• ঢাকা সোমবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ৯ আশ্বিন ১৪২৫

ভালবাসার আবির লেগেছে পোশাকে

মিথুন চৌধুরী
|  ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৭, ১৫:৩০ | আপডেট : ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৭, ১৬:৫৮
ভালোবাসা শব্দটি খুব সহজেই সকলের সহজাত প্রবৃত্তির সঙ্গে মিশে যায়। কেননা জন্মের পর থেকেই মানুষের বেড়ে উঠা এই ভালোবাসাকে কেন্দ্র করেই। আর তাই ভালোবাসার দিনটিকে নিয়ে সবার ভাবনাটাও থাকে বিশেষ। তাই এ বিশেষ দিনটিকে ঘিরে দেশীয় ফ্যাশন হাউসগুলো তৈরি করেছে নানা রঙের পোশাক।

সময়ের সঙ্গে মিল রেখে ভালবাসা ও পোশাকে নতুনত্ব যেন একসূত্রে গাঁথা। তরুণ-তরুণী থেকে শুরু করে শিশু-বৃদ্ধ কেউই এই সার্বজনীন উৎসব থেকে বঞ্চিত হতে চায় না। এজন্য পছন্দের পোশাকটি কিনতে শুরু হয়েছে ছোটাছুটি। তবে উঠতি বয়সের ক্রেতাদের প্রতি টার্গেট বিক্রেতাদের। তাই বেশ কিছু পোশাকে চলছে ছাড়ের মহাউৎসব।

সোমবার রাজধানীর মিরপুর, ধানমণ্ডি, নিউমার্কেট, গাউসিয়া, চাঁদনি চক, বসুন্ধরা সিটি, আজিজ সুপার মার্কেটে ব্যাপক ক্রেতা লক্ষ্য করা গেছে।

বিক্রেতারা বলছেন, গেলো কয়েকদিনে যা বিক্রি হয়েছে, তার বেশির ভাগ পোশাকই ভালবাসা ও বসন্ত দিবসকে ঘিরে। এজন্য সবাই বাসন্তী ও লাল রঙের পোশাকের কালেকশন বাড়িয়েছে। ক্রেতার ভিড় আরো বাড়বে বলে আশা করছেন দোকানিরা।

প্রতি বছরই বসন্তের রঙিন পোশাকের পসরা সাজায় দেশীয় ফ্যাশন হাউসগুলো। এ বছরও নানা রং, ডিজাইন আর মোটিভ নিয়ে বৈচিত্র্যময় পোশাকের আয়োজন করেছে তারা।

এর মধ্যে আড়ং, অঞ্জনস, রং, বিবিয়ানা, কে-ক্রাফট, বাংলার মেলা, দেশাল ও নিপুণ, সৃষ্টিসহ বেশির ভাগ দেশীয় ফ্যাশন হাউজগুলোতে ভালবাসা দিবসে এসেছে নতুন নতুন বেশ কয়েকটি ডিজাইনের পোশাক।

বসুন্ধরা সিটিতে বসন্তের কেনাকাটা করতে এসেছেন ইডেন কলেজের মুনতাহিনা লামিয়া। তিনি বলেন, স্বামীকে নিয়ে এবারই প্রথম ভালবাসা দিবস পালন করবো। উৎসবে দু’জনে ম্যাচিং করে পোশাক পরতে চান। এজন্য তিনি কেনাকাটা করতে এসেছেন। লাল রঙের শাড়ি কিনেছেন। আর সঙ্গে লাল রংয়ের পাঞ্জাবী।

সরেজমিন গিয়ে দেখা গেছে, শাড়ি কাপড়ের দোকানে দোকানে ভালবাসার রং লেগেছে। ছাড়ও দিচ্ছে ফ্যাশন হাউসগুলো। আর তাই এখন দেদারসে বিক্রি হচ্ছে গেরুয়া, লাল রঙের শাড়ি। নতুন নতুন সংমিশ্রণের শাড়িগুলোর প্রতি নারীদের আকর্ষণ বেশি। বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, কটনের ওপর প্রিন্টের শাড়ি বিক্রি হচ্ছে ১৫০০ থেকে ২৫০০ টাকার মধ্যে। আর স্কিন প্রিন্ট ও এমব্রয়ডারির হাফ সিল্ক শাড়িগুলো পাওয়া যাবে ৩৫০০ থেকে ৫০০০ টাকার মধ্যে। লালের ওপর কারুকাজ করা কটনের সালোয়ার-কামিজগুলো পাওয়া যাবে ২৫০০ থেকে ৩০০০ টাকার মধ্যে। এমব্রয়ডারি ও স্কিন প্রিন্টের কটন সালোয়ার-কামিজ ৩০০০ থেকে ৩৫০০ টাকার মধ্যে। এছাড়া সুতি থ্রি-পিস ১২০০ থেকে ১৬০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

