close
ঢাকা, শুক্রবার, ২০ অক্টোবর ২০১৭ | ০৫ কার্তিক ১৪২৪

বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য বানালেন গরিব কাঠমিস্ত্রি শরৎ (ভিডিও)

মিথুন চৌধুরী
|  ১২ এপ্রিল ২০১৭, ১৬:৪১ | আপডেট : ১৩ এপ্রিল ২০১৭, ১২:৪৪

পারিবারিকভাবেই বঙ্গবন্ধুকে হৃদয়ে লালন করেন ছোট থেকে। ৭ মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণ শুনে বড় হয়েছেন। স্বপ্ন দেখেছেন বঙ্গবন্ধুর আদর্শ বাস্তবায়নের। কিন্তু দারিদ্রের শেকলে ৮ম শ্রেণীতেই পড়ালেখার পাঠ চুকিয়ে ফেলতে হয়েছে। জীবন বাস্তবতায় হন ফার্নিচার তৈরির কারিগর।

বলছি মানিকগঞ্জের দৌলতপুর থানার চরখুলশী গ্রামের শেখ শরৎ আলীর কথা। ‍যিনি ৬মাসে তৈরি করেছেন বঙ্গবন্ধুর ৬ ফিট লম্বা ও ১৯ ইঞ্চি চওড়া কাঠের ভাস্কর্য।   

কাঠের কটকট শব্দ ও পেরেক মারার মাঝেও নেতার আদর্শের কথা একটি বারও ভুলে যাননি শরৎ আলী। ৮ শতাংশ বাড়ির মধ্যে বাবা-মা ভাই বোন ও দু’ সন্তান-স্ত্রী নিয়ে কোন মতে মাথা গোজার ঠাঁই তার।

বঙ্গবন্ধুকে দেখার ভাগ্য শরৎ আলীর হয়নি। কিন্তু নেতার ছবি পাশে রাখা ও তার ভাষণ শোনেন সবসময়। কিন্তু বঙ্গবন্ধুর ছবি পাশে নিয়ে মন ভরে না তার। তিনি সিদ্ধান্ত নেন ভাস্কর্য তৈরি করে সেটি নিজের কাছে রাখবেন।

কিন্তু বাধ সাধে দারিদ্রতা। কিন্তু ভাষ্কর্য সে তৈরি করবেনই। কাঠ মিস্ত্রি হওয়ায় কাঠের ভাস্কর্য তৈরি করার সিদ্ধান্ত নেন।

দু’ বার কাঠ নষ্ট করতে হলো মনমত ভাস্কর্য তৈরি না হওয়ায়। ফের চড়া সুদে এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে ভাস্কর্য তৈরি শুরু করলেন শরৎ। যা তাকে প্রতি সপ্তাহে কিস্তিতে পরিশোধ করতে হয়। ৬ মাস ধরে সব কাজ বাদ দিয়ে সবশেষে মনের ক্ষুধা মিটলো তার। তৈরি করলেন  বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য। শরৎ বলেন, পানি বা রোদ না পড়লে  শতবছরেও কিছু হবে না ভাস্কর্যটির।

আরটিভি অনলাইনকে শরৎ জানান, ভাস্কর্যটি তৈরির সময় আর্থিকভাবে কারো কাছ থেকে অনুদান পাননি। তবে উৎসাহ পেয়েছেন।

তিনি বলেন, বানানো শেষে অনুভব হলো এতো কষ্ট করে তৈরি করা ভাস্কর্যটি কোথায় রাখবো। ঘরে থাকলেও সমস্যা, কোথায় রাখবো কিভাবে রাখবো তা নিয়ে কথা বললাম মানিকগঞ্জের স্থানীয় নেতাদের সঙ্গে।

তাদের পরমার্শে আমার এলাকার বড় ভাই যুবলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক এস এম জাহিদ হোসেনের শেওড়াপাড়া অফিসে রেখে আসি। তবে আমার ইচ্ছা মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর হাতে ভাস্কর্যটি তুলে দেয়ার।

এমসি/ এমকে

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়