসের অভিযান ও সিটিং সার্ভিস বন্ধের দ্বিতীয় দিনে এমন চিত্র ফুটে ওঠে। 

রাজধানীর বেশির ভাগ মিনিবাস ও বাসের বেহাল দশায় নির্বাক থাকে সাধারণ মানুষ। পরিবহন শ্রমিকদের উগ্রমূখি ব্যবহারের যাত্রীর না পারতেই অধিক ভাড়া দিয়ে দেয়।  এর থেকে রেহাই পাচ্ছেন না গণমাধ্যমকর্মীরাও। 

সোমবার রাজধানীর মিরপুর এলাকায় বাসে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের প্রতিবাদ করায় একটি বেসরকারি টেলিভিশনের বার্তা প্রযোজককে মারধর করেছেন জাবালে নূর পরিবহনের কর্মচারীরা। এতে তিনি গুরুতর আহত হন। 

এ ব্যপারে জানতে চাইলে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন সমিতির মহাসচিব খোন্দকার এনায়েত উল্যাহও জানান, সিটিং সার্ভিস বন্ধের পর থেকে পরিবহন শ্রমিকরা যাত্রীদের সাথে খুব খারাপ ব্যবহার করছেন বলে অভিযোগ পেয়েছি। অনেক স্থানে যাত্রীদের সঙ্গে তাদের কথা-কাটাকাটিও হয়। কিন্তু তারা যত টালবাহানা করুক না কেনো সিটিং সার্ভিস আর চালু হবে না। 

তিনি আরো বলেন, বিআরটিএর তালিকা মেনেই বাস চালাতে হবে। আর যেসব মালিক ভাড়ার তালিকা মেনে ব্যবসা করতে পারবে না তারা পরিবহন খাতে ব্যবসা না করলেই পারে। জনগণের সেবা করেই ব্যবসা করতে হবে। পরিবহন ব্যবসার নামে জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করার সুযোগ নেই। 

বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন সমিতি অভিযানে সহায়তা করবে এবং সিটিং প্রথাকে চিরদিনের মতো বন্ধ করতে যা করার দরকার করবে। এতে কেউ কোনোরুপ অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটাতে চাইলে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিবে সরকার। যাতে মালিক সমিতিও সহায়তা করবে। পরিবহন খাতের নৈরাজ্য কোনোভাবে মেনে নেয়া হবে না।
 
সোমবার শাহবাগে অভিযানের কারণে রাজধানীতে বাস সার্ভিস বন্ধ রাখা প্রতিষ্ঠানগুলোকে হুশিয়ারি করে বিআরটিএ চেয়ারম্যান রুট পারমিট বাতিলের ঘোষণা দেন। 
 
রোববার বিআরটিএ ও মালিক সমিতি জরুরি মিটিং শেষে সিটিং, গেটলক বা স্পেশাল সার্ভিস বন্ধসহ রাজধানীতে অভিযানের ঘোষণা দেন বিআরটিএ চেয়ারম্যান। গেলো ৪ এপ্রিল সংবাদ সম্মেলনে ১৫ এপ্রিল থেকে ঢাকার বাস-মিনিবাসে সিটিং সার্ভিস প্রথা বাতিলের ঘোষণা দেয় পরিবহন মালিকদের সংগঠন ঢাকা সড়ক পরিবহন সমিতি।

এর আগে ৩০ মার্চ সিটিং সার্ভিস বন্ধের যৌক্তিকতা নিয়ে পরিবহন মালিকদের সংগঠন ঢাকা সড়ক পরিবহন সমিতির নেতারা বৈঠক করেন। রাজধানীতে সিটিং, গেটলক বা স্পেশাল সার্ভিস নাম দিয়ে একটি চক্র বিআরটিএ’র দেয়া চার্টের বাহিরে নিজেদের মতো ভাড়া ঠিক করে যাত্রীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত টাকা হাতিয়ে নেয়। যা বিআরটিএ ও মালিক সমিতিকে ভাবিয়ে তোলে। 

পরে তারা এ নিয়ে অনুসন্ধান চালালে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের সত্যতা মেলে। পরে সার্ভিস বন্ধের সিদ্ধান্ত নেন তারা।

এমসি/এসজে 

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়