• ঢাকা বুধবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ১১ আশ্বিন ১৪২৫

যত গর্জে তত বর্ষে না

মাজহার খন্দকার
|  ২৩ জুলাই ২০১৮, ২০:০৮ | আপডেট : ২৩ জুলাই ২০১৮, ২০:৪২
ইরানের প্রেসিডেন্ট ড. হাসান রুহানির হুমকির জবাবে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কড়া জাবাবের মাধ্যমে দুই প্রেসিডেন্ট বা দুই দেশের মধ্যকার সম্পর্ক আরও জটিল হতে চলেছে বলেই অনুমান করা যায়।

প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার ৮ বছরের শাসনামলে আমেরিকা তার আধিপত্য বিস্তারে বড় কোন যুদ্ধে জড়ায়নি। বরং বিশ্ব পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে কিছু যুগোপযোগী উদ্যোগ নিয়েছিল। শান্তি প্রতিষ্ঠার এসব উদ্যোগের ফলে বারাক ওবামা শান্তিতে নোবেল পুরস্কারও পেয়েছিলেন।

কিন্তু ক্ষমতার পট পরিবর্তনের পর বারাক ওবামার প্রতিটি উদ্যোগের বিরোধিতা করা বা তা বাতিলের সিদ্ধান্ত বিশ্ব রাজনীতি এক জটিল সমীকরণের দিকেই যাচ্ছে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।

ওবামা প্রশাসনের বিরোধিতা করে ট্রাম্পের নেয়া গুরুত্বপূর্ণ একাধিক সিদ্ধান্তের সঙ্গে তার দল রিপাবলিকান একমত হতে পারেনি। এমনকি মন্ত্রিসভার প্রভাবশালী মন্ত্রীরাও তার সাথে একমত হননি।

প্রেসিডেন্ট হবার এক সপ্তাহের মধ্যেই ট্রাম্প ট্রান্স প্যাসিফিক বাণিজ্য আলোচনা থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে প্রত্যাহার করে নেন। এছাড়া জলবায়ু পরিবর্তন ঠেকানোর প্যারিস চুক্তি থেকেও যুক্তরাষ্ট্রকে বের করে নিয়ে আসতে চান। আর ওবামার সময় অনিবন্ধিত অভিবাসীদের জন্য সুরক্ষাগুলোও তুলে নেন তিনি। এছাড়া ওবামার স্বাস্থ্য বীমা বাতিলের চেষ্টা তো আছেই। আর কিউবার ওপর ভ্রমণ বিধিনিষেধও নতুন করে আরোপ করেন।

কিন্তু ইরান বিরোধিতা বা পরমাণু ইস্যুতে ছয় জাতির সঙ্গে করা চুক্তি থেকে সরে আসার পক্ষে তখনও তিনি ছিলেন না।

তবে ইরায়েলি প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা বেড়ে যাওয়া ও ট্রাম্পের ইহুদি জামাতা জেরাড কুশনারকে তার মধ্যপ্রাচ্য বিষয় উপদেষ্টা নিয়োগ দেয়ার পর থেকে ধীরে ধীরে ট্রাম্প ইরান বিরোধী হয়ে উঠেন।  

ইরানের সঙ্গে বিবাদে জড়ানোর বিরোধিতা করে, মার্কিন মিত্র ছয়জাতি চুক্তির অংশিদার ফ্রান্স, ব্রিটেন, জার্মানি। এছাড়া সাবেক মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী রেক্স টিলারসন, জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা এইচ আর ম্যাকমাস্টার, এবং প্রতিরক্ষামন্ত্রী জেমস ম্যাটিস। টিলারসন ও ম্যাকমাস্টার ইতোমধ্যেই ট্রাম্প প্রশাসনের বাইরে চলে এসেছেন। তাদের জায়গায় এসেছেন ইরানের ব্যাপারে কট্টর নীতির সমর্থক মাইক পম্পিও এবং জন বোল্টন। জেমস ম্যাটিসের ক্ষমতাও এখন অনেকটাই কমে গেছে বলেই ধারণা করা হয়। এছাড়া ছয়জাতি চুক্তির অন্যতম রূপকার সাবেক মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরির সঙ্গে ট্রাম্পের ব্যক্তিগত বিষয়টিও যেন ফুটে উঠেছে।

বিবিসির বিশ্লেষক এ্যান্টনি জারকার মনে করেন মূলত তিনটি কারণে ট্রাম্প ইরান বিরোধী হয়েছেন।

তিনি বলেন, ইরান-চুক্তির বিরোধিতার ক্ষেত্রে ট্রাম্প যেন ব্যাপারটাকে ব্যক্তিগতভাবে নিয়েছেন। সাবেক মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরিকে তিনি নিয়মিত নানা রকম বিদ্রুপ করতেন।

তবে ইরান বিরোধিতা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জন্য কোন মঙ্গল বয়ে আনবে না বলে সম্প্রতি মন্তব্য করেছেন সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা। দক্ষিণ আফ্রিকায় ট্রাম্প প্রশাসনের প্রতি ইঙ্গিত করে এ মন্তব্য করেন।

অন্যদিকে হাসান রুহানি মনে করেন, ছয়জাতি থেকে বেরিয়ে আসা ও ইরানের সঙ্গে যুদ্ধে জড়ালে ক্ষতির পাল্লা আমেরিকারই ভারী হবে।

মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক বিশ্লেষক শন ডেভিস বলেন, যুদ্ধে জড়ালে  ইরান তার অন্যতম মিত্র রাশিয়া ও সিরিয়াকে সাথে পাবে। এছাড়া কৌশলগত দিক থেকে হরমুজ প্রণালীকে দেশটি কাজে লাগতে পারে। সিরিয়ায় গত আট বছরের গৃহযুদ্ধে বিদ্রোহীদের ইন্ধন দিয়ে যেখানে যুক্তরাষ্ট্র সুবিধা করতে পারেনি। সেখানে সিরিয়া থেকে কয়েকগুণ সামরিক শক্তিধর ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র কতটা সুবিধা করতে পারবে? এছাড়া হিসবুল্লাহ ও বিপ্লবীগার্ডসহ চতুর প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত গেরিলা বাহিনী রয়েছে ইরানের। যারা ইসরায়েল ও মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন ঘাঁটিতে অপারেশন করার ক্ষমতা রাখে।

রক্ষণশীল ওয়েবসাইট দি ফেডারেলিস্ট এর মতে, যত গর্জনই উঠুক না কেন, শেষ পর্যন্ত দুই পক্ষই চুড়ান্ত কোন পদক্ষেপ নেবে না। উত্তর কোরিয়া পরিস্থিতি সেই বার্তাই দেয়।

এমকে  

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়