ঈদে অন্দরের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা

প্রকাশ | ৩০ আগস্ট ২০১৭, ১০:১৩ | আপডেট: ৩০ আগস্ট ২০১৭, ১৪:০৩

সোহেলি সায়মা সেঁজুতি

আমাদের বাঙালি আটপৌরে জীবনে ঈদের আমেজ যেন এক বিশাল সমারোহ। ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যতো রয়েছেই পাশাপাশি বাঁধনহারা আনন্দের সঙ্গে থাকে ঐতিহ্য আর রীতিনীতির প্রভাব। আর এই ঈদ উৎসবকে নিয়ে প্রতিটি পরিবারেই থাকে উচ্ছ্বাস আনন্দে ভরপুর আয়োজন। ছোট-বড় সবাই মেতে ওঠে এই অনাবিল আনন্দে। আর কোরবানির ঈদ কিন্তু অন্য সব উৎসবের থেকে আলাদাভাবে মর্যাদাপূর্ণও।

একদিকে কোরবানির মাংস নিয়ে কাজের তৎপরতা, অন্যদিকে বাসাবাড়ির গোছগাছ, মেহমান আপ্যায়ন আবার ঈদের ছুটিকে উপযুক্তভাবে কাজে লাগানো। সব মিলিয়ে কোরবানির ঈদ যেন থাকে ব্যস্ততায় পরিপূর্ণ।

আর এক কথায় যথাযথভাবে মাংস বণ্টন আর অতিথি আপ্যায়নেই দেখা যায় ঈদের দিনের বড় একটা সময় চলে যায়। তাই দরকার সঠিকভাবে পূর্ব প্রস্তুতি নিয়ে কাজগুলো গুছিয়ে নেয়া।

ঈদের সময় প্রতিবার নতুন পর্দা, নতুন চাদর থেকে শুরু করে পুরো বাসার আসবাব বদলে ফেলার কোনো মানে হয় না।

দীর্ঘদিন ব্যবহার হয়নি কিংবা সংরক্ষণে রাখা এমন পর্দা আর চাদরগুলো আবার বের করে ব্যবহার করা যায়। এছাড়া দৈনন্দিন ব্যবহারের আসবাবগুলোর জায়গা ওলট-পালট করেও ঘরকে নতুন চেহারা দিতে পারবেন খুব সহজেই।

নিত্যদিনের পুরানো পর্দাগুলো যদি ব্যবহার করতেই হয় তাহলে সেগুলো বেশ আগে থেকেই ধুয়ে ফেলুন। অথবা যদি অন্য আরেক সেট থাকে তবে সেটা ব্যবহার করুন। আর যদি একান্ত বদলাতেই হয় তবে শুধু বসার ঘরের পর্দাও বদলাতে পারেন।

বাড়তি মেহমানদের বসার জন্য ড্রয়িং রুমের সোফাই যথেষ্ট হয়ে ওঠে না অনেক সময়। সেজন্য কিছুটা জায়গা বের করে শতরঞ্জি কার্পেট বা শীতল পাটি দিয়ে ফ্লোরিংয়ের ব্যবস্থা করতে পারেন। এতে ছোট-বড় বিভিন্ন আকৃতির কয়েকটি কুশন দিন, আরাম এবং আভিজাত্য দুটোই একসঙ্গে পূরণ হয়ে যাবে। বেডরুমে কিছু অতিথির বসার ব্যবস্থা রাখতে পারেন। ফ্লোরিং করুন অথবা চেয়ার, মোড়া বা টুল রাখুন। বাচ্চাদের পুরো ঘরটা কার্পেটিং করে তাতে কিছু কুশন, পুতুল ও খেলনা রাখুন। অতিথি শিশুরা এখানেই সময় কাটাতে পারবে।

পশু কোরবানি দেয়া থেকে শুরু করে ঘরে এনে মাংস সংরক্ষণ করা পর্যন্ত প্রতিটি ধাপে থাকতে হবে পরিচ্ছন্নতা যেন আশপাশ থাকে একদম জীবাণুমুক্ত এবং পরিষ্কার। বেকিং পাউডার বা কাপড় কাচার সোডা গরম পানিতে মিশিয়ে সিঙ্কে ঢাললে অপ্রয়োজনীয় তেল চর্বি কমে যাবে এবং তেলতেলে ভাব থেকে কিছুটা হলেও রক্ষা পাওয়া যাবে।