সোমবারের ভালবাসা দিবসকে কেন্দ্র করে মেয়ের জন্য নতুন পোশাক কিনছেন কাবেরী মৈত্রেয়। কথা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আসলে মায়ের কাছে পৃথিবীতে সন্তানের ভালবাসার কোন সংজ্ঞা নেই। তাই মেয়ে তাথৈকে নিয়ে ভালবাসা দিবসের দিন ঘুরে বেড়াবো ওর পছন্দ মতো। শীত শেষ, এখন সুতি জাতীয় কাপড় কিনতে চাই। এজন্য বিভিন্ন দোকান ঘুরে ফিরে দেখছি।

এবার সুতি কাপড়ে স্ক্রিন প্রিন্ট, ব্লক, সিকোয়েন্সের মিশেলে তৈরি হয়েছে শিশুদের পোশাকগুলো। উজ্জ্বল রং প্রাধান্য পেয়েছে প্রতিটি পোশাকে। মেয়ে শিশুদের জন্য রয়েছে শাড়ি, ফতুয়া ও সালোয়ার-কামিজ। নানা প্যাটার্নের কামিজে প্রাধান্য পেয়েছে লাল ও কমলা রং। মেয়েদের পোশাকের সঙ্গে মানানসই অলংকারও পাওয়া যাচ্ছে।

বিক্রেতারা জানান, ফ্যাশন হাউসগুলোয় শিশুদের পোশাকের দাম পড়বে ৫০০ থেকে এক হাজার ১৫০০ টাকার মধ্যে। এছাড়া রাজধানীর নিউমার্কেট, গাউসিয়াসহ অন্যান্য শপিংমলে শিশুদের জন্য সব ধরনের পোশাক ৩০০ থেকে দু’হাজার টাকার মধ্যে পাওয়া যাবে।

অন্যদিকে ছেলেদের ভালবাসা দিবসের পোশাকের মধ্যে রয়েছে ফতুয়া, পাঞ্জাবি, শার্ট ও টি-শার্ট। মার্কেটগুলোতে ছেলেদের কটন লং পাঞ্জাবি ১২০০ থেকে ১৫০০ এবং এন্ডি লং পাঞ্জাবি ২০০০ থেকে ২৫০০ টাকার মধ্যে পাওয়া যাচ্ছে।

এদিকে দেশি দশ ও শাহবাগের আজিজ সুপার মার্কেটে ছেলেদের পোশাকের জন্য বিখ্যাত। এখানেও পাঞ্জাবি আর টি-শার্টে ভালবাসার ছোঁয়া পড়েছে। এছাড়া তুলনামূলক কম দামের মধ্যে সালোয়ার-কামিজ বা সিঙ্গেল কামিজ পাওয়া যাচ্ছে। লাল ও গেরুয়া বা হালকা লাল এর রঙিন সালোয়ার-কামিজগুলোর দাম পড়বে ১২শ’ থেকে ২ হাজার ২৫০ টাকার মধ্যে। আর শুধু কামিজ কিনতে চাইলে গুনতে হবে ৮শ’থেকে ১ হাজার টাকা।

রঙের আউট লেট ম্যানেজার জাহাঙ্গীর আলম হিরা জানান, ঐতিহ্যের সঙ্গে রঙ ফ্যাশন হাউজ সব সময় বাঙালি সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য প্রাধান্য দেয়া হয়। দিবসগুলোকে নিয়ে থাকে বিশেষ আয়োজন। ফ্যাশন সচেতনরাও এগুলো লুফে নিচ্ছেন। 

এমসি/এফএস

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়