• ঢাকা মঙ্গলবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ১০ আশ্বিন ১৪২৫

দুর্ঘটনায় স্বামীর মৃত্যুর পর গর্ভ ভাড়া নিয়ে মা হলেন ভারতীয় তরুণী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক, আরটিভি অনলাইন
|  ১৯ আগস্ট ২০১৮, ২৩:১৯ | আপডেট : ১৯ আগস্ট ২০১৮, ২৩:৩৬
গৌরব আর সুপ্রিয়া। ভারতের বেঙ্গালুরুর এই দম্পতি বিয়ের পাঁচ বছর পরেও সন্তান না হওয়ায় সংরক্ষিত শুক্রাণু থেকেই আইভিএফ পদ্ধতিতে চিকিৎসা শুরু করেছিলেন। ২০১৫ সালের আগস্টে হঠাৎ দুর্ঘটনায় প্রাণ হারান গৌরব। স্বামীর মৃত্যুর পরেও সন্তানকে পৃথিবীতে আনতে সব চেষ্টাই করেছেন সুপ্রিয়া। সবশেষ মা হলেন এই তরুণী। খবর পশ্চিমবঙ্গ দৈনিক আনন্দবাজার।

এ নিয়ে সুপ্রিয়া নিজের ব্লগে তিনি লেখেন, গৌরবের সন্তানকে পৃথিবীর আলো দেখাতে সব চেষ্টাই করতে চান তিনি।

সুপ্রিয়ার ব্লগ পড়ে একজন মুম্বাইয়ের যশলোক হাসপাতালের কথা জানান তাকে। গৌরবের মৃত্যুর পর বাড়ির কারও সঙ্গে কথা না বলেই চিকিৎসা চালিয়ে যান সুপ্রিয়া। সাহায্য নেন সারোগেসির (বিকল্প মাতৃত্বের)।\

-----------------------------------------------------
আরও পড়ুন : নিউজিল্যান্ডে সন্তান জন্ম দিতে সাইকেলে করে হাসপাতালে গেলেন মন্ত্রী
-----------------------------------------------------\

বেঙ্গালুরু থেকে মুম্বাইয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন তিনি। এর আগে এই হাসপাতালেই জিন এডিটিং করে সুস্থ যমজের জন্ম দিয়েছিলেন এক তরুণী। ক্যান্সার মুক্ত হয়েছিল শিশুর জিন। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ফিরুজা পারিখের তত্ত্বাবধানে শুরু হয় চিকিৎসা। বেঙ্গালুরু থেকে সংরক্ষিত শুক্রাণু এসে পৌঁছায় মুম্বাইয়ে । তবে আইভিএফ পদ্ধতি বারবার ব্যর্থ হওয়ায় সারোগেসি পদ্ধতি ব্যবহার করেন চিকিৎসক পারিখ।

ড. পারিখ বলেন, এই পদ্ধতিতে প্রচুর হরমোন প্রয়োগের ফলে গর্ভপাতের আশঙ্কাও ছিল। বিকলাঙ্গ সন্তান জন্ম ছাড়াও ভ্রূণের মানের উপরেও প্রভাব পড়ার আশঙ্কা ছিল। কিন্তু শেষবারের মতো চেষ্টা করি। তখনই আসে সাফল্য।

সুপ্রিয়া যখন পুত্র সন্তান জন্মানোর খবর পান তখন তিনি ইন্দোনেশিয়ার বালিতে ছিলেন।

সুপ্রিয়া বলেন, সারোগেসি পদ্ধতিতে গৌরবের সন্তানের মা হতে পেরে সবচেয়ে বেশি খুশি আমি। জৈন পরিবারে এখন আনন্দের ঢল। ছেলেকে দেখতে আমার স্বামীর মতোই।

এই প্রসঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের হেনরিফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক পারিজাত সেন বলেন, প্রচলিত আইভিএফ-এ অনেক ওষুধ ও প্রচুর ইস্ট্রোজেন হরমোন ইনজেকশন প্রয়োগ করে ডিম্বাশয়ে ১০-১২ বা তারও বেশি ফলিকল বা ডিম তৈরি করা হয়। তার মধ্যে অন্তত ৫-৬টি গবেষণাগারে বিশেষ পদ্ধতিতে নিষিক্ত করে ভ্রূণ প্রস্তুত করা হয়। ২-৩টি ভ্রূণকে গর্ভে স্থাপন করা হয়। তার পরেও সাফল্যের হার হয় মাত্র ৪০-৪৫ শতাংশ।

আরও পড়ুন : 

এপি/জেএইচ

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়