• ঢাকা শনিবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ৭ আশ্বিন ১৪২৫

শুধু গৃহবধূ না, নারীরাও হতে পারে সমাজের শক্তি

লাইফস্টাইল ডেস্ক, আরটিভি অনলাইন
|  ০৮ মার্চ ২০১৭, ১৫:৩২ | আপডেট : ০৮ মার্চ ২০১৭, ১৫:৫৮
অর্পা ও রাহুল একই ইউনিভার্সিটিতে পড়ে এবং দু’জন খুব ভালো বন্ধু। এই বন্ধুত্ব এক পর্যায়ে ভালোবাসায় রূপ নেয়। অর্পা অনেক সুন্দরী ,মেধাবী ও বুদ্ধিমতী একটা মেয়ে। তাই রাহুলের পরিবারের কেউ তাকে অপছন্দ করার কোনো কারণই নেই। অন্যদিকে  রাহুল অর্পার চেয়ে দুবছরের সিনিয়র হওয়ায় আগেভাগেই লেখাপড়া শেষ করে বাবার ব্যবসা দেখাশোনার কাজ শুরু করেন। নিজেদের অফিস, তাই স্বাধীনভাবেই শুরু করতে পারে তার কর্মজীবন। চেনা ঘর, ভালো পাত্র বলে অর্পার বাবা-মায়েরও কোনো আপত্তি নেই। ব্যস, বন্ধুত্ব থেকে সাতপাকে বাঁধা পড়ল দু’জন।

শ্বশুরবাড়িতে বেশ সুখেই কাটছিল অর্পার জীবন। সেখানে সবাই তাকে অনেক ভালোবাসে। কোনো সমস্যা হলো না। কিন্তু সমস্যা ছাড়া জীবন তো এত সহজে অতিবাহিত হয় না। এই বাড়িতে সবই ঠিক আছে। তবে একটা বিষয় অর্পা কিছুতেই মেনে নিতে পারছে না যে, তাকে চাকরি করতে দেয়া হবে না। কারণ, রাহুলদের পরিবার অনেক ভাব-গাম্ভীর্য নিয়ে থাকে। এই যুগে এসেও মনে করে যে, তদের বাড়ির বউ বাইরে চাকরিতে গেলে তাদের পরিবারের সম্মান নষ্ট হবে। তাদের যেহেতু নিজেদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান আছে তাই তারা চাকরি দিতে অভ্যস্ত।

আর এদিকে অর্পার স্বপ্ন ছিল বিসিএস দিয়ে ম্যাজিস্ট্রেট হবার। তাই ছোটবেলা থেকে  পড়াশোনায় একটুও ফাঁকি দেয়নি। কিন্তু বিয়ের পর তার সব স্বপ্ন নষ্ট হতে বসেছে, এটা  সে কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছে না। এ নিয়ে রাহুলের সাথে কথা বলতে গেলে সে  চুপ করে থাকে। সেও বোঝে অর্পা অমূলক কিছু চাইছে না। তবে এই নিয়ে পারিবারের বিরুদ্ধে কথা বলতে পারছে না। যে সংসারটা হওয়ার কথা ছিল সুখে শান্তিতে ভরপুর, সেই সংসারে আজ সবাই গোমড়া মুখে থাকে। তবে রাহুল কিন্তু চেষ্টার কোনো ত্রুটি করছে না। কিন্তু তার বাবা মানতে পারছেন না চৌধুরী বাড়ির বউ বাইরে চাকরি করবে।  সে তার বংশমর্যাদা বজায় রাখতে বদ্ধ পরিকর। এদিকে অর্পা তো এই কুসংস্কার মেনে তার এত সুন্দর স্বপ্নটাকে নষ্ট করতে চাইছে না। অর্পা এখানে সবচেয়ে অবাক হয় তার নিজের বাবার আচরণে। মেয়ের সংসাব ভাঙার ভয়ে বাবাও নীরব হয়ে গেল এ বিষয়ে।  মেয়ের বিয়ে হয়ে গেলে বাবার কি সব দায়িত্ব শেষ হয়ে যায়?

