নিস্তব্ধ প্রকৃতির একাকী সন্তান

প্রকাশ | ২৯ সেপ্টেম্বর ২০১৭, ১৫:১২ | আপডেট: ২৯ সেপ্টেম্বর ২০১৭, ১৫:১৮

অনলাইন ডেস্ক

স্কুল শেষে বাড়ি ফিরছে তিন বন্ধু। হঠাৎ আকাশ কালো হয়ে উঠল। বৃষ্টি নামল ধুম, বাতাসও ছিল ভীষণ। করিমের ব্যাগে ছাতা ছিল। ছাতা খুলবে কি খুলবে না? সিদ্ধান্তহীনতায় ভুগল করিম, কিন্তু তা ক্ষণিকের জন্যই। ছাতা খুলতে নিল করিম, কিন্তু আজাদ বাধা দিল। বলল, ‘পাগল তুই! এত সুন্দর বৃষ্টিতে ভিজবি না, তাই কি হয়?’

করিম ক্ষীণ স্বরে প্রতিবাদ করতে চাইলে আজাদ তার মাথায় দিল এক গাট্টা! অগত্যা বৃষ্টিতে ভিজেই ওরা রওনা হলো বাড়ির পথে। আর বৃষ্টিও বেড়ে গেল হঠাৎ। মেঠোপথ পিচ্ছিল হয়ে উঠল, সবুজ প্রকৃতি আরও সজীব হয়ে উঠল। দিগন্তবিস্তৃত মাঠ, ধানখেতের আইল, পথের ধারে ছোট্ট বনফুলের ঝোপ, তাতে না জানি কত ফুল ফুটে আছে।

বাতাসের চোখ রাঙানোতে কেঁপে কেঁপে উঠছে বাঁশঝাড়। মাটির সোঁদা গন্ধ আকুল করে দিচ্ছে তিন বন্ধুকে।

‘আরে, সবুজ কোথায়?’ বন্ধুকে হঠাৎ না দেখে চিন্তিত হলো আজাদ আর করিম। সবুজ কিছুতেই ভিজতে চাচ্ছিল না। কিন্তু এখন গেল কোথায়? হঠাৎ চোখ পড়ল মাঠের দিকে। সবুজ না? হ্যাঁ, ও-ই তো। শুয়ে আছে। ঘাসের সবুজ আর মাটির সবুজ যেন একাকার হয়ে আছে। নিস্তব্ধ প্রকৃতির একাকী সন্তান; নিশ্চুপ, স্থবির।

করিমের মনে পড়ে, এমনই এক বাদলা দিনে সবুজের মা চলে গিয়েছেন না ফেরার দেশে। ওকে ঘাঁটায় না ওরা। গিয়ে বসে পড়ে তার পাশে। অভিমানী আকাশকন্যার কান্নায় সিক্ত হয়ে তারা মিশে যায় প্রকৃতির সঙ্গে, আর সঙ্গী হয় দূরের গাছে বসা দুটো ভেজা দাঁড়কাক।

এমকে