• ঢাকা বুধবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ১১ আশ্বিন ১৪২৫

‘বাংলাদেশে সম্ভ্রমের বিনিময়ে এমবিবিএস’ মন্তব্যে নেপালি মন্ত্রীর পদত্যাগ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক, আরটিভি অনলাইন
|  ২৫ জুলাই ২০১৮, ১১:৩৫ | আপডেট : ২৫ জুলাই ২০১৮, ১২:০০
বাংলাদেশে পড়তে আসা নেপালি নারী মেডিকেল শিক্ষার্থীদের নিয়ে নেতিবাচক মন্তব্য করে চাপের মুখে পদত্যাগ করেছেন নেপালের আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী শের বাহাদুর তামাং।

মঙ্গলবার দেশটির রাজধানী কাঠমান্ডুতে এক সংবাদ সম্মেলনে আবেগাপ্লুত তামাং বলেন, এ ধরনের মন্তব্য করে আমি নৈতিক অবস্থান হারিয়েছি এবং প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা অলির কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেবো। খবর বিবিসি বাংলা, সেতোপাতির।

শুক্রবার কাঠমান্ডুতে একটি অনুষ্ঠানে তামাং দাবি করেন, বাংলাদেশে এমবিবিএস পড়তে যাওয়া নেপালি মেয়েদের সার্টিফিকেট পেতে নিজেদের বিক্রি করতে হয়।

তামাং বলেন, আমি প্রকৃত ঘটনা বলবো। আমি শুনেছি, আমাদের মেয়েরা যারা বাংলাদেশে পড়তে গেছে তাদের ডাক্তারি সার্টিফিকেট পেতে গেলে নিজেদের বিক্রি করতে হয়। আমরা আমাদের মেয়েদের বিদেশে পড়াশোনার জন্য পাঠাই। কিন্তু তারা নিজেদের বিক্রি না করে সার্টিফিকেট পায় না।

----------------------------------------------------------
আরও পড়ুন  :  প্লেবয় মডেলের মুখ বন্ধ রাখার ট্রাম্প-কোহেনের অডিও ফাঁস
----------------------------------------------------------

তবে তামাংয়ের এই মন্তব্য নেপালে তীব্র বিতর্কের সৃষ্টি করে। বিশেষ করে বাংলাদেশে পড়তে যাওয়া নেপালি শিক্ষার্থীরা মন্ত্রীর মন্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ জানায়। নেপালি শিক্ষার্থীরা বলেন, কোনও ধরনের তথ্যপ্রমাণ ছাড়াই মন্ত্রী তাদের ব্যাপারে মানহানিকর বক্তব্য দিয়েছেন।

সম্প্রতি বাংলাদেশ থেকে এমবিবিএস ডিগ্রি নিয়ে নেপাল ফিরে গেছেন ডা. রোজি মানান্ধার। তিনি বলেন, তিনি (তামাং) কি কখনও বাংলাদেশে পড়তে যাওয়া নারী শিক্ষার্থীদের কাছে এ ব্যাপারে খোঁজ নিয়েছিলেন? আমরা সেখানে কতো কষ্ট করে লেখাপড়া করি তিনি তার কিছুই জানেন না।

ডা. মানান্ধার বলেন, কোনও ধরনের প্রমাণ ছাড়াই তিনি এ কথা বলেছেন। কঠোর পরিশ্রম করেই আমি আমার সার্টিফিকেট পেয়েছি।

এদিকে কাঠমান্ডু থেকে বিবিসির সংবাদদাতা সঞ্জয় দাখাল জানিয়েছেন, মন্ত্রী প্রথমে পদত্যাগ করতে চাননি। কিন্তু পরে তার দল ক্ষমতাসীন কমিউনিস্ট পার্টি অব নেপালের ভেতরেই তার ওপর প্রচণ্ড রকমের চাপ তৈরি হয়েছে বলে মনে হচ্ছে। এ কারণেই শেষপর্যন্ত তিনি পদত্যাগ করতে বাধ্য হয়েছেন।

মন্ত্রী তামাংয়ের এই মন্তব্যের পর নেপালের সোশ্যাল মিডিয়ায় তার তীব্র সমালোচনা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে অনেকেই লিঙ্গ বৈষম্যের অভিযোগ তুলে ক্ষমা চাওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

বিবিসির নেপালি বিভাগকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে মন্ত্রী তার এই মন্তব্যের জন্যে ক্ষমাও চেয়েছেন। সিলেটের একটি মেডিকেল কলেজে পঞ্চম বর্ষে শিক্ষার্থী সাব্বু পোখারেল বলেন, নেপাল থেকে বাংলাদেশে পড়তে যাওয়া নারী শিক্ষার্থীরা কোনও ধরনের চাপের মধ্যে লেখাপড়া করে না।

পোখারেল বলেন, মন্ত্রীর এ কথা শোনার পর আমার বাবা-মা আমাকে ফোন করে এখানকার অবস্থা জানতে চেয়েছিলেন। কিন্তু এখানকার অবস্থা মোটেও সেরকম কিছু নয়। বাংলাদেশে আমরা খুব নিরাপদে আছি।

বাংলাদেশের বিভিন্ন মেডিকেল কলেজে প্রচুর বিদেশি শিক্ষার্থী লেখাপড়া করেন। তাদের মধ্যে একটা উল্লেখযোগ্য অংশ নেপালি শিক্ষার্থী।

 

আরও পড়ুন  :  

এ/পি

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়