কথা বলবে ঘরের দেয়াল

প্রকাশ | ০৪ এপ্রিল ২০১৭, ১৮:৫২ | আপডেট: ০৪ এপ্রিল ২০১৭, ১৮:৫৮

আরটিভি অনলাইন রিপোর্ট

বৈশাখে অন্দরকে রাঙিয়ে তুলুন ভালোবাসার আলিঙ্গনে। আসলে কোনো উৎসবে অন্দরকে পুরোপুরি নতুন রূপে সাজাতে খুব বেশি ধকল পোহাতে হয় না। কিছুটা বুদ্ধিমত্তার সঙ্গে সামান্য কিছু পরিবর্তন, অল্প কিছু সংযোজন আর দরকারে হালকা কিছু বাতিল করলেই কিন্তু অন্দর হয়ে উঠবে নতুনত্বে আর নান্দনিকতায় ভরপুর।

সবচে’ বড় কথা হলো নিজের আপন আবাসই কিন্তু সবচে’ আপন আমাদের কাছে। আর এক্ষেত্রে, বাড়ির প্রতিটা রুম এবং কর্নার দরকারি ভূমিকা রাখে। আসলে কাছের মানুষ  বা পরিবারের সঙ্গে সময় কাটানোর ক্ষেত্রে খুব বেশি বাড়তি আয়োজন বা অনেক আনুষঙ্গিক জিনিসের সমারোহের দরকার পড়ে না। বরং খুব সাধারণ কিছু আয়োজন পরিবারের সঙ্গে উৎসবের মুহূর্তগুলো করে তুলবে অনেক বেশি আকর্ষণীয়।

আবার নতুন করে একটি সংসার শুরু হয় সাধারণত দুটো শোবার ঘর, খাওয়ার ঘর, বসার ঘর, রান্নাঘর আর এক চিলতে বারান্দা দিয়েই। আর ঘরকে নতুন করে সাজানোর প্রথম পথ হলো দেয়ালের সঙ্গে বোঝাপড়া করা। ঘরের দেয়ালও কিন্তু কথা বলে। বাড়িতে রং করানোর কাজটিকে অনেকের ব্যয়বহুল, সময়সাপেক্ষ ও বিরক্তিকর মনে হয়। কিন্তু শৌখিনতার চেয়েও এটি দরকারি বেশি।

কেননা সময়মতো বাড়ির রং করলে তা দীর্ঘস্থায়ী হয়। বাড়িতে সদ্য রং করার পর অনেকেরই রঙের গন্ধ সহ্য হয় না। এমন হলে গন্ধ কমাতে ঘরের মধ্যে এক বাটি ভিনেগার রাখা যেতে পারে।

সারারাত রাখতে হবে। পরদিন সকালে ঘরের জানালা-দরজা খুলে দিলে গন্ধ চলে যাবে। আর এর বাইরে তৈরি করতে পারেন নানান ডিজাইনের ‘ফিচার ওয়াল’ কিংবা ইল্যুশন। তবে ইল্যুশন ব্যবহারে কিছুটা সতর্ক হওয়া উচিত। কেননা সব ঘরে সব ধরনের ইল্যুশন মানায় না। দেয়ালে ভুল ইল্যুশনের ব্যবহার মনের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।

তবে একটা দেয়াল একটু উজ্জ্বল রঙে রাঙিয়ে কিংবা বিভিন্ন ধরনের রাফ টেক্সচার করে তাতে স্পটলাইটের ব্যবস্থা করে টাঙিয়ে রাখতে পারেন প্রিয় মুহূর্তের ছবিগুলো। তাতে অন্দরের সৌন্দর্যের সঙ্গে সঙ্গে ঘরময় ছড়িয়ে থাকবে ভালোবাসা।

আর রঙিন এই ঘরের দেয়ালটাকে ফাঁকা না রেখে কাজে লাগিয়ে ফেলতে পারেন। কত কি থাকে ঘরে, কত কিছুই তো সাজিয়ে রাখতে ইচ্ছে হয়। দেয়াল ঘড়ি, ছবির ফ্রেম এসব তো আছেই; এর বাইরে একটু ভিন্ন আঙ্গিকের দেয়ালে ঝোলানো শেলফ বা ক্যাবিনেট, ছোট ছোট গাছ বা শোপিস রাখার ওয়াল মাউন্ট স্ট্যান্ড, আরও কত কিছু।

