• ঢাকা মঙ্গলবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ১০ আশ্বিন ১৪২৫

পুজোটা হোক বাবার বাড়ি

লাইফস্টাইল ডেস্ক, আরটিভি অনলাইন
|  ২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৭, ১১:৪৪ | আপডেট : ২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৭, ১৬:৩১
মডেল- আমির পারভেজ ও রিতা, স্টাইল- মিজু, শাকিল, ছবি- আতিক আনন্দ
বিয়ের পর থেকেই অরিতা শ্বশুর-শাশুড়ির সঙ্গে থাকে এক বাড়িতে। তার শ্বশুর জুয়েলারির ব্যবসা করেন। আর শাশুড়ি গৃহকর্মে সময় দেন। স্বামী, দেবর ও ননদ নিয়ে পরিবার। অরিতার স্বামী শশাঙ্ক তরুণ উদ্যোক্তা। শশাঙ্ক সময় খুব বেশি একটা বেশি   পান না। তাই অরিতার দায়-দায়িত্ব শশাঙ্কের মায়ের উপরেই থাকে।

অরিতার কি লাগবে, কোথায় যাবে, কখন যাবে এসব বিষয়ে অরিতার শাশুড়িই সিদ্ধান্ত নেন। সময় করতে পারলে শশাঙ্ক অবশ্য অরিতাকে নিয়ে এদিক ওদিক ঘুরে আসেন। শশাঙ্ক অরিতার কোনো দাবি-দাওয়া  শোনার সময় করতে না পারলেও রক্ষা করার চেষ্টা করে।

এ নিয়ে অরিতাও মান অভিমান করে না। শশাঙ্কের মর্জিকেই প্রাধান্য দেয়। দেবে না-ই বা কেনো, পাঁচ বছরের প্রেমের বিয়েতে শশাঙ্ককে কখনো বলতে হয়নি অরিতার মন খারাপের কথা। নিজে থেকে অরিতার মন পড়তে পারে শশাঙ্ক। চাওয়ার আগেই বাড়িয়ে দিয়েছে যা পেলে অরিতা খুশি হবে।

তবে দুর্গোৎসবের সময় এক মুহূর্ত শ্বাস ফেলবার সময় থাকে না শশাঙ্কের। দেশ-বিদেশ করে নাভিশ্বাস, তবুও পুজোর আগের দিন বাসায় ফিরেই অরিতাকে বললো এবার পুজোটা করবো তোমাদের বাড়ি। যাবে? অরিতার সব বোনেরা শ্বশুরবাড়ি পুজো করলেও অরিতার পুজোটা কাটলো ভিন্ন এক আনন্দে।

দুর্গোৎসবের ঘণ্টা বাজছে। আর মাত্র কয়েকটা দিন বাকি। মা দুর্গাকে বরণ করার সাজ সাজ রব উড়ে বেড়াচ্ছে বাতাসে।  কেউ শপিংমলে, কেউ ঘরে, কেউ স্বজন পরিজন নিয়ে আনন্দ উপভোগের পরিকল্পনায়।

কনেরা ঠিক করছে বাবার বাড়ি যাবার লাগেজ আর বরেরা নিজ ঘরের প্রতিমায় দিচ্ছে রঙ। প্রবীণরা নিয়ম পালনে নিবিষ্ট। অবসরে নেই কেউ। মন্দিরে মন্দিরে উলুধ্বনিতে খুশির আওয়াজ। মা দুর্গতিনাশিনী এবছরও সব দুর্গতি আর অপয়া কাটিয়ে নিয়ে আসবে মঙ্গল বারতা, ছড়িয়ে দেবে বিপুল পৃথিবীতে সে আশা সবার। সবার মনে আশা মা পৃথিবীর বুকে দিয়ে যাবেন এমন কোনো স্পর্শ যারা ছোঁয়ায় নাশ হবে কালো, আলো জ্বলবে ঘরে বাইরে, অন্তরে আত্মায়।

তবে এমন আনন্দের দিনে সবাই ইচ্ছে হয় আপনজনদের কাছে থেকে আনন্দে মাততে। তবুও অনেক সময়ই তা হয়ে উঠে না নানান সামাজিক পারিবারিক কারণে। তবে সবসময় না হোক মাঝে মাঝে তা তো হতেই পারে পারিবারিক সম্প্রীতি বজায় রাখার নিমিত্তে।

এ দুর্গোৎসবে শশাঙ্কের মতো আপনিও যদি বলেন চলো এবার পুজোটা তোমাদের বাড়ি করি। দেখবেন আপনার প্রিয় মানুষটির এ শারদ উৎসবটিই হয়ে উঠবে অন্যরকম।

 

  •  কনেরা পুজো করবে শ্বশুরালয়ে এটাই চলে আসছে। নিয়মে দাঁড়িয়ে গেছে। কিন্তু নিয়মটা কোথায়। বর তো কনের হাতটি ধরে বলতেই পারে তোমাদের বাড়িতে পুজোটা করলে কেমন হয়।
  • কনেরা বরের বাড়ি পুজো করে। বর চাইলে দু’এক বছর পরপর কনের বাড়ি পুজোৎসবটা করলে মন্দ হবে কি? তাতে সম্পর্কের দৃঢ়তা আরো বেড়ে যাবে।
  • বাবা-মা এক আরাধ্য মায়া। বাবা-মায়ের কাছেই সন্তানের সবচেয়ে আনন্দ। দাম্পত্যজীবনে বাবা-মায়ের শূন্যতা কনেরা সবচেয়ে বেশি উপলব্ধি করে। উৎসবটা যদি কনের বাবা-মায়ের সঙ্গে পালন করতে দেয়া হয়। তখন সেটাই তার সবচে’ বড় পাওয়া হয়ে যাবে। মাঝে মাঝে স্থান পরিবর্তন করে আনন্দ করাটাও একটা ব্যতিক্রম আনন্দ।
  • অনেক সময় বরের বাবা-মা তা মেনে নিতে চায় না। সে ক্ষেত্রে বরের উচিৎ বাবা-মার সঙ্গে কথা বলা ও তাদেরকে বোঝানো।
  • আবার দু’জন মিলে পরিবারের বাইরে ছোট সংসারের ক্ষেত্রে কারো উপর চাপিয়ে না দিয়ে আলোচনার সাপেক্ষে হলে ভালো।
  • চাকরিজীবী ছোট্ট সংসারীরা শেয়ার করে নিতে পারেন এই পুজো আমার বাড়ি আর পরের পুজো তোমার বাড়ি। তাতে আনন্দটা রঙিন হবে বৈ ধূসর হবে না নিশ্চিত।
  • আসলে নতুন করে ভাবলে সব কিছুই নতুনভাবে উদযাপন করা যায়। একরোখামি বা কুসংস্কার তো চাইলেই পরিবর্তন করা যায়। শুধু নিজেদের সম্প্রীতির প্রয়োজন।
  • দাম্পত্য জীবনের শুরুতেই যদি এমন একটি বোঝাপড়া করা যায়। তবে বাকিটা সময় সুখেই জীবনটা কাটানো যাবে।
  • চাইলে সিদ্ধান্তটা আজই নেয়া যায়। প্রিয় মানুষটিকে তাক লাগিয়ে দেয়া যায় অফিস থেকে ফিরেই। প্রিয়তমার কানে কানে বলে দেয়া যায় এবারের পুজোটা করব তোমাদের বাড়িতে।  
আরকে/এম 

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়