• ঢাকা শুক্রবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ৬ আশ্বিন ১৪২৫

হাত বাড়ালেই শ্বেত-শুভ্র হিমালয়!

জুলহাস কবীর
|  ১৩ নভেম্বর ২০১৬, ০৯:১০ | আপডেট : ১৪ নভেম্বর ২০১৬, ১২:২৭
দেশের মাটিতে বসেই দেখা মেলে পৃথিবীর সবচেয়ে বড় পর্বতমালা হিমালয়ের! সবচেয়ে উত্তরের জেলা পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া থেকে বাংলাবান্ধা যেতে চোখের সামনেই ভেসে ওঠে সাদা রঙয়ের পৃথিবীর সর্বোচ্চ এ পর্বতশৃঙ্গ। বিশেষ করে শীতকালে প্রায় প্রতিদিন হিমালয় দেখার সুযোগ ঘটে পর্যটকদের।

হাত বাড়ালেই শ্বেত-শুভ্র হিমালয়! আর একটু এগুলেই হয়তো ছুঁয়ে ফেলা যাবে, চোখ জুড়ানো মন ভোলানো বরফ ঢাকা পর্বতটাকে। হিমালয় মানে এক বিস্ময়কর রহস্য, ভয়ঙ্কর সৌন্দর্য! বিভেদের কাঁটাতার পেরিয়ে যাদের পর্বতটিকে দেখা সৌভাগ্য হয় না, তাদের জন্য ‘রথ দেখা কলা বেচা’র সুবর্ণ সুযোগ এখানে।

এখন চলছে হেমন্তকাল। অথচ প্রকৃতিতে যেন শীতের আগমনী বার্তা। শান্ত ও স্বচ্ছ আকাশে এমন সময়ই পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়াসহ বিভিন্ন স্থান থেকে হিমালয় পাহাড় ও কাঞ্চনজঙ্ঘার দুর্লভ দৃশ্যের দেখা মিলে। মহানন্দা নদীর পাড়ে গিয়ে দাঁড়ালে দেখা যায় সূর্যের বর্ণিল আলোকচ্ছ্বটায় উদ্ভাসিত এভারেস্ট শৃঙ্গ।

তাই বিকেল হলেই ডাকবাংলো এবং বাংলাদেশ-ভারত সীমানা ঘেঁষে চলা মহানন্দা নদীর তীরে বসে প্রকৃতিপ্রেমীদের আড্ডা। সন্ধ্যা নামার আগে ভিন্ন রূপের মহানন্দা হৃদয় কাড়ে পর্যটকদের। হিমালয় থেকে বয়ে আসা ঠান্ডা বাতাস দোলা দিয়ে যায় মনে।

বাংলার বুক চিরে যে সূর্য ওঠে ভোরে, সন্ধ্যায় আবার তা ডুব দেয় প্রতিবেশী দেশের হিমালয়ের কাঞ্চনজঙ্ঘার আড়ালে। মহানন্দার ওপারের চা বাগানে যখন সুনসান নীরবতা, এপারে তখনো গানে গানে মুখরিত তেঁতুলিয়া। মহানন্দার পাড় ধরে কাঁটাতারে জ্বলে ওঠা বাতির মায়াবী আলো মন কাড়ে পর্যটকদের।  

২০১৬ সালকে ‘পর্যটনের বছর’ ঘোষণা যে কেবল কথার মধ্যেই সীমাবদ্ধ, তা বোঝা যায় তেঁতুলিয়া ও বাংলাবান্ধা এসে। পর্যটক আকর্ষণে আজও নেয়া হয়নি তেমন কোনো উদ্যোগ। তারপরও নিজ উদ্যোগে এসে ভিড় করছেন পর্যটকরা।

ঢাকা থেকে পঞ্চগড়ের দূরত্ব ৪৫৭ কিলোমিটার। পঞ্চগড় থেকে তেঁতুলিয়ার দূরত্ব ৪০ কিলোমিটার। আর তেঁতুলিয়া থেকে বাংলাবান্ধা ১৭ কিলোমিটার। পঞ্চগড় থেকে চট্টগ্রামের দূরত্ব ৮০০ কিলোমিটার।  

এছাড়া বাংলাবান্ধা স্থলবন্দর সীমান্ত থেকে ভারতের শিলিগুড়ির দূরত্ব ৮ কিলোমিটার, নেপাল ৬১ কিলোমিটার, ভুটান ৬৪ কিলোমিটার, চীন ২০০ কিলোমিটার, দার্জিলিং ৫৪ কিলোমিটার, এভারেস্ট চূড়া ৭৫ কিলোমিটার এবং কাঞ্চনজঙ্ঘা মাত্র ১০ কিলোমিটার।

এস

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়