আর এই ছোট ছোট জিনিস করতে খুব বেশি সময় খরচ বা ঝামেলা কোনোটাই পোহাতে হয় না। শুধুমাত্র সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা আর কৌশল মতো কাজগুলো করতে পারলে কিন্তু পুরনোতেই নতুনত্ব খুঁজে পাওয়া যাবে।

এমনিতেই বৈশাখ মাসে প্রকৃতি ছেয়ে যাবে মন মাতানো সব উজ্জ্বল রঙে। তাই আপনাদের অন্দরের নন্দনেও নিয়ে আসতে পারেন এইসব রঙের ঘনঘটা। কারণ উজ্জ্বল রঙই ঘরকে আরো বেশি প্রাণবন্ত করে রাখে। তাই উজ্জ্বল রঙের ফ্লোরাল প্রিন্টে রাঙিয়ে তুলতে পারেন রুমগুলোকে। এছাড়া হলুদ, কমলা, লাল, সবুজ বা কালচে লাল এসব রঙের ফ্লোরাল প্রিন্ট বেছে নিতে পারেন পর্দার ক্ষেত্রে। আর পর্দার রঙের সঙ্গে মিলিয়ে বসার ঘরের কুশন কভারও বানিয়ে নিতে পারেন বিভিন্ন ধরনের ফ্লোরাল প্রিন্টের।

 সোফার কভারের ক্ষেত্রে যদি ফ্লোরাল প্রিন্ট ব্যবহার করতে না চান তাহলে এ ক্ষেত্রে একটু গাঢ় রং বেছে নিন। তবে কুশন কভার ফ্লোরাল প্রিন্টের থাকলে সোফার কভার এক রঙের হলেই বেশি মানাবে। আসলে রঙের স্বাচ্ছন্দ্য একেকজনের ক্ষেত্রে একেকরকম। যেমন গাঢ় উজ্জ্বল রঙের অনুভূতি এক ধরনের, হালকা রঙের অনুভূতি আরেক ধরনের। গাঢ় রঙের সমন্বয় হলে মানুষের মনের উপর তা প্রভাব ফেলবে। কারণ গাঢ় সব সময় নজর কাড়ে। হালকা রঙের সমন্বয় সাধন করলে তা মনকে প্রফুল্ল করবে। তবে এই রঙের ব্যবহার পুরোপুরি ঘরের ক্ষেত্রে আকার, ব্যবহার ও ব্যবহারকারীর ইচ্ছের উপর নির্ভর করবে। ঘর ছোট হলে এবং ভারী কাজ করা লেকার পলিশের ফার্নিচার থাকলে ঘরে গাঢ় রং একেবারেই বেমানান লাগবে। সে ক্ষেত্রে হালকা ও উজ্জ্বল রং ব্যবহার করা ভালো।

আবার অন্দরে উৎসবের আমেজে, ভালোবাসা আর আন্তরিকতায় সাজিয়ে নেয়া যায় ঘরের জানালাগুলোও। জানালার সৌন্দর্য বাড়ানোর জন্য কিংবা মিষ্টি টুং টাং শব্দ শোনার জন্য উইন্ড চাইম ঝুলিয়ে রাখতে পারেন। উইন্ড চাইম ঘরের সৌন্দর্য বাড়িয়ে দেয় অনেকখানি। শুধু একটি মাত্র উইন্ড চাইমই ঘরের আবেদন অনেকখানি বাড়িয়ে দিতে পারে। আর উইন্ড চাইমের টুং টাং শব্দ ভালো লাগবে না এমনটা হতেই পারে না। বেডরুমে বা বসার ঘরের জানালাতেই সাধারণত উইন্ড চাইম বেশি ব্যবহার করা হয়। জানালায় ঝোলাতে হালকা বাতাসেই টুং টাং শব্দে মন থাকবে সতেজতায় ভরপুর। একান্তভাবে সময় কাটানোতে কিংবা চা কফি খেতে খেতেই মিষ্টি টুং টাং শব্দে আনন্দে মুখর হয়ে উঠবে পুরো অন্দর।

আমাদের ব্যস্ত এই নাগরিক জীবনে  মাঝে মাঝে উৎসব পার্বণকে কেন্দ্র করে কাছের পরিবার পরিজনদের সঙ্গে একান্তভাবে কিছু সময় কাটানো খুবই দরকার। আর যদি এই উৎসবের মাসেই কারও নতুন সংসার গড়ে ওঠে তবে খুব সাধারণভাবেই ভালোবাসার দৃঢ় গাঁথুনিতেই সজ্জিত হতে পারে ভালোবাসার অন্দর।

আরকে/ এমকে