• ঢাকা সোমবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ৯ আশ্বিন ১৪২৫

এন্টার্কটিকার হিমশৈল এনে পানীয় জলের সমস্যা মেটাবে আরব আমিরাত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক, আরটিভি অনলাইন
|  ০৩ জুলাই ২০১৮, ১২:১৫ | আপডেট : ০৩ জুলাই ২০১৮, ১৩:২৩
এন্টার্কটিকার সমুদ্রে ভাসমান হিমশৈল টেনে এনে পানীয় জলের সংকট মেটাতে চলেছে সংযুক্ত আরব আমিরাত। আবুধাবির একটি বেসরকারি সংস্থা দ্য ন্যাশনাল অ্যাডভাইজর ব্যুরো লিমিটেড পানীয় জলের সঙ্কট মেটানোর জন্য এই প্রকল্প নিয়েছে। সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে ২০২০ সালের মধ্যেই এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হবে বলে রোববার ঘোষণা করেছে সংস্থাটি। খবর খালিজ টাইমস।

খালিজ টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়, ইউএই আইসবার্গ প্রজেক্ট নামক এই প্রকল্পটি বাস্তবায়নে খরচ হবে আনুমানিক ৫০ মিলিয়ন ডলার। বড় বড় হিমশৈল অ্যান্টার্কটিকা থেকে সংযুক্ত আরব আমিরাতের পূর্ব উপকূলস্থ ফুজাইরাতে টেনে নিয়ে আসা হবে।
--------------------------------------------------------
আরও পড়ুন  : এবার ভারত থেকে হজে যাচ্ছেন রেকর্ড সংখ্যক মুসল্লি
--------------------------------------------------------

২০১৭ সালে এই প্রকল্পের প্রস্তাব দিয়েছিল বেসরকারি এ সংস্থাটি। তখন রাজি হয়নি সংযুক্ত আরব আমিরাত প্রশাসন। এতদিনে প্রশাসন রাজি হওয়ায় প্রকল্পের কাজ শুরু করেছে তারা।

প্রকল্প পরিচালক আল শেহি জানান, ২০১৯ সালের শেষের দিকে প্রকল্পের পরীক্ষামূলক কাজ শুরু হওয়ার কথা। তখন এন্টার্কটিকার একটা বড় মাপের হিমশৈল টেনে নিয়ে আসা হবে অস্ট্রেলিয়ার পার্থ উপকূলে বা দক্ষিণ আফ্রিকার কেপটাউনে। এই পরীক্ষামূলক পর্বে আবহাওয়া, সমুদ্রের ঢেউ এবং তাপমাত্রার প্রভাব বিবেচনা করা হবে। ঠিক কোন পথে এন্টার্কটিকা থেকে সংযুক্ত আরব আমিরাতের উপকূলে টেনে নিয়ে যেতে হবে হিমশৈল তা বুঝে নেয়া হবে এই পর্বেই।

প্রথমে হিমশৈলকে আরব আমিরাতের উপকূলে নিয়ে যাওয়া হবে। তারপর তার থেকে বরফ ভেঙে গলিয়ে পানিতে রূপান্তর করা হবে। সেই জল বিশালাকার ট্যাঙ্কে সংরক্ষণ করা হবে। প্রয়োজন অনুযায়ী, পরিশোধন করে পানীয় জল হিসেবে ব্যবহার করা হবে। পানীয় জল ছাড়া আরও একটি সুফল রয়েছে এই প্রকল্পের। দেশের উপকূলে এমন ভাসমান হিমশৈল থাকলে তা পর্যটনের প্রসারও ঘটাতে পারে।

প্রতিবেদনে আরও জানা যায়, আন্তর্জাতিক আইনের ‘দ্য হাই সি কোড’অনুযায়ী, হিমশৈল প্রয়োজনে যে কোনও বেসরকারি সংস্থা ব্যবহার করতে পারে। পৃথিবীর যে কোনও জায়গায় নিয়ে যাওয়াও যায়।

এজন্য সরকারের কোনও অনুমোদনেরও প্রয়োজন নেই। এ ক্ষেত্রে শুধু এটাই মাথায় রাখতে হয়, এন্টার্কটিকায় কোনও হিমশৈল ভাঙা যাবে না।

আল শেহি খালিজ টাইমসকে জানান, আমরা আইন মেনেই কাজ করছি। হিমশৈলকে এন্টার্কটিকা থেকে ৩,০০০ মাইল দূরে টেনে নিয়ে এসে তারপর সেটা ভাঙবো।

সংযুক্ত আরব আমিরাতে পানীয় জলের সমস্যা প্রবল। এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে সেই সমস্যা থেকে অনেকটাই মুক্তি মিলবে বলে মনে করেন ওই সংস্থার ম্যানেজিং ডিরেক্টর আবদুল্লা মুহাম্মেদ আল শেহি। শুধু ওই দেশই নয়, জাতিসংঘের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০৩০ সালের মধ্যেই পৃথিবীর ৫০ শতাংশ মানুষ জলকষ্টে ভুগবেন। অথচ এন্টার্কটিকায় সঞ্চিত বিপুল বরফ প্রকৃতপক্ষে সারা বিশ্বের মোট ৬০ শতাংশ স্বাদুপানি ধরে রেখেছে। বৈশ্বিক উষ্ণায়নের জন্য যা ইতোমধ্যেই গলতে শুরু করেছে এবং বিজ্ঞানীদের সতর্কবার্তা, এইভাবে বরফ গলতে শুরু করলে বন্যা পরিস্থিতির সম্ভাবনা রয়েছে। 

আরও পড়ুন  : 

কেএইচ/পি

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়