close
ঢাকা, মঙ্গলবার, ২১ নভেম্বর ২০১৭ | ০৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৪

ফেসবুক বা মোবাইল ফোনে হয়রানির শিকার হলে কী করবেন

আরটিভি অনলাইন ডেস্ক
|  ০১ এপ্রিল ২০১৭, ১২:৫৭ | আপডেট : ০১ এপ্রিল ২০১৭, ১৫:১০
বর্তমানে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে  সৃষ্ট অপরাধ ভয়াবহ আকার ধারণ করছে। প্রায় প্রতিদিনই স্মার্টফোনের মাধ্যমে ঘটে যাচ্ছে নানা ধরনের অপরাধ। প্রযুক্তি আমাদের জীবনকে যেমন করে তুলেছে গতিময় অপর দিকে এই গতিকে কোন কোন সময় থামিয়ে দিচ্ছে প্রযুক্তির অপব্যবহার। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের কথাই ধরা যাক ফেসবুক, টুইটার, হোয়াটস অ্যাপ, ই-মেইল যোগাযোগ ব্যবস্থাকে নিয়ে এসেছে হাতের মুঠোয়। এগুলোর মধ্যে সবচেয়ে জনপ্রিয় হলো ফেসবুক। ইন্টারনেটের মাধ্যমে ফেসবুক, টুইটার, ই-মেইল বা ব্লগে কাউকে হয়রানি করা কিংবা প্রতারণার ঘটনা ঘটছে অহরহ। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই নারীরা এর শিকার হলেও পুরুষরাও যে হয়রানীর শিকার হচ্ছে না একথা বলার জো নেই।

দৃশ্যপট : ০১

তামান্না মৌ। কাজ করেন একটি বেসরকারি মোবাইল কোম্পানিতে। যেখানে পরিচয় হয় সহকর্মী রিদমের সঙ্গে। এক পর্যায়ে রিদম প্রেমের প্রস্তাব দেন মৌ কে। মৌ তাতে সাড়া দেয় না। ঝামেলা হতে পারে ভেবে মৌ ঐ চাকরি ছেড়ে দেন। কিন্তু থেমে থাকেনি রিদম। নিয়মিত মোবাইলে বিরক্তি এমনকি হুমকি ও দিতেন মৌ কে। এক সময় দেখা গেল আরেক ভয়াবহ ঘটনা। ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ল মৌ এর বিভিন্ন রকম ছবি। যেগুলো গ্রাফিক্সের মাধ্যমে তৈরি করা। বিব্রতকর অবস্থার মধ্যে পড়লো মৌ ও তার পরিবার।

দৃশ্যপট : ০২

পেনশনের টাকাটা ক’দিন হলো পেয়েছেন বদরুল সাহেব। খুশিতে বুকটা ভরে ওঠে তার। এই টাকা দিয়েই বাড়ির বাকি কাজটা শেষ করবেন বলে ঠিক করেছেন। এ দিকে এই টাকার দিকে চোখ বসিয়েছে একই মহল্লার পিন্টু মিয়া। তার দাবি দুই লখ টাকা চাঁদা না দিলে বাড়ির কোন কাজ করতে দেয়া হবেনা। মোবাইলে এমন হুমকি পেয়ে বেশ ভড়কে গিয়েছেন বদরুল সাহেব। কী করবেন ভেবে পাচ্ছেন না বদরুল।

এ দু’টি ঘটনার জন্য আছে আলাদা-আলাদা প্রতিকার ও আইন।

প্রথমেই প্রথম দৃশ্যপট নিয়ে কথা বলা যাক এ ব্যাপারে তথ্য ও প্রযুক্তি আইন ও পর্নোগ্রাফি আইনে কি আছে দেখা যাক-

