• ঢাকা শনিবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ৭ আশ্বিন ১৪২৫

অন্দরেও লাগুক উষ্ণতার ছোঁয়া

আরটিভি অনলােইন ডেস্ক
|  ২৮ জানুয়ারি ২০১৭, ১৩:৫৮ | আপডেট : ২৯ জানুয়ারি ২০১৭, ১০:০৭
শীতকাল জুড়েই যেন থাকে উৎসবের আমেজ।পিঠাপুলিতো বটেই, সেই সঙ্গে কত কি আনন্দ আয়োজন। অনেকে আবার শীতল বৈরি আবহাওয়ার উপর কিছুটা বিরক্ত হন। আসলে শীতের মজাটা ওখানেই।

শীতের হাড় কাঁপানো ঠান্ডা কিংবা হালকা হিমেল বাতাস দুটিই কিন্তু ঋতুবৈচিত্র্যের আমেজে ভরপুর।তবে ঘরের ভিতরেও আনুষঙ্গিক বাড়তি কিছু সতর্কতা খুব প্রয়োজন এই শীতল মৌসুমে। আমরা বরাবরই গ্রীষ্মকালে ঘরের সাজে হালকা রঙের প্রাধান্য দিয়ে থাকি। কিন্তু শীতের সাজ হবে একটু ভিন্ন আঙ্গিকে। ঘরে থাকবে গাঢ় আর উজ্জ্বল রঙের সমারোহ। এ সময়ে হালকা বা ম্লান রঙের বদলে লাল, নীল, হলুদ, কমলার মতো গাঢ় রঙ ছড়িয়ে দিতে পারেন আপনার ঘরের চার দেয়ালে। এর ফলে শীতের হিমেল হাওয়া খুব একটা জড়সড় করতে পারবে না আপনার স্বাভাবিক জীবনযাত্রাকে। আবার গাঢ় এবং উজ্জ্বল রঙে ঘরের প্রতিটি কোণ থাকবে বেশ উষ্ণ এবং আরামদায়ক। তবে যাদের অন্দর আগে থেকেই সাদা রঙে রাঙানো, তাদের চিন্তার কিছু নেই। দেয়ালের সাদা রঙ পরিবর্তন বা নতুন করে কিছু করতে না চাইলে ব্যবহার করতে পারেন ওয়ালপেপার। বর্তমানে বাজারে নানান ধরনের ডিজাইন আর নকশায় ওয়ালপেপার পাওয়া যাচ্ছে। সঠিকভাবে দেয়ালের জন্য ওয়ালপেপার নির্বাচন করে আপনিও বাড়িয়ে তুলোতে পারেন ঘরের অভ্যন্তরীণ সৌন্দর্য।

দেয়ালের রঙের মতোই পর্দা, বিছানার চাদর, বালিশের কাভার বা কুশন কাভার সবকিছু গাঢ় ফেব্রিকের করে নিতে পারেন। আর শীতকালে পর্দার আবশ্যকতা না বললেই নয়। শীতকালে  পর্দা যেমন বাইরের ঠান্ডা বাতাস ঢুকতে দেয় না, তেমনি ঘরকে গরম রাখতেও সহায়তা করে। তাই শীতের সময় ঘরের উষ্ণতা বজায় রাখতে নির্বাচন করতে হবে ভারী, ঘন বা জমকালো নকশার পর্দা। আর এ সময় জানালায় কাপড়ের পর্দা ব্যবহার করতে চাইলে ভারী মোটা কাপড়, এমনকি মখমল কাপড়ও ব্যবহার করা যায়। এতে করে ঘরের সাজে নান্দনিকতার ছোঁয়া যেমন থাকবে তেমনি আরামদায়ক উষ্ণতাও বজায় থাকবে পুরোপুরি। আর মেঝে ভারী কার্পেট বা শতরঞ্জি দিয়ে ঢাকা থাকলে এমনিতেই তাপমাত্রার ভারসাম্য বজায় থাকবে।মেঝের হিম হিম ঠান্ডা থেকে রক্ষায় খুব প্রয়োজন এসময় কার্পেট বা শতরঞ্জি। শোবার ঘরে খাটের পাশেও রাখতে পারেন ভারী কার্পেট বা শতরঞ্জি।শিশুদের ঘরে মেঝেজুড়েই ব্যবহার করতে পারেন শতরঞ্জি। আবার খাটের পাশে, পড়ার টেবিলের পাশে বা দরজায় আলাদা-আলাদা শতরঞ্জি ব্যবহার করতে পারেন। ঘরের আসবাবের আকৃতি এবং রঙ অনুসারে কার্পেট বা শতরঞ্জির ব্যবহার যেন আকর্ষণীয় হয়ে ফুটে ওঠে সে বিষয়টিও ভেবে দেখতে পারেন।

