close
ঢাকা, রোববার, ১৭ ডিসেম্বর ২০১৭ | ০৩ পৌষ ১৪২৪

সিলেট-১ আসন যার সরকার হয় তার!

রাজ্জাক রুনু
|  ০৬ নভেম্বর ২০১৭, ১৫:১৪ | আপডেট : ০৭ নভেম্বর ২০১৭, ১৬:০১
বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর থেকে দেশের রাজনীতিতে এক ধরনের ‘মিথ’ প্রচলিত আছে সিলেট-১ আসনে যে দল বিজয়ী হয় সেই দলই সরকার গঠন করে।

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় দেড় বছরের মতো বাকি থাকলেও এখন থেকেই দৌড়ঝাঁপ শুরু করেছে আওয়ামী লীগ, বিএনপি, জাতীয় পার্টিসহ অন্যান্য দল। তবে অন্যান্য দল থেকে প্রার্থী দাঁড়ালেও এ আসনটিতে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির মধ্যেই প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে। 

এ আসনে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি থেকে একাধিক প্রার্থীর নাম শোনা যাচ্ছে। বিগত দিনে এ আসন থেকে বিএনপির হয়ে নির্বাচনে অংশ নিয়েছিলেন সাবেক অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী এম. সাইফুর রহমান এবং আওয়ামী লীগ থেকে নির্বাচন করেছেন বর্তমান অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। 

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এই আসন থেকে আওয়ামী লীগের নতুন-পুরাতনসহ বেশ কয়েকজনের নাম রয়েছে আলোচনায়। পুরাতনদের মধ্যে রয়েছেন বর্তমান সংসদ সদস্য ও অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত, তার ছোট ভাই চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের চেয়ারম্যান ড. এ কে এম মোমেন, আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট মিসবাহ উদ্দিন সিরাজ।

এ ছাড়া আওয়ামী লীগ থেকে সম্ভাব্য মনোনয়ন প্রত্যাশীদের মধ্যে রয়েছেন সিলেট নগরীর কাজীটুলার সন্তান সাবেক নির্বাচন কমিশনার ছহুল হোসাইন এবং হবিগঞ্জের মাধবপুরের বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. মোহাম্মদ ফরাস উদ্দিন। 

ছহুল হোসাইনের পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, তিনি এখনো নির্বাচনে অংশগ্রহণের বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানাননি। তবে আওয়ামী লীগের শীর্ষ অনেক নেতার মুখেই শোনা যাচ্ছে তিনি আওয়ামী লীগের টিকিট পাচ্ছেন।

বিগত দিনে বিভিন্ন সভায় বর্তমান সংসদ সদস্য অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত আগামী নির্বাচনে অংশ না নেয়ার কথা বলেন। এরপর থেকে মন্ত্রীর ছোট ভাই এ কে এম মোমেন আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের সঙ্গে সংযোগ বাড়াতে শুরু করেছেন।

তবে বিএনপি থেকে এই আসনে দলটির চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া প্রার্থী হবেন এমন গুঞ্জন শোনার পর আবুল মোহিত তার সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করে ফের নির্বাচনে অংশগ্রহণ করার ঘোষণা দেন।

এ ছাড়া নির্বাচনের মাঠে আছেন বঙ্গবন্ধু ফাউন্ডেশন কেন্দ্রীয় পরিষদের চেয়ারম্যান ড. এ কে আবদুল মোমেন, আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট মিসবাহ উদ্দিন সিরাজ। 

মিসবাহ উদ্দিন সিরাজ নগরীর আলীয়া মাদরাসা মাঠের জনসভায় আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনার সামনে প্রকাশ্যে নির্বাচনে অংশ গ্রহণের প্রত্যাশা জানিয়েছিলেন। সর্বশেষ ঈদুল আজহাতেও মিসবাহ উদ্দিন সিরাজকে সংসদে দেখতে চান এমন দাবিতে নগর জুড়ে ব্যানার-ফেস্টুন লাগিয়েছেন সমর্থকরা।

অন্যদিকে সাবেক অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী এম. সাইফুর রহমান সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যাওয়ার পর প্রার্থী সংকটে রয়েছে বিএনপি। তবে দলটির সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান শমসের মোবিন চৌধুরী, প্রাইভেটাইজেশন কমিশনের সাবেক চেয়ারম্যান ইনাম আহমদ চৌধুরী, বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের স্ত্রী ডা. জোবাইদা রহমান এবং দলের চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা খন্দকার আবদুল মুক্তাদিরের নাম বিভিন্ন সময়ে আলোচনায় এসেছে।
তাদের মধ্যে একমাত্র মোক্তাদির রাজনীতির মাঠে তৎপর রয়েছেন। এক সময় মুক্তাদিরের বাবা খন্দকার আবদুল মালিক এই আসনে বিএনপির সংসদ সদস্য ছিলেন।

অপরদিকে বর্তমান বিরোধী দল জাতীয় পার্টি (জাপা) থেকে এই আসনে প্রার্থী হতে পারেন দলটির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ।

সর্বশেষ সিলেট সফরে এসে নগরীর রেজিস্ট্রারি মাঠের জনসভায় এরশাদ নিজে এ আসন থেকে নির্বাচন করবেন বলে ঘোষণা দেন। এ সময় তিনি সিলেটকে নিজের দ্বিতীয় বাড়ি হিসবেও অভিহিত করেন।

বিগত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে (দশম) বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। এর আগে নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সাবেক অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী সাইফুর রহমানকে পরাজিত করেছিলেন আবুল মাল আবদুল মুহিত।

এই আসনটিকে ঘিরে সাধারণ মানুষের মধ্যেও কৌতূহলের শেষ নেই। কারণ সেই ‘মিথ’। এই আসন থেকে যে দলের সংসদ নির্বাচিত হন, সেই দলই সরকারও গঠন করে। তাই সবাই থাকিয়ে আছেন নৌকা ও ধানের শিষ থেকে কে পাচ্ছেন টিকিট।

জেবি/এসএস

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়