একটা মেয়ে কি তাহলে স্কুল, কলেজ, ইউনিভার্সিটির পড়া শেষ করে শুধু বড় কোনো  বাড়ির বউ হয়ে সবার সাথে মানিয়ে নিয়ে জীবনটা কাটিয়ে দেবে? নাকি সেও তার মেধা, পরিশ্রম ও বুদ্ধিমত্তা দিয়ে সমাজের কোনো গুরুত্বপূর্ণ পদে অংশ নিয়ে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাবে? শুধুমাত্র মেয়ে বলে তার সাথে কেন এই বৈষম্যমূলক আচরণ করা হয়? তাহলে অর্পার যদি মেয়ে সন্তান হয় এবং তার যদি আরো বড় কোনো চৌধুরী পরিবারে বিয়ে হয়, সেও কি শুধুই গৃহবধূ হয়ে থাকবে? এভাবে কি মেয়েরা শুধুই গৃহবধূ হয়ে কাটিয়ে দেবে? তাদের তো  ইচ্ছা থাকে অন্য দশজন মেয়ের মতো স্বাধীনভাবে বাঁচতে,  স্বাবলম্বী হতে। ঠিক আছে, চৌধুরী পরিবারে অর্থ সম্পদের কোনো অভাব নেই; কিন্তু অর্থ সম্পদই কি সব কিছু? তাহলে মেয়েদের লেখাপড়া শেখানো হয় ভালো পাত্রের সঙ্গে বিয়ে দেওয়ার জন্য। এখানে মেয়েদের পাশে দাঁড়ানোর কোনো মানুষ থাকে না তাই। এই সময় মেয়ের পক্ষের অভিভাবকদের বক্তব্য থাকে বিয়ে হয়ে গেছে, শ্বশুরবাড়ির লোকেরা যেভাবে চাইছে তাকে চলতে হবে। এখানে মেয়েরা বড় অসহায়।

আসলে সমস্যা জটিল মনে করলে সমস্যা আরো জটিল হয়। এই সমস্যার সমাধান হতে পারে একমাত্র পারস্পরিক আলোচনার মাধ্যমে। এক্ষেত্রে দুই পক্ষকে সহনশীল হতে হবে। মেয়েদের মাথা ঠান্ডা রাখতে হবে। পরিবারের বড়দের বোঝাতে হবে দিন বদলে গেছে। তাদের উদাহরণ দিতে হবে আজ সমাজের কোনো পেশা নেই যেখানে মেয়েরা নেই। পুরাতন ধ্যান-ধারণা থেকে বের হয়ে সবকিছু নতুন করে শুরু করতে হবে। অভিভাবককে বুঝতে হবে একটা মেয়ে সারাদিন বাড়িতে থাকলে তার খারাপ লাগবে, কোনো কাজে ব্যস্ত থাকলে তার ভালো লাগবে এবং সে যেহেতু মেধাবী, বুদ্ধিমতী ও প্রগতিশীল এবং মন দিয়ে লেখাপড়া শিখে এত ভালো রেজাল্ট করে এতদূর সে এসেছে; তাই শুধুমাত্র পারিবারিক নিয়মের দোহাই দিয়ে একটা উজ্জ্বল প্রতিভাকে নষ্ট না করে তাকে তার মতো করে চলতে দেয়াই ভালো হবে। তাহলে আপনারা যেমন ভালো থাকবেন এবং সেও আপনাদের অনেক সম্মান করবে। আর যদি বেশি করে নিয়মের বেড়াজালে বাধতে চেষ্টা করেন, তবে হয়তোবা হিতে বিপরীতও হতে পারে। তাই সনাতন চিন্তাধারা থেকে বেরিয়ে এসে যুগের সঙ্গে নিজেকে পরিবর্তন করার চেষ্টা করুন। দেখবেন সবার সঙ্গে সস্পর্ক জটিল না হয়ে অনেক সহজ হয়ে যাবে এবং অনেক সুখে থাকতে পারবেন।

আরকে/এফএস

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়