• ঢাকা মঙ্গলবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ১০ আশ্বিন ১৪২৫

বর্ষণমুখর পরিবেশেও সতেজ অন্দর

আরটিভি অনলাইন ডেস্ক
|  ২৭ অক্টোবর ২০১৬, ১১:৫৪ | আপডেট : ২৭ অক্টোবর ২০১৬, ১২:১৯
সূর্যের প্রচণ্ড খরতাপ, যেন জাদুর ছোঁয়ায় ম্লান করে দেয় এক পসলা বৃষ্টি। আর বৃষ্টির দিনের  রূপ শুধু যেন আকাশ, বাতাস আর প্রকৃতি ঘিরেই সীমিত থাকে না, তার স্পর্শ ছুঁয়ে যায় মানবমনের গভীরে। তবে বৃষ্টির দিনে ,বাইরের ঝক্কি ঝামেলার কথা নতুন করে বলার কিছু নেই। কিন্তু সত্যি কথা কী এ সময়ে ঘরে বসে বৃষ্টি দেখাটা বেশিরভাগ সময়ই উপভোগ্য হয়ে উঠে। আবার অনেক ভোজন-রসিক এই সময় খাদ্যের তালিকা বানাতে বসেন আর কাব্যপ্রেমীরা চিন্তায় মগ্ন থাকেন নতুন কোনো পঙক্তি চয়নে। প্রকৃতির এই নান্দনিক ঝরনাধারা মানবজীবনে অসামান্য প্রভাব ফেলে। আর এই প্রভাবের খানিকটা কিন্তু অন্দরের ভারসাম্যেও তারতম্য তৈরি করে।

বর্ষায় গুমোট আবহাওয়ায় সব যেন কেমন আর্দ্র হয়ে ওঠে। পানি জমে কিংবা পানিতে ভিজে যেখানে সেখানে জীবাণুর সংক্রমণ ঘটে। সবচেয়ে বড় কথা হলো পোকামাকড়ের উপদ্রবও হয় খুব বেশি। বর্ষায় এসব থেকে মুক্তি পেতে চাই একটু বাড়তি সতর্কতা। বর্ষার রিনিঝিনি শব্দ উপভোগ করার জন্য তাই মনোযোগ দিতে হবে অন্দর সুরক্ষায়। এক্ষেত্রে সবার আগে লক্ষ রাখতে হবে ঘরে ঠিকমতো আলো-বাতাস প্রবেশ করছে কিনা।

ঘন বর্ষণ হোক কিংবা হালকা, অন্দরের প্রায় সব জায়গায় কিন্তু গুমোট একটা ভাব হয়ে যায়। মাঝে মাঝে একধরনের বাজে গন্ধেরও উপদ্রব হয়। তারচেয়ে বড় সমস্যা অনেক স্থানেই ফাঙ্গাস বা ছত্রাকের সৃষ্টি হয়। যাদের একটু পুরনো বাসা তাদের তো এই সমস্যা আছেই, কিন্তু যাদের নতুন বাসা তারাও এই সমস্যার হাত থেকে রক্ষা পায় না।

শুধু আসবাব বা সাধারণ জিনিসপত্রেই নয়, বর্ষায় চাল, ডাল ও আটাতেও কিন্তু পোকার উপদ্রব দেখা দেয়। এক্ষেত্রে এইসব আনাজপাতির মধ্যে কয়েকটা শুকনা নিমপাতা রেখে দিলে পোকার উপদ্রব অনেকটা কমে যাবে। এছাড়া মশা-মাছির উপদ্রব কমাতে কয়েকটা কর্পূর পানিতে ভিজিয়ে ঘরের কোণে রেখে দিন। না হলে, ব্যবহৃত চাপাতা ভালো করে শুকিয়ে ধূপের মতো ব্যবহার করলেও উপকার পাওয়া যাবে। আবার নিমপাতাও খুব কার্যকরী এবং প্রয়োজনীয় বস্তু। বর্ষায় পোকামাকড়ের হাত থেকে রক্ষায় এর বিকল্প নেই। আর প্রতিদিন ঘর মোছার সময় ক্লিনার বা ফিনাইল ব্যবহার করা খুবই জরুরি। এতে ঘরের মেঝে জীবাণুমুক্ত থাকবে।

