• ঢাকা শুক্রবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ৬ আশ্বিন ১৪২৫

ঈদে শিশুর সাজ-পোশাক

আরটিভি অনলাইন ডেস্ক
|  ১৯ জুন ২০১৭, ১২:৩৩ | আপডেট : ১৯ জুন ২০১৭, ১৩:৩১
ঈদ মানে আনন্দ। আর এই আনন্দ সবচে’ বেশি উপভোগ করে ছোটরা। ঈদকে সামনে রেখে ছোটদের বায়নার যেন কমতি নেই। নতুন জামা জুতার পাশাপাশি ওদেরও চাই চুলের ক্লিপ, রাবার ব্যান্ড, চুড়ি আংটিসহ সাজসজ্জার নানা অনুষঙ্গ। তাই রোজার শুরু থেকে অভিভাবকরা সন্তানের পছন্দসই পণ্যটি কিনতে ছুটে যান মার্কেটে। শুধু কী তাই! ঈদের দিন কে কেমন করে সাজবে তা নিয়েও চলে প্রতিযোগিতা। তবে এবারের ঈদ যেহেতু পুরোপুরি গরমকালে, তাই ছোটদের পোশাক থেকে শুরু করে সবকিছুই হওয়া চাই আরামদায়ক। কেননা ওরা সারাদিন ঘুরে বেড়ায়। তাই ওদের এমন কোনো পোশাক পরানো বা সাজগোজ করানো ঠিক হবে না যাতে ওরা অস্বস্তিবোধ করে। চলুন তবে জেনে নেই ছোটদের সাজসজ্জা ও পোশাক নিয়ে কিছু কথা।

এখনকার প্রায় সব শিশুই পোশাকের সঙ্গে মিলিয়ে জুতা, স্যান্ডেল এমনকি চুলের ক্লিপও ব্যবহার করে। তাই পছন্দমতো ও রুচিশীল পোশাকটি কিনে দিন। এক্ষেত্রে সুতি বা লিলেন কাপড়ের পোশাক হলে ভালো হয়। এতে ওরা স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করবে। পোশাকটি আরামদায়কও হবে।

ঈদের দিন তাই যা খুশি তাই সাজে এ মনোভাব কখনও দেখাবেন না। কেননা ওরা ছোট বলে সাজগোজ বা ওদের আরামের বিষয়টি ততটা বোঝে না। সেক্ষেত্রে যাদের চুল ছোট সেসব বাচ্চাদের ঝুঁটি করে বা ক্লিপ দিয়ে চুল বেঁধে দিন। চুল বাঁধার উপযোগী না হলে বাজারে নানা ধরনের ব্যান্ড পাওয়া যায় জামার সঙ্গে মিলিয়ে একটি পরিয়ে দিন । ওকে ভালো দেখাবে।

ছোটদের হাত পায়ের নখে বেশি রঙচটা নেইল পলিশ লাগাতে দেবেন না। এতে ওদের সাজগোজের সৌন্দর্যহানি ঘটবে। আর হ্যাঁ, কম দামি নেইল পলিশ তো কখনোই না। কারণ এতে শিশুদের নখ নষ্ট হওয়ার আশংকা থাকে।

চোখে কাজল বা আই শ্যাডো না দেয়াই ভালো। কেননা এতে ওদের শিশুসুলভ সৌন্দর্য ফুটে ওঠে না। অগত্যা যদি এসব প্রোডাক্ট ওরা ব্যবহার করতে চায় তাহলে হালকা কালারের শ্যাডো লাগিয়ে দিন।

ছোটরা সাজগোজের সময় অনেক কিছু বায়না করে। ওরাও বড়দের মতো সাজতে চায়। তাই ওদের বুঝাতে হবে বড়দের মতো ওদের এতো বেশি সাজসজ্জার দরকার নেই। অনেক শিশু আছে যারা টিপ খুব পছন্দ করে। তাদের সেক্ষেত্রে অন্য কোনো সাজসজ্জা না করিয়ে পোশাকের সঙ্গে মিলিয়ে একখানা টিপ পরিয়ে দিন। দেখতে ভালো লাগবে, শিশুও আনন্দিত হবে।