ঘরের মেঝেতে ব্লিচিং পাউডার ব্যবহার না করাই ভালো। এটি মেঝের বেশ ক্ষতি কর। এর বদলে কাপড় কাচার সোডা ব্যবহার করাই ভালো। কাপড় কাচার সোডা ব্যবহারের পর ফিনাইল দিয়ে মুছলে ঘর জীবাণুমুক্ত হয়ে যাবে। ঘরে মাংস আনার পর, মাংস টুকরা করে কাটাকাটির পর সংরক্ষণ করে রেখে অবশ্যই গরম পানির সঙ্গে টাইলস ক্লিনার, স্যাভলন কিংবা ফিনাইল মিশিয়ে মেঝেটা মুছে ফেলতে হবে। তাজা লেবুর রস খুব ভালো সুগন্ধি আর আর ঘরকে সতেজ রাখতে সাহায্য করে।

ঘরে প্রয়োজন অনুযায়ী এয়ার ফ্রেশনার ব্যবহার করতে পারেন। ঘর থেকে যেন মাংসের কোনো দুর্গন্ধ না বের হয় সেদিকে সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। আবার ঘরেও যেন কাঁচা মাংসের গন্ধ ছড়িয়ে না যায় সেজন্য মাংস ছোট ছোট পিস করে প্যাকেট করে ফেলতে হবে। সম্ভব হলে সব রুমেই কিছু তাজা ফুল রাখা ভালো এতে করে ঘরে স্নিগ্ধতা শোভা পায়। অতিথিদের আসার আগেই ঘরে একটু সুগন্ধি ছড়িয়ে দিলে ভালো হয়। এর ফলে অতিথিদের সঙ্গে সময়টাও আরো বেশি আনন্দে কাটবে। তবে মনে রাখতে হবে, দরজা জানালা একেবারে বন্ধ রেখে এয়ার ফ্রেশনার দিয়ে বসে থাকবেন না। এতে বাতাসে সুগন্ধ থাকলেও ঘরের ভেতর গুমোট হয়ে যাবে।

এছাড়াও পুরো ঈদের সময়টা এবার কাটবে গরম আর বৃষ্টির বেড়াজালে। তাই দেখা যাবে বদ্ধঘর অনেক বেশি স্যাঁতসেঁতে ভাব হয়ে থাকবে। এতে করে এক ধরনের উটকো গন্ধ সারা বাসা ঘিরে থাকবে। এক্ষেত্রে বেকিং সোডা খুব কাজে দিবে। কারণ, বেকিং সোডার গন্ধ শুষে নেয়ার ভালো একটি গুণ রয়েছে। চাইলে ঘরের যেসকল স্থানে স্যাঁতসেঁতে ভাবটা বেশি হবে এবং গন্ধ বেশি হয়ে আছে সেখানে বেকিং সোডা ছিটিয়ে রাখুন কিছুক্ষণ। দেখবেন বেকিং সোডা গন্ধ শুষে নিয়েছে। পরে বেকিং সোডা সরিয়ে ফেললেই এই গন্ধ ঝামেলা থেকে মুক্তি পাবেন।

কোরবানির ঈদ আমাদের ত্যাগের মহিমা শেখায়। উৎসবমুখর নির্ঝঞ্ঝাট পরিবেশ আমাদের অনেক বেশি মানসিক শান্তি প্রদান করে আর মনকে প্রফুল্ল রাখে। নিরাপদ আর পরিচ্ছন্ন কোরবানি ঈদ সকলের জন্যই প্রত্যাশিত হোক। কোরবানি ঈদের সময় নিজ এলাকা এবং জায়গাসহও আশপাশে সবকিছু পরিচ্ছন্ন রাখাও আমাদের দায়িত্ব এবং কর্তব্য।

আরকে/জেবি