• ঢাকা শুক্রবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ৬ আশ্বিন ১৪২৫

ট্র্যাফিক জ্যামে সেরে নিন প্রয়োজনীয় কাজ

কণিকা মণ্ডল
|  ০৭ নভেম্বর ২০১৭, ১১:৪৭ | আপডেট : ০৭ নভেম্বর ২০১৭, ১৪:২২
যত দিন যাচ্ছে ঢাকা শহরে জীবনযাপন করা অনেক বেশি কঠিন হয়ে পড়েছে। দিনের পর দিন ট্র্যাফিক জ্যামটা এত বেশি বেড়ে যাচ্ছে যা যন্ত্রণার চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছে গেছে। এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় যেতে গেলে ঘণ্টার পর ঘণ্টা জ্যামে আটকে থাকতে হয়। গাড়ির ভেতর বসে মনে হয় আজ বুঝি সারাদিন এখানেই থাকতে হবে। অফিসে জরুরি মিটিং করতে হবে, মাথায় টেনশন নিয়ে খুব সকালে বাসা থেকে তড়িঘড়ি করে রওনা দিয়েও নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে অফিসে পৌঁছানো সম্ভব হয় না।

এই সমস্যা কিন্তু আপনার একার নয় এটা সকলেরই সমস্যা। সমস্যা থাকবেই তাই বলে তো আর জীবন থেমে থাকবে না। সমস্যা নিয়ে মাথা নষ্ট না করে নিজেকেই উদ্যোগ নিতে হবে সমস্যা সমাধানের জন্য। আর জ্যামের জন্য কোনোভাবেই সময়ের অপচয় করা যাবে না। দিনের সবটুকু সময়কে সুষ্ঠুভাবে কাজে লাগাতে হবে। মনে রাখতে হবে, যে সময় আমরা হারিয়ে ফেলব সেটা আর কখনো ফিরে পাওয়া যাবে না। তাই জ্যামে আটকে থাকা সময়কে কাজে লাগিয়ে আপনি দিনের কাজগুলো ঠিকঠাক মতো শেষ করতে পারবেন।

• সকালে বাসা থেকে বের হয়ে যদি কখনো জ্যামে আটকে যান তাহলে মাথা গরম করবেন না। কারণ সকাল সকাল মেজাজ খারাপ হলে সারাদিন কাজে মন বসতে চায় না। আপনার যদি নিজের গাড়ি থাকে তাহলে কখনো ট্রাফিক আইন অমান্য করা উচিত হবে না। কারণ, একটু সময় বাঁচাতে গিয়ে দেখা যাবে এর থেকে অনেক বেশি বিপদ এসে গেছে, জ্যাম না ছাড়া পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। এই সময়টাতে বই কিন্তু হতে পারে আপনার সবচে বড় সঙ্গী।

• যদি আপনার কোনো জরুরি কাজ কিংবা অফিসে অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ মিটিং অথবা বাচ্চার ক্লাস পরীক্ষা থাকে কিংবা পার্টিতে অ্যাটেন্ড করতে হবে, সেক্ষেত্রে সময় হাতে নিয়ে বের হতে হবে। তাহলে জ্যামে কিছুটা সময় আটকে গেলেও নির্দিষ্ট সময়ের আগে পৌঁছাতে পারবেন।