লিপস্টিক দেয়ার বায়না থাকে প্রায় সব বাচ্চার। অনেকে তো গাঢ় রঙের লিপিস্টক লাগিয়ে বেড়াতে নিয়ে যান শিশুদের। এটা কখনও ঠিক না। শিশুদের কখনও লিপস্টিক ব্যবহার করতে দেবেন না। কেননা ঠোঁট এমনিতেই সংবেদনশীল। তার ওপর ছোটদেরটা তো আরও বেশি সংবেদনশীল। তাই দেশি হোক বা বিদেশি কোনো ধরনের লিপস্টিকই শিশুদের ব্যবহার করতে দেয়া উচিত না।

জবরজং টাইপের মালা বা কানের দুল না পরানোই ভালো। অনেকে আবার ভারী পাথরের মালা বা কানের দুলসহ গলায় একটা ভারী হার পরিয়ে শিশুদের ঘুরতে পাঠিয়ে দেন। এতে শিশুরা সাময়িক আনন্দিত হলেও কিছুক্ষণ পর ওদের অস্বস্তি শুরু হয়।

ঈদের দিন শিশুদের স্বর্ণ, রুপা বা ডায়মন্ডের মতো দামি কোনো কিছু পরানো ঠিক নয়। এতে এসব মূল্যবান  জিনিস হারানোর পাশাপাশি শিশুদের জীবনের জন্যও হুমকি বয়ে আনতে পারে। কেননা  ঈদের দিন ওরা ঘোরাঘুরির মুডে থাকে। তাই এসব দামি জিনিসের প্রতি ওদের খেয়াল থাকে কম।

পোশাক

দেশীয় ফ্যাশন হাউজগুলো এখন শিশুদের জন্য তৈরি করছে দারুণ স্টাইলিশ সব পোশাক। দেশীয় ফ্যাশন হাউসগুলো এরই মধ্যে সাজানো হয়েছে শিশুদের রঙ বেরঙের পোশাক দিয়ে।

বিগত বছরের ঈদগুলোর তুলনায় এবার পোশাকে বাহার ও বৈচিত্র্য লক্ষ্য করা যাচ্ছে অনেক বেশি।

ঈদ সামনে মেয়েশিশুদের জন্য সবচে’ বেশি চলছে ফ্রিল দেয়া পার্টি ফ্রক, হাতের জমকালো কাজ করা সালোয়ার-কামিজ, ঘাঘরা চোলি।

সালোয়ার ও প্যান্টের কাজে নকশা এবং কাটে দেখা গেছে বৈচিত্র্য। সালোয়ার-কামিজ পরতে চাইলে কাতান, টিস্যু, মসলিন ও সার্টিনের ব্যবহার ভালো লাগবে পার্টি পোশাকে।

এছাড়া সুতির কাপড় তো রয়েছেই। আর এ লাইন কাটের চল থাকছে এবার। নকশায় প্রাধান্য পাচ্ছে কারচুপি, অ্যামব্রয়ডারিসহ হাতের কাজ। আর শিশুদের জন্য বরাবরের মতো বেছে নেয়া হয়েছে উজ্জ্বল রঙ।

এবারের ঈদ ফ্যাশনে ছেলেশিশুদের পাঞ্জাবিতে কাপড় হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে অ্যান্ডি, সিল্ক, মসলিন ও খাদি। উৎসবের আমেজ ফুটিয়ে তোলা হয়েছে বিভিন্ন রকম হাতের কাজ দিয়ে।

প্রায় সমস্ত ফ্যাশন হাউজেই শিশুদের পোশাকের কাটিংয়ে নান্দনিক নকশা করা হয়েছে।

পোশাকের খোঁজে যেতে পারে আড়ং, কে ক্রাফট, লা রিভ, বাংলার মেলা, দেশাল, নিপুন, মেঘ, অঞ্জনস সহ ছোট-বড় যে কোনো বুটিকে।

একই সঙ্গে দেশি দশেও একবার ঢুঁ মারতে পারেন।

আরকে

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়