• ঢাকা শনিবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ৭ আশ্বিন ১৪২৫

হ্যালো... ভালো আছো তো?

আরটিভি অনলাইন লাইফস্টাইল ডেস্ক
|  ২১ নভেম্বর ২০১৬, ১২:৫৩ | আপডেট : ২১ নভেম্বর ২০১৬, ১৪:২৩
মডেল সিগ্ধার ছবি তুলেছেন মঞ্জুরুল আলম
ফোন রিসিভ করার সঙ্গে সঙ্গে আমরা বলি হ্যালো । কিন্তু জানেন কি  কেন ‘হ্যালো’ বা কিসের জন্য ‘হ্যালো ’। আর এই ‘হ্যালো’ টার প্রচলনই বা  কিভাবে হয়েছিল? তা তো আগে জানতে হবে, বুঝতে হবে।   

‘হ্যালো’ একটি মেয়ের নাম। কি অবাক হলেন, ভাবছেন ওই মেয়েটা কে?

মেয়েটা হচ্ছে মার্গারেট হ্যালো। টেলিফোনের আবিষ্কারক আলেকজেন্ডার গ্রাহাম বেলের গার্লফ্রেন্ড।

আপনি টেলিফোন আবিষ্কারকের নাম না জানলেও, এর ব্যবহারের সময় তার গার্লফ্রেন্ডের নাম কিন্তু ঠিকই ব্যবহার করছেন। এটাই হচ্ছে ভালবাসা! মানুষ হারিয়ে যাবে, কিন্তু তার ভালোবাসা টিকে থাকবে যুগের পর যুগ।

২১ নভেম্বর ২০১৬, বিশ্ব হ্যালো দিবস উদযাপনের ৪৪তম বছর। অসংখ্য বিশ্ব দিবসের ভিড়ে প্রতি বছর নীরবে পার হয়ে যায় এ দিবসটি।

ব্যস্ততা আর নাগরিক জীবনের যান্ত্রিকতায় ছোট ছোট সুখ আর আনন্দ যখন প্রায় নিঃশেষিত, ঠিক তখনই মন খুঁজে ফেরে আপনজনকে। একটু স্বস্তি আর একটু প্রশান্তির প্রবল আকাঙ্খায় কাছের মানুষগুলোকে নতুন করে কাছে পেতে ইচ্ছে করে। ছেলেবেলার বন্ধু, খুব প্রিয় কেউ কিংবা প্রিয় কাছের মানুষ অথবা প্রতিবেশী যেই হোক না কেন তাকে কাছে পেতে ইচ্ছে করে, বলতে সাধ হয় জীবনের জমে যাওয়া গল্পগুলো। মানুষের মাঝে যোগাযোগ বাড়িয়ে ভালোবাসার আদান-প্রদানের মধ্য দিয়ে স্থায়ী শান্তি আনাই  এ দিবসের মূল উদ্দেশ্য।

দীর্ঘদিনের যোগাযোগহীনতায় সম্পর্কগুলো যখন একেবারেই ফিকে হয়ে যায়, হারিয়ে যায়, মিলিয়ে যায়। স্মৃতির অ্যালবামে আটকা পড়ে। তখন কী কিছুই  করার নেই?  মূলত এমন হাহাকার থেকেই বিশ্ব হ্যালো দিবসের উৎপত্তি।

১৯৭৩ সালে ইসরাইল-মিশর যুদ্ধকালীন বিশ্ব হ্যালো দিবসের যাত্রা শুরু হয়। শুরুর দিকে এ দিবসে সংঘর্ষ এড়াতে পারস্পরিক ব্যক্তিগত যোগাযোগকে প্রাধান্য দিতে অনুরোধ করে নেতাদের কাছে বার্তা পৌঁছানো হতো। ব্রিয়ান ও এ. মিশেল এম সি ফোরমাকই এ দিবসটি পালনের মূল উদ্যোক্তা।

হাসান হাফিজুর রহমানের ‘স্মৃতি’ কবিতার মতো স্মৃতিকে ডেকে না পাবার কষ্ট আমরা পেতে চাই না। আর তাই তো স্মৃতিকে স্মৃতি না হতে দেয়ার আপ্রাণ চেষ্টা। ভালোবাসাকে চর্চা করে ভালোবাসার মানুষগুলোকে নিয়মিত যোগাযোগের বলয়ে রেখে প্রতিনিয়ত আমরা নিজেরা ভালো থাকতে পারি এবং অন্যকেও ভালো রাখতে পারি। ঠিক এ মুহূর্তে অনেক দিন দেখা হয় না, কথা হয় না এমন কাছের কাউকে হ্যালো বলতে দোষ কি?

প্রযুক্তির ব্যবহারে হাতের কাছেই আছে মোবাইল ফোন। এসএমএস দিয়ে মুহূর্তেই জানতে পারি, কেমন আছে দূরের প্রিয়জন। ছোট্ট একটা শব্দ ‘হ্যালো’ এক নিমেষেই দূর করে দিতে পারে পারস্পরিক সব মনোমালিন্য।

দেশের বাড়িতে রেখে আসা মা, বাবা কিংবা নানু ,দাদু ভালো আছে তো? বিদেশে ভাইটি কিংবা বোনটি? অফিস, সংসার, রাস্তার যানজট সবমিলিয়ে সময় হয় না একথা সত্য। আবার একথাও মিথ্যে নয় যে, চাইলেই সময় বের করা যায়। সবসময় সশরীরে যেতেই হবে এমন কোনো কথাও নেই।

একটা টেলিফোন কিংবা ছোট্ট একটা ই-মেইল করেই দীর্ঘদিন জমিয়ে রাখা ভালোবাসাকে একবার ঝালিয়ে নেয়া যায় খুব সহজেই। পারস্পরিক যোগাযোগের মধ্য দিয়ে আবেগ অনুভূতির আদান-প্রদানে ব্যক্তিগত শান্তি নিশ্চিত হবে। পর্যায়ক্রমে নিশ্চিত হবে সমাজ, দেশ এবং বিশ্বের শান্তি। আর এভাবেই স্বার্থক হবে বিশ্ব হ্যালো দিবসের উদ্দেশ্য।

আরকে/এমকে

 

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়