• ঢাকা বুধবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ১১ আশ্বিন ১৪২৫

পহেলা বৈশাখে অতিথি আপ্যায়ন

আরটিভি অনলাইন ডেস্ক
|  ১১ এপ্রিল ২০১৭, ১৬:০৮ | আপডেট : ১১ এপ্রিল ২০১৭, ১৮:৫৮
বাংলা পঞ্জিকায় চৈত্র মাস প্রায় শেষ। বাজছে নতুন বাংলা বছরের আগমনী বার্তা। বৈশাখের এই আগমনী সময়ে দেশীয় উপাদান দিয়েই মূলত ঘর সাজাতে ভালো লাগে।

এছাড়া বাঁশ ও বেতের নান্দনিক ব্যবহার বৈশাখের আয়োজনে বাড়তি সৌন্দর্য যোগ করবে। যদি মেহমান বা পরিবারের সবার আপ্যায়নের সময় খাবার টেবিলের ম্যাটটি শীতলপাটি, বাঁশ অথবা নকশীকাঁথার উপকরণ কিংবা দেশীয় গামছা বা উজ্জ্বল রঙের গ্রামীণ চেক কাপড়ের ব্যবহার করা হয় তবে এমনিতেই তা অসাধারণ লাগবে। আবার তার সঙ্গে যদি মাটির তৈরি গ্লাস, প্লেট ও স্ট্যান্ড ব্যবহার করা হয় তবে তা দেখতে সত্যি ভিন্ন লাগবে। সঙ্গে মাটির ফুলদানিতে কিছু তাজা ফুল দিয়ে সাজালে টেবিলটি অনেক আকর্ষণীয় হয়ে উঠবে।

এছাড়া ভোজনরসিক বাঙালি মুখিয়ে থাকেন কব্জি ডুবিয়ে মুখরোচক বাঙালি খাবারের স্বাদ গ্রহণের জন্য। আর অতিথি আপ্যায়ন তো আমাদের সংস্কৃতির এক অন্যতম মাধ্যম। তাই এ সময়  অতিথি আগমনে আর বাঙালির রঙ বৈচিত্র্যের শৌখিনতায় ভরপুর থাকে অন্দর। আমাদের দেশীয় আবহের আমেজে আমরা যেন সবদিক থেকে সেজে উঠি।

বৈশাখে মেহমান আপ্যায়ন আর অন্য সব উৎসবের আমেজের পাশাপাশি মাথায় রাখতে হবে গ্রীষ্মের ভ্যাপসা গরমের শুরু কিন্তু এখান থেকেই। বাইরে প্রচুর গরম কিংবা রোদ থাকতেই পারে কিন্তু তাই বলে ঘরের ভেতর আলো বাতাসের প্রচুর সমাগম বন্ধ করা যাবে না।

যেহেতু বাংলা নববর্ষ মানেই হচ্ছে বাংলা সংস্কৃতির ছোঁয়া তাই এমন দিনে ঘরের চারপাশে আবহমান বাংলার শৈল্পিক নিদর্শন ফুটে উঠলেই যেন বেশি ভালো লাগবে। তাই ব্যবহার করা যেতে পারে দেশীয় অন্দরসজ্জার খুব সাধারণ কিছু জিনিসপত্র। বসার ঘরের এক পাশে মেঝেতে বিছিয়ে দিতে পারেন শতরঞ্জি। তার ওপর ছড়িয়ে দিতে পারেন নকশীর কাজ করা ছোট বড় নানান আকৃতির কুশন। আবার চাইলে শীতলপাটি বা মাদুরও ব্যবহার করতে পারেন। ছোট ছোট মাটির রঙিন পটারিতে গাছ থাকলে খুব সতেজ লাগবে ঘরের অভ্যন্তরীণ পরিবেশ। আবার খুব বেশি গরম হলে মাটির বোল বা পটারিতে পানি রেখে তাতে কিছু রঙিন মোম ও ভাসমান কিছু ফুল ছড়িয়ে দিলে অন্দরে একদম ভিন্ন মাত্রা যোগ হবে।

বিভিন্ন ধরনের তাজা সতেজ ফুল ঘরে সতেজতা নিয়ে আসবে। আর ফুলদানি ভালো লাগলে বাঙালি সাজের সঙ্গে মাটি, কাঠ, বাঁশ, মেটাল ও বেতের ফুলদানি ভালো মানাবে। দেয়ালে নানান রঙের সঙ্গে ঝুলিয়ে দিতে পারেন মুখোশ বা রিকশা পেইন্টিঙের কিছুটা ছোঁয়া। আসলে খুব পরিপাটিভাবেই কিন্তু আপনার ঝকঝকে বসার ঘরের দৈনন্দিন সাজটি পাল্টে ফেলতে পারেন পহেলা বৈশাখের সঙ্গে তাল মিলিয়ে। এতে ঘরের সাজে যেমন উৎসবের আমেজ টের পাওয়া যাবে, তেমনি দীর্ঘদিনের একঘেয়েমি ভাবও কাটবে।

আপনজনের সঙ্গে উৎসবের আমেজে মেতে উঠতে বাসায় তাজা ফুল রাখার ব্যবস্থা করতে পারেন। তাজা ফুল খুব সুন্দর এয়ারফ্রেশনার হিসেবে কাজ করবে। কিংবা ভালো কোনো এয়ারফ্রেশনার ব্যবহার করবেন। তবে মনে রাখতে হবে, দরজা জানালা একেবারে বন্ধ রেখে এয়ারফ্রেশনার দিয়ে বসে থাকবেন না। এতে বাতাসে সুগন্ধ থাকলেও ঘরের ভেতর গুমোট হয়ে যাবে।

আরকে/ এমকে

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়