দাদুর বাড়িতে ঈদ

প্রকাশ | ২৫ জুন ২০১৭, ১১:৫২

জুবায়ের আহম্মেদ

তাফসির ও রিমা মা-বাবার সঙ্গে ঢাকায় বসবাস করে। বয়সে পিঠাপিঠি দুই ভাই-বোন শহরের একটি স্কুলে পড়াশুনা করে। স্কুলে ঈদের ছুটি দিয়েছে সেই কবে! দুই দিন পরেই খুশির ঈদ।দুই ভাই-বোন এবার বায়না ধরেছে তারা দাদুবাড়িতেই ঈদ উদযাপন করবে। তাইতো সারাদিন নতুন জামা কেনাকাটায় ব্যাস্ত তারা। দাদার জন্য নতুন পাঞ্জাবি, দাদুর জন্য শাড়ি এবং চাচাতো ভাইবোনদের জন্য শার্ট-প্যান্ট আরও কত কি! তাফসির নিজের জন্য ৪টি শার্ট কিনেছে। ভাই এর সঙ্গে পাল্লা দিয়ে রিমাও ঠিক একই সংখ্যক নতুন জামা কিনেছে।

সন্ধ্যায় বাসায় ফিরে দুই ভাই-বোন গল্প করছে। রিমা তাফসির কে বলল, ‘জানিস ভাইয়া, দাদু না চাঁদের বুড়ির গল্প বলে। রাতে চাঁদের আলোয় আমার গল্প শুনতে অনেক ভালো লাগে।’বোনের কথার উত্তরে তাফসির বলে, ‘আমি তো দাদার কাছে মুক্তিযুদ্ধের গল্প শুনার জন্য বসে থাকি।’দুই ভাই-বোনের গল্প করতে করতে রাত ১০ টা বেজে যায়। মা তাদেরকে ধমক দিয়ে বলে, ‘ঘুমাতে যাও, ভোরে ঘুম থেকে ওঠতে হবে।’সকালে ঘুম থেকে উঠেই বাড়িতে রওনা হওয়ার জন্য তৈরি হতে লাগল দুই ভাই-বোন। অবশেষে সবাই রওনা হলো বাড়ির পথে।

তাফসির ও রিমা তো মহাখুশি । আজ অনেকদিন পর দাদু বাড়িতে বেড়াতে যাচ্ছে। ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করবে চাচাতো ভাই-বোনদের সঙ্গে। পথে তীব্র যানজট তাদেরকে কিছুটা ভুগিয়েছে। বাড়িতে পৌঁছাতে বিকেল হয়ে গেলো। সন্ধ্যায় দাদা-দাদুর সঙ্গে বসে ইফতার করল। হঠাৎ তাফসিরের মনে পড়ল তাদের দাদু বাড়িতে খেলার সাথী অনি ও অনিকার  কথা। ইফতার শেষ করে তাফসির রিমাকে বলল, ‘রিমা ,চল অনিদের ঘর থেকে ঘুরে আসি।’রিমা ভাইয়ের সঙ্গে অনিদের সঙ্গে দেখা করতে গেলো। এদিকে দু’মাস আগে তাদের বাবা পাহাড় ধসে পড়া স্থানে উদ্ধার কাজ চালাতে গিয়ে মারা যান। তাই তাদের পরিবারে ঈদের আনন্দের ছোয়া লাগেনি। বাবা নেই তাই কেনা হয়নি নতুন জামা।

অনেকদিন পর সব বন্ধুরা একসঙ্গে হয়ে গল্পগুজবে মেতে ওঠে। অনিকা বলে , ‘তাফসির ভাইয়া অনি ভাইয়া তো চিত্রাংকন প্রতিযোগিতায় প্রথম হয়েছে। ঈদের পরে শিশু একাডেমিতে চিত্রাংকন প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে যাবে।’খেলার সাথীর এমন সাফল্যে সবাই খুশি। গল্প করার এক পর্যায়ে ঈদের জামা কিনা নিয়ে কথা শুরু হয়। কিন্তু তখনই মন খারাপ হতে থাকে অনি ও অনিকার। তাদের ঈদের জামা কেনা হয়নি এবার। গল্পগুজব ও খাওয়া-দাওয়া শেষে সবাই ঘুমিয়ে পড়ে। ঈদের দিন সকালে তাফসির ঘুম থেকে ওঠে বাবার সঙ্গে গোছল করতে যায়। তখন মনে পড়ে তার বন্ধু অনির কথা। সে তার বাবাকে বলে, ‘বাবা ,অনির বাবা তো নেই তাই এবার তার ঈদের জামা কেনা হয়নি। আমার ঈদ শপিং থেকে তাকে একটি নতুন শার্ট দেই?’ ছেলের কথা শুনে বাবা বিষ্মিত হয়। বাবা বলেন, ‘অবশ্যই’। গোছল শেষ করে অনি ডেকে তাকেও একটা ঈদ জামা দেয় তাফসির। রিমাও তার বান্ধবীকে একটি জামা দেয়। তারপর বাবা, তাফসির,অনি ,দাদা ও চাচাতো ভাইয়েরা নাস্তা খেয়ে ঈদের নামাজ পড়তে যায়। এভাবেই দাদুর বাড়িতে আনন্দে ঈদ কাটায় দুই ভাই-বোন।             

এমকে