• ঢাকা সোমবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ৯ আশ্বিন ১৪২৫

রঙিন রঙে রাঙান ঘরের ছাদ

লাইফস্টাইল ডেস্ক, আরটিভি অনলাইন
|  ২২ নভেম্বর ২০১৬, ১৩:৪২ | আপডেট : ২২ নভেম্বর ২০১৬, ১৫:১১
অন্দরের প্রতিটি জিনিসই আপনার নখদর্পণে থাকে। তাহলে ঘরের ছাদ কেন বাদ থাকবে। সাদামাটা ছাদ তো সেই আদিকাল হতেই চলে আসছে। কিন্তু এখন আপনি চাইলেই, আধুনিক কৃত্রিম ছাদের বদৌলতে বদলে দিতে পারেন আপনার অন্দরের সৌন্দর্য।  মূলত মূল ছাদের পর সৌন্দর্য বৃদ্ধির জন্য আরো একটি অতিরিক্ত ছাদকেই ফলস সিলিং বা কৃত্রিম ছাদ বলা হয়।

ফলস সিলিঙের মূল উদ্দেশ্য সৌন্দর্য বৃদ্ধি। আজকাল বাড়িতে  তো বটেই অফিস, ডিসপ্লে সেন্টার, শোরুম, রেস্টুরেন্ট বা ইনডোর স্টেডিয়ামেও ফলস সিলিঙের জনপ্রিয়তা ব্যাপক। এছাড়াও ঘরকে কৃত্রিম আলোয় আলোকিত এবং উজ্জ্বল করার একটি অন্যতম উপায় হলো এই ফলস সিলিং।  অনেকে আবার  ত্রুটিপূর্ণ  ছাদ ঢাকার জন্যও ফলস সিলিং দিয়ে থাকেন।

যদি ঘর তাপ ও শব্দ নিরোধক করতে চান, তাহলে ফলস সিলিঙে ব্যবহার করতে হবে মিনারেল বোর্ড। মিনারেল বোর্ড তাপ ও শব্দ- দুটোই শোষণ করে। যদিও মিনারেল বোর্ড ব্যবহার করলে সিলিং ফ্যান ব্যবহার করা যাবে না । আর সাধারণ ফলস সিলিঙে ব্যবহার করতে পারেন জিপসাম বোর্ড ।

ঘরের পর্দা ও ফার্নিচারের সঙ্গে মিলিয়ে ফলস সিলিঙের ডিজাইন করলে ভালো হয়। জিপসাম বোর্ডের মাঝে মাঝে এনামেল কালার করে সিলিঙের সৌন্দর্য বাড়াতে পারেন।

ঘরের সিলিঙের রঙের ক্ষেত্রে অবশ্যই গুরুত্ব দিতে হবে। মূল সিলিং থেকে ফলস সিলিঙের রং ভিন্ন হতে হবে। প্রয়োজন হলে একটি হালকা এবং অপরটি গাঢ় রঙে রাঙাতে হবে। তবে লক্ষ্য রাখতে হবে যেনো দু’টি সিলিং এক হয়ে মিশে না যায়।

সাধারণত ফ্লোর থেকে সিলিঙের উচ্চতা ৯ থেকে ১০ ফুট হয়। বাথরুমের মেঝে থেকে ফলস সিলিংয়ের উচ্চতা হয় সাত থেকে সাড়ে সাত ফুট। তবে অনেক সময় ডিজাইনের তারতম্যের কারণে এই মাপের কিছুটা হলেও পরিবর্তন হতে পারে।

এছাড়া ঘরের ছাদকে আরো একটু রাঙিয়ে তুলতে ব্যবহার করতে পারেন হিডেন লাইট, স্পট লাইট, টিউব লাইট বা ফলস লাইট ।

ঘরের কোন জায়গায় বেশি আলো পড়বে আর কোন জায়গায় কম আলো পড়বে তা সম্পূর্ণভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে পারেন ফলস সিলিঙের লাইটিংয়ের সাহায্যে। চাইলে কোনো নির্দিষ্ট জিনিসকে ফোকাস করে লাইটিংয়ের ব্যবস্থা করতে পারেন। যদি চান শুধু বসার ঘরের শোকেসটি অথবা খাবার ঘরের টেবিলটি থাকবে আলোকিত, তবে সে অনুযায়ী নকশা করে লাইট বসিয়ে নিন সিলিঙে।  ঘরের মেঝেতে যদি রিফ্লেক্টিং টাইলস থাকে তবে আলো-আঁধারির এই খেলা আরো জমে উঠবে।

 তবে এ ধরনের ছাদ ব্যবহারের আগে এর সাপোর্টিভ এলিমেন্ট মজবুত কি-না তা পরখ করে নিতে হবে। না হলে মারাত্মক দুর্ঘটনা ঘটতে পারে যে কোনো সময়।

বাথরুমের ফলস সিলিঙে সাধারণত কংক্রিট ঢালাই দিতে পারেন। এতে বাথরুমের মূল সিলিং থেকে ফলস সিলিঙের মধ্যে বেশ খানিকটা জায়গা পাওয়া যায়। এ জায়গাটুকু অনায়াসে ব্যবহার করতে পারেন স্টোরেজ হিসেবে। বাথরুমের ফলস সিলিঙে কাঠের দরজা ব্যবহার করাটাই ভালো। তবে, দরজাটা যেন খাঁজকাটা অর্থাৎ ভেন্টিলেটেড দরজা হয়।  আর যদি সম্ভব হয় তাহলে ফলস সিলিঙের ওপরের এই স্টোরেজে অ্যাডজাস্ট ফ্যান  ও একটি ছোট লাইটের ব্যবহার করতে পারেন। এতে করে জিনিসপত্র রাখতে ও বের করতে সুবিধা হবে।

ঘরের সৌন্দর্য বৃদ্ধির পাশাপাশি পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতার দিকে সার্বক্ষণিক খেয়াল রাখতে হবে। কারণ, দৃষ্টিনন্দন এই কৃত্রিম ছাদের সঙ্গে যদি ঝুলে থাকে বাড়তি কোনো পোকামাকড়ের ঘরবসতি তাহলে তা দেখাবে দৃষ্টিকটু।

আরকে /জেএইচ

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়