• ঢাকা সোমবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ৯ আশ্বিন ১৪২৫

সমঝোতার ভিত্তিতেই রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নেয়া হবে: সু চি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
|  ০৯ জুন ২০১৮, ১৪:১৩ | আপডেট : ০৯ জুন ২০১৮, ১৪:২৩
ফাইল ছবি
রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সহায়তা নিতে সম্মত মিয়ানমার। গেলো ৭ জুন জাপানের সংবাদমাধ্যম আশাহি শিমবুনকে দেয়া এক একান্ত সাক্ষাৎকারে মিয়ানমারের রাষ্ট্রীয় উপদেষ্টা অং সান সু চি এমনটাই জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, আইন বিশেষজ্ঞসহ বিভিন্ন বিদেশি পরামর্শকদের সহায়তা নিতে আপত্তি নেই মিয়ানমারের। অতীতের ধারাবাহিকতায় ওই সাক্ষাৎকারেও বাংলাদেশ-মিয়ানমার সমঝোতার ভিত্তিতেই মিয়ানমার রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নেয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন সু চি। এসময় তিনি রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন উৎসাহিত করার প্রতিশ্রুতিও দেন।

গেলো বছরের আগস্টে রাখাইনে নিরাপত্তা বাহিনীর চৌকিতে আরসার হামলার পর সেখানে অভিযান শুরু করে মিয়ানমার সেনাবাহিনী। খুন, ধর্ষণ ও অগ্নিসংযোগের মুখে বাংলাদেশে পালিয়ে আসে প্রায় সাত লাখ রোহিঙ্গা। আন্তর্জাতিক চাপ জোরালো হওয়ার এক পর্যায়ে প্রত্যাবাসন চুক্তিতে বাধ্য হয় মিয়ানমার। তবে সেই চুক্তির পর বেশ খানিকটা সময় পেরিয়ে গেলেও এখনও ধোঁয়াশা কাটছে না।
--------------------------------------------------------
আরও পড়ুন : চার্চিলের দর্জির দোকানের নিচে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের লুকানো অর্থ উদ্ধার
--------------------------------------------------------

প্রত্যাবাসনের বিষয়ে সু চি বলেন, বাংলাদেশের সঙ্গে যে সমঝোতা হয়েছে আমরা তার ভিত্তিতেই এগোচ্ছি। তবে এর আগেও রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নেয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন সু চি।

কিন্তু প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে রোহিঙ্গারা রাখাইনে থাকলেও মিয়ানমার তাদের নাগরিক বলে স্বীকার করে না। উল্টো রাখাইনে যে অভিযান চলছে সেটির  সমর্থন করে মিয়ানমারের সাধারণ মানুষও।

এদিকে রাখাইনে রোহিঙ্গা নিধনযজ্ঞের ঘটনায় আন্তর্জাতিক আদালতে মিয়ানমারের বিচার করা যায় কিনা, তা নিয়ে বিচারকের পর্যবেক্ষণ জানতে চেয়েছেন ওই আদালতেরই একজন কৌঁসুলি। নিধনযজ্ঞের ঘটনায় ন্যায়বিচার নিশ্চিতে সম্প্রতি ৪০০ রোহিঙ্গার পক্ষে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন মানবাধিকার আইনজীবীরা। যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন ইউরোপীয় দেশও মিয়ানমারকে চাপ দিয়ে যাচ্ছে সংকট নিরসনের। এমন প্রেক্ষিতে প্রথমবারের মতো রোহিঙ্গা নিধনযজ্ঞের ঘটনায় নিরপেক্ষ আন্তর্জাতিক তদন্ত কমিশন গঠনের ঘোষণা দিয়েছে নেইপিদো।

সু চি বলেন, আমরা মনে করি তদন্ত কমিশনটি আমাদের পরামর্শও দিতে পারবে, যা দীর্ঘ মেয়াদে রাখাইনে পরিস্থিতির উন্নয়নে সহায়ক হবে। রাখাইনের বৌদ্ধ ও রোহিঙ্গাদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে গড়ে ওঠা অবিশ্বাসের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেছেন, সেখানে শান্তি ‘রাতারাতি অর্জন করা সম্ভব নয়।’

অন্যদিকে রোহিঙ্গারা মিয়ানমারে ফিরে আবারও আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কার বিষয়ে সু চি বলেন, আমাদেরকে সব নাগরিকদেরই নিরাপত্তা দিতে পারতে হবে, বিশেষ করে স্পর্শকাতর স্থানগুলোতে। সেজন্য আমরা কমিউনিটি পুলিশিংয়ের ওপর জোর দিচ্ছি এবং নিরাপত্তা বাহিনীর যথাযথ প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করছি।

আর জাতিগত সমস্যাগুলোর সমাধানে তার সরকারের ভূমিকার ব্যাপারে মিয়ানমারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সু চি বলেন, একটা ঘটনাকে ভিন্ন ভিন্ন দিক থেকে দেখা যায়। তারা তাদের মতো করে ব্যাখ্যা করেছেন। তবে আমাদের অনুধাবন তাদের চেয়ে ভিন্ন।

আরও পড়ুন : 

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়