আমাদের সবারই বাসায় কমবেশি কাঠ বা প্রসেসড উডের তৈরি আসবাব থাকে। আর এই ধরনের আসবাবে ফাঙ্গাস বা ছত্রাক আক্রমণের সম্ভাবনা থাকে সবচেয়ে বেশি। তবে আসবাবে ছত্রাক জমে গেলে দূর করার জন্য আছে একটি বিশেষ উপায়। চাপাতা জ্বাল দিয়ে কড়া লিকার বানিয়ে ঠাণ্ডা করে নিন। এরপর তাতে মেশান অল্প একটু ভিনেগার। নরম একটি কাপড় এই মিশ্রণে ডুবিয়ে ভালো করে চিপে নিন। এবং সেটা দিয়ে আক্রান্ত স্থান পরিষ্কার করে নিন। এতে করে ছত্রাক থেকে কিছুটা হলেও পরিত্রাণ মিলবে। যদি ফাঙ্গাসের পরিমাণ বেশি হয়, সেই সাথে পোকার প্রকোপ দেখা দেয়, তবে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেয়া আবশ্যক এবং পরামর্শ অনুযায়ী কীটনাশক ব্যবহার করা খুবই জরুরি।

বর্ষার সময় বইপ্রেমীদের জন্য একটু বেশি সমস্যা হয়। যাদের সংগ্রহে অনেক বই আছে, তাদের এ সময় কিছুটা হলেও ঝামেলা পোহাতে হয়। সাধারণত যেসব বই পুরনো বা একটু কম নাড়াচাড়া হয়, সেগুলো এই মৌসুমে স্যাঁতসেঁতে হয়ে পড়ে। তাই, বাসার স্যাঁতসেঁতে ও ভেজা জায়গায় কখনোই বই রাখা উচিত নয়। পর্যাপ্ত আলো-বাতাস রয়েছে, এমন স্থানেই বই রাখতে হবে। পোকামাকড়ের উপদ্রব যাতে না হয় সেজন্য বইয়ের ভেতর ন্যাপথলিন রাখা ভালো। আর বইয়ের তাকে শুকনো নিমপাতাও রাখতে পারেন। আর কোনো বই যদি পোকা বা ছত্রাকের আক্রমণের শিকার হয়, তবে সাথে সাথে তা পরিষ্কার করে কড়া রোদে দিতে হবে। জামা-কাপড়ের স্যাঁতসেঁতে ভাব নিমিষেই দূর করতে আলমারি কিংবা ওয়ারড্রবে একটু বেশি পরিমাণে ন্যাপথলিন রেখে দিন। শুধু তাই নয়, ন্যাপথলিন কিন্তু বাথরুমের বেসিনের ছিদ্রেও রাখতে পারেন। এতে করে ন্যাপথলিনের গন্ধে সহজে কোনো পোকামাকড় আসতে পারবে না। আর যেসব জায়গায় প্রতিনিয়ত পিঁপড়া বা পোকামাকড় আক্রমণ করে, সেখানে রাতে ঘুমাবার আগে ব্লিচিং পাউডার ছড়িয়ে রাখা ভালো। সকালে হালকা গরম পানিতে ফিনাইল বা ক্লিনার দিয়ে মুছে ফেললে অনেক ভালো উপকার পাওয়া যাবে।

ঘরে ইনডোর প্লান্টস থাকলে বৃষ্টির পানি জমা হলে পানি ঝরিয়ে নিন। জমে থাকা পানিতে গাছের গোরা পচে যাবে আর পোকার জন্ম হবে। তাই ইনডোর প্ল্যান্টগুলো রাখতে হবে পরম যত্নে। ঘরের ভেতরের ভেজা ভাব দূর করার জন্য রুম ফ্রেশনার স্প্রে করুন। তবে সবচেয়ে ভালো প্রাকৃতিক ফ্রেশনার হলো ফুল। হালকা ঘ্রাণযুক্ত ফুল ঘরে রাখা যেতে পারে। তাতে ঘর থাকবে অনেক সতেজ।

 এছাড়া বাজারে পাওয়া যায় নানান ধরনের সুগন্ধিযুক্ত মোম। হালকা ফুলের সুবাস কিংবা মৃদু সুগন্ধিযুক্ত মোম কিন্তু বর্ষায় অন্দরে ভিন্ন আমেজেরও সৃষ্টি করে। আর একটা কথা সবসময় মনে রাখা ভালো, সবুজ গাছ আর প্রাকৃতিক আলো-বাতাস ঘরকে সর্বদাই সতেজ আর প্রাণবন্ত রাখতে সাহায্য করে।

আসলে বর্ষার সৌন্দর্যের উপমা কোনোভাবেই বিশ্লেষণ করা সম্ভব নয়। অন্দরের এই অল্পবিস্তর পরিচর্চায় যদি প্রকৃতির এই অনবদ্য সৌন্দর্য উপভোগ্য হয়ে ওঠে, তবে এরচেয়ে বড় প্রাপ্তি আর কী হতে পারে! বাইরের হাজারো ঝামেলা, রাস্তাঘাটের কাদা-পানি অতিক্রম করে এসে যদি অন্দরে বসে বর্ষার আমেজ উপভোগ করা যায়, তবে সেটাই হবে আপনার জন্য শ্রেষ্ঠ সময়।

আরকে/এমকে

 

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়