• ট্র্যাফিক জ্যামে আটকে আছেন। আপনি হয়তোবা কোনো মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানির বড় কর্মকর্তা। অফিসে বিদেশি ক্লায়েন্টের সঙ্গে জরুরি মিটিং করতে হবে। নির্দিষ্ট টাইম ঠিক করা আছে। বড় ধরনের চুক্তি স্বাক্ষর করতে হবে। মনে মনে ভাবছেন বিদেশি ক্লায়েন্ট হয়তোবা সময়মতো না গেলে চুক্তিটা নাও হতে পারে। কিন্তু কোনোভাবেই জ্যামের জন্য অফিসে পৌঁছাতে পারছেন না। সেক্ষেত্রে একটা কাজ করলে কিছুটা হলেও সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়া যেতে পারে। তখন ক্লায়েন্টের কাছে ফোন করে আপনার সমস্যার কথাটা খুলে বলুন। এরপর দিনের জরুরি ফোনকলগুলো সেরে ঠাণ্ডা মাথায় ইমেইলগুলো করে নিন আর অফিসের কোনো সহকর্মীর কাছ থেকে কাজের আপডেট নিয়ে জ্যামের মধ্যে গাড়িতে বসে কাজের কিছুটা হলেও করে রাখুন। এছাড়া যদি কোনো পেন্ডিং কাজ থাকে তাহলে সেটাও সেরে ফেলতে পারেন।

দিনের যেকোনো সময়ে, বিশেষ করে অফিসে যাওয়া-আসার পথে জ্যামে পড়লে চোখ বন্ধ করে একটু রেস্ট নিতে পারেন। হয়তোবা এই সময় ছাড়া সারাদিনে আপনি আর কখনো রেস্ট নেওয়ার সময় পাবেন না। তবে এটা শুধুমাত্র তাদের বেলায় সম্ভব হয় যাদের নিজেদের গাড়ি থাকে। বাস কিংবা সিএনজিতে কোনোভাবেই ঘুমিয়ে পড়বেন না। তাহলে কিন্তু নিজের অজান্তে মূল্যবান জিনিসপত্রগুলো হারিয়ে ফেলতে পারেন। এই সময়টুকু কিন্তু আপনি পছন্দের গান শুনে সময় কাটাতে পারেন। তবে পাবলিক কোনো যানবাহনে চড়ে এটা করলে আপনার জন্য যেন অন্য কেউ ডিস্টার্ব বোধ না করে সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।

• সবসময় হেঁটে চলার একটা মানসিকতা সৃষ্টি করতে হবে। আপনি  জ্যামে আটকে আছেন তার থেকে যদি অফিস কিংবা আপনার গন্তব্যস্থল বেশি দূরে না হয় তাহলে জ্যাম কমার অপেক্ষা না করে হাঁটতে শুরু করুন। এভাবে আপনার হাঁটার অভ্যাসটাও থাকবে এবং সময়ও বাঁচবে। তবে হাঁটার সময় কিন্তু অনেক সাবধান হয়ে ফুটপাত দিয়ে হাঁটতে হবে। কারণ জ্যামের জন্য অনেক সময় মোটরসাইকেলের মতো ছোট যানবাহনগুলো কোনো নিয়ম কানুন না মেনে ফুটপাত দিয়ে চলাচল শুরু করে।

• সম্ভব হলে অফিসের কাছাকাছি কোথাও বাসা নিয়ে জ্যাম থেকে মুক্তি পেতে পারেন। কিন্তু এই বাসা বদলের পূর্বে বাসার অন্য সদস্যদের সুবিধা অসুবিধার কথাও ভাবতে হবে। আপনার যদি ছেলে-মেয়ে থাকে তাহলে তাদের দিকটা সবচেয়ে বেশি বিবেচনা করতে হবে। কারণ মনে রাখবেন তাদেরও কিন্তু প্রতিদিন স্কুল-কলেজে যাতায়াত করতে হয়।

ট্র্যাফিক জ্যাম একটা বড় সমস্যা। এই সমস্যাকে দূর করা বেশ কঠিন। দিনে দিনে গাড়ির সংখ্যা যেমন বেড়ে চলেছে তেমনি রাজধানীমুখী লোকের সংখ্যাও কিন্তু কম নয়। তবে জ্যাম থাকলেও জীবনযাত্রার কোনো ব্যাঘাত ঘটতে দেয়া যাবে না। এই পরিস্থিতির সঙ্গে নিজেকে মানিয়ে নিয়েই চলতে হবে।

আরকে/জেবি

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়