• ঢাকা মঙ্গলবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ৩ আশ্বিন ১৪২৫

চৌদ্দতম জন্মদিনে ১৪ কারাবন্দিকে মুক্ত করছেন এই ভারতীয়

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
|  ১১ আগস্ট ২০১৮, ১০:১৫ | আপডেট : ১১ আগস্ট ২০১৮, ১০:২৭
প্রতীকী ছবি

ভারতের ভূপালের ছেলে আয়ুশ কিশোর এক অবিশ্বাস্য কাণ্ড করে ফেলেছেন। দশম শ্রেণিতে পড়ুয়া আয়ুশ এ বছর ১৪ বছরে পা দেয়ার পর ১৪ জন কারাবন্দিকে মুক্ত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। সাজার মেয়াদ শেষ হয়েছে কিন্তু জরিমানার অর্থ দিতে না পারায় কারাদণ্ড খাটতে হচ্ছে এমন ১৪ জনকে এবার ভারতের স্বাধীনতা দিবসে মুক্ত করবেন আয়ুশ। খবর টাইমস অব ইন্ডিয়ার।

জানা গেছে, হত্যার আসামী এই ১৪ কারাবন্দির মুক্তির জন্য ২৭ হাজার ৮৫০ রুপি দান করছেন আয়ুশ। এই ১৪ জনের মধ্যে ১২ জন ইন্দোর জেলে এবং দুইজন ভূপাল জেলে সাজা খাটছে।

পড়াশোনায় অসাধারণ কৃতিত্বের জন্য ২০১৬ সালে জাতীয় শিশু পুরস্কারজয়ী আয়ুশ অলরাউন্ড পারফরমেন্সের কারণে নিজের স্কুল থেকেও বেশ কয়েকটি বৃত্তি পেয়েছেন। বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায়ও স্বর্ণ পদক পেয়েছেন আয়ুশ।

কিন্তু এই কারাবন্দিদের মুক্তির চিন্তা কীভাবে আয়ুশের মাথায় এলো? আয়ুশ জানান, ২০১৬ সালের অক্টোবরে ভূপালে জেল ভাঙার ঘটনা আমার জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দেয়। ওইসময় জেলের একজন কনস্টেবল নিহত হয়। এর কিছুদিন পরই ওই কনস্টেবলের মেয়ের বিয়ে ছিল। তাই আমি ওই কনস্টেবলের পরিবারকে সাহায্য করতে চেয়েছিলাম। আয়ুশ বলেন, আমি মাকে বললাম আমার পুরস্কার থেকে পাওয়া ১০ হাজার রুপি ওই কনস্টেবলের মেয়ের বিয়ের জন্য দান করতে। কিন্তু আমি পরে জানতে পারি মুখ্যমন্ত্রী শিবরাজ সিং চৌহান ওই পরিবারকে সাহায্য করেছে।

মানুষকে সাহায্য করতে ছেলের আগ্রহ দেখে ভিন্ন এক পরামর্শ দেন মা অ্যাসিস্ট্যান্ট আইজি (প্লানিং ব্রাঞ্চ) বিনিতা মালবিয়া। আয়ুশ বলেন, যাদের সাজার মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও জরিমানার অর্থ দিতে ব্যর্থ হওয়ায় জেল খাটতে হচ্ছে এমন বন্দিদের মুক্তির টাকা দেয়ার পরামর্শ দেন আমার মা।
-------------------------------------------------------
আরও পড়ুন : চীনের গোপন ক্যাম্পে আটক ১০ লাখ উইঘুর মুসলিম: জাতিসংঘ
-------------------------------------------------------

আয়ুশ বলেন, চলতি বছরের জানুয়ারিতে চারজন কারাবন্দিকে মুক্ত করি। তাদের মুক্ত করানোর আনন্দ ভাষায় প্রকাশ করা যাবে না। ওই ব্যক্তিরা তাদের পরিবারের সঙ্গে মিলিত হতে পেরে অনেক খুশি হয়েছেন। তাদের আনন্দ আমাকে উৎসাহিত করে। আমি আরও কারাবন্দিকে সাহায্য করার সিদ্ধান্ত নেই। সাজার মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও কারাগারে রয়েছেন এমন একজন বন্দির সঙ্গে আমি দুই বছর আগে দেখা করি। তাকে দেখে আমি যতজনকে পারা যায় ততজনকে সাহায্য করার সিদ্ধান্ত নেই। তাদের অধিকাংশেরই জরিমানা ছয় হাজার রুপি।

আয়ুশের মা বিনিতা বলেন, নিহত কনস্টেবলের পরিবারকে সাহায্যে ছেলের আগ্রহ দেখে তাকে দমাতে চাইনি। তাই আমি ওকে কারাবন্দিদের মুক্ত করার পরামর্শ দেই। গেল জানুয়ারিতে চারজন কারাবন্দিকে মুক্ত করার পর তাদের পরিবারের সঙ্গে দেখা করে আয়ুশ। এরপর আরও মানুষকে সহায়তায় উৎসাহী হয়ে উঠেছে আয়ুশ।

আরও পড়ুন :

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়