২০০৬ সালের তথ্য ও প্রযুক্তি আইনে বলা হয়েছে : যদি কোনো ব্যক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে ওয়েবসাইটে বা অন্য কোনো ইলেকট্রনিক মাধ্যমে এমন কিছু প্রকাশ বা সম্প্রচার করে ০১. যা মিথ্যা ও অশ্লীল ২. কেউ তা পড়লে, দেখলে বা শুনলে নীতিভ্রষ্ট বা অসৎ হতে পারে ৩. যার দ্বারা মানহানি ঘটে ৪. আইনশৃঙ্খলার অবনতি ঘটে ৫. রাষ্ট্র ও ব্যক্তির ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন হয় ও ৬. কারো ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করে। এমন ধরনের তথ্যের মাধ্যমে কোনো ব্যক্তি বা সংগঠনের বিরুদ্ধে উসকানি প্রদান করা হলে তিনি সর্বোচ্চ ১৪ বছর এবং কমপক্ষে ০৭ বছর কারাদণ্ডে দণ্ডিত  হবেন। সেই সঙ্গে এক কোটি টাকা পর্যন্ত জরিমানাও হতে পারে (ধারা ৫৭-এর উপধারা-১) আবার এদিকে ২০১২ সালের পর্নোগ্রাফি আইনে বলা হয়েছে, কোনো ব্যক্তি ইন্টারনেট বা ওয়েবসাইট বা মোবাইল ফোন বা অন্য কোনো ইলেকট্রনিক ডিভাইসের মাধ্যমে পর্নোগ্রাফি সরবরাহ  করলে তিনি এ ধরনের অপরাধের জন্য সর্বোচ্চ পাঁচ বছর পর্যন্ত সশ্রম  কারাদণ্ড এবং দুই লাখ টাকা পর্যন্ত অর্থদণ্ডে দণ্ডিত হবেন।

ভুয়া ফেসবুক বা টুইটার আইডি খুলে হয়রানি : ভুয়া ফেসবুক বা টুইটার আইডি খুলে বিব্রত করা খারাপ মন্তব্য করা কিংবা সম্মানহানিকর কিছু পোস্ট করা অহরহ ঘটছে। পুলিশ ও এরকম অনেক কেস হ্যান্ডেল করছে এবং অপরাধীকে আইনের আওতায় নিয়ে আসছে প্রতিনিয়ত। ফলে বর্তমানে এ প্রবণতা বেশ কমেছে। এভাবে যদি কোন ব্যক্তি ফেসবুকের  মাধ্যমে কোন ব্যক্তিকে বিব্রত বা হয়রানি করে এবং এর  ফলে যদি ঐ ব্যক্তি সামাজিক ও অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হন তাহলে তার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেয়া যাবে। এ ক্ষেত্রে থানায় গিয়ে জিডি করুন। সমস্যাটি গুরুতর হলে প্রয়োজনে তথ্যপ্রযুক্তি আইনে কিংবা পর্নোগ্রাফি আইনে মামলা করতে পারেন। প্রমাণস্বরূপ স্ক্রিনশট নিন ও সংশ্লিষ্ট পেইজটি সেভ করে রাখুন যাতে পরবর্তীতে আপনার অভিযোগের ভিতটা অনেক শক্ত হয়।

দ্বিতীয় দৃশ্যপটের মোবাইলে হুমকি পাওয়া বদরুল সাহেব যেভাবে প্রতিকার পেতে পারেন।

মোবাইলে হুমকি দিলে কী প্রতিকার : কেউ মোবাইলে হুমকি, ভয়ভীতি প্রভৃতি দেখালে বা কোন ব্যক্তির কারণে পারিবারিক বা সামাজিক শান্তি শৃঙ্খলা বিনষ্ট হলে বা মারামারি কলহ বিবাদ তৈরির আশংকা থাকলে আপনি ফৌজদারি কার্যবিধির ১০৭ ধারার আশ্রয় নিতে পারেন। ১০৭ ধারায় এ ধরণের মামলা করলে সেটিকে শান্তিরক্ষার মুচলেকার মামলা বলে। এ ধারায় মামলা হলে যে আপনাকে হয়রানি করছে বা হুমকি দিচ্ছে তাকে এ ধরনের কর্মকাণ্ড থেকে নিবৃত্ত করার জন্য বন্ড বা মুচলেকা নেওয়া হয়। এ ধরনের মামলা সাধারণত করা হয় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে। মামলার আরজিতে মূল অভিযুক্ত ব্যক্তির নাম, ঠিকানাসহ, কেন এবং কী কারণে আপনাকে হুমকি দিচ্ছে বা শান্তি বিনষ্ট করছে তা অবশ্যই উল্লেখ করতে হবে। ১০৭ ধারা একটি জামিনযোগ্য ধারা। এ ধারায় মামলা করা হয় মূলত দায়ী বা অভিযুক্ত ব্যক্তিকে মুচলেকা সম্পাদনের মাধ্যমে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তির জীবনের নিরাপত্তা দেয়া।

  •  হাফিজুর রহমান রিয়েল, সিনিয়র সহকারি, পুলিশ কমিশনার মিডিয়া এন্ড পাবলিক রিলেশন্স, ডিএমপি।
আরকে/এএইচ

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়