তবে শীতকালের ঠান্ডা বাতাসের পাশাপাশি সবচেয়ে উটকো ঝামেলা হলো মশার আধিপত্য। ঠান্ডা বাড়ার সাথে সাথে যেন মশার উপদ্রব বেড়ে যায় বহুগুণে। আর এইসব মশা বিভিন্ন রোগের জীবাণু বয়ে নিয়ে বেড়ায় পাশাপাশি মশার কামড়ে অনেকের এলার্জির মতো সমস্যা হয়। বাজারে মশার প্রতিষেধক অনেক স্প্রে আর ওষুধ রয়েছে। কিন্তু প্রাকৃতিক এক সহজ উপায়েও মশার উপদ্রব থেকে রেহাই পাওয়া সম্ভব। আর তা হলো ধোঁয়া। ঘরে ধোঁয়া থাকলে অনেকের সমস্যা হয় বা চোখ জ্বালাপোড়া করে। তবে ধূপের গন্ধ বা ধোঁয়া কিন্তু অনেক বেশি সহনশীল। নানান ধরনের সুগন্ধিসহ মশা মারার স্প্রেও ব্যবহার করে নিতে পারেন।

শীতে ঘর গরম রাখতে রুম হিটার ব্যবহার করা হয়। কিন্তু হিটার চালানোর ফলে ঘর আরো বেশি শুষ্ক হয়ে যায়। এ শুষ্কতা দূর করতে এবং ঘরের আর্দ্রতা ফিরিয়ে দিতে ইনডোর প্ল্যান্টসই একমাত্র ভরসা। এক্ষেত্রে ইনডোর প্ল্যান্টসেরও নিতে হবে  বাড়তি কিছু যত্নে। আপনি কোনো গাছে গরমের সময় যতটা পানি দেন শীতেও যদি তাই দেন তবে অনেক গাছই মারা যেতে পারে। পানি কম লাগে বলেই যে শীতের সময় গাছের আলোও কম লাগবে এমনটা কিন্তু নয়। বরং এই সময় টিকে থাকার জন্য গাছের পর্যাপ্ত পরিমাণে আলোর প্রয়োজন হয়। আর শীতের সময় যেহেতু বাইরে আলোর পরিমাণটা কিছুটা কমে যায় তাই এ সময় গাছের সঠিক যত্ন নিতে চাইলে নিশ্চিত করুন যে, আপনার গাছ পর্যাপ্ত পরিমাণে আলো পাচ্ছে।

আপনার বাসার গাছগুলো যদি কোনো কাচের জানালার পাশে রাখা থাকে তবে জানালার কাচ ভেতর ও বাহির দুদিক থেকেই পরিষ্কার করুন। যাতে করে আপনার গাছ প্রচুর পরিমাণে আলো পায়। চাইলে ঘর থেকে বের করে গাছ বারান্দায়ও রাখতে পারেন যাতে তাতে বেশি করে রোদ লাগে। এই ছোট ছোট সবুজের পাশাপাশি রঙিন তাজা ফুল শীতকালে যেন অন্দরসজ্জায় প্রাণ নিয়ে আসবে। যদি আপনি মনস্থির করে থাকেন আপনার গ্রহকে ফুলেল করে তুলবেন তবে চোখ জুড়ানো ফুলের খেলা আপনার গৃহে মুগ্ধতার আবেশ ছড়াবে।

আর অন্দরে নির্মল উষ্ণ পরিবেশের পাশাপাশি সবচেয়ে দরকারি কাজ হলো পরিচ্ছন্নতা। যতটুকু সাধ্যের মধ্যে থাকবে অন্দর পরিষ্কার রাখতে হবে। দৈনন্দিন পরিচর্যা আর প্রকৃতির নির্মল আলো বাতাস আমাদের এমনিতেই অন্দরের আভিজাত্য বাড়িয়ে তুলবে। আর ঠান্ডা হাওয়ায় ভরপুর শীত ঋতুর এই আমেজকে উপভোগ্য করে তোলার মাঝেই রয়েছে আনন্দ।

আরকে/এসজেড

 

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়