মিয়ানমারে ঘৃণা ছড়াচ্ছে ফেসবুক

প্রকাশ | ১৪ মার্চ ২০১৮, ১৫:১৬ | আপডেট: ১৪ মার্চ ২০১৮, ১৫:৩৩

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মিয়ানমারে রোহিঙ্গা মুসলিমদের বিরুদ্ধে ঘৃণা ছড়ানোয় ফেসবুকের ‘প্রভাবশালী ভূমিকা’ রয়েছে বলে অভিযোগ করেছে জাতিসংঘ। গণহত্যার অভিযোগ তদন্তকারী জাতিসংঘের টিম বলছে, রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে নেতিবাচক মনোভাব তুলে ধরতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার করা হয়েছ। খবর টেলিগ্রাফ, বিবিসির।

রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে ঘৃণা ও অসন্তোষ এবং দ্বন্দ্ব ছড়ানোর ক্ষেত্রে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উল্লেখযোগ্য অবদান রয়েছে। বলেছেন মিয়ানমার বিষয়ক জাতিসংঘের স্বাধীন ফ্যাক্ট-ফাইন্ডিং মিশনের চেয়ারম্যান মারজুকি দারুসমান।

সোমবার মিশনের অন্তর্বর্তীকালীন রিপোর্ট উপস্থাপন করতে গিয়ে তিনি বলেন, ঘৃণামূলক বক্তব্য এর একটি কারণ। তবে যদি মিয়ানমারের কথা বলি, তাহলে সেখানে সামাজিক মাধ্যম হচ্ছে ফেসবুক এবং ফেসবুকই সামাজিক মাধ্যম।

এর আগে ফেসবুক জানিয়েছিল, তারা ঘৃণামূলক বক্তব্যের কন্টেন্ট সরিয়ে ফেলতে কাজ করে যাচ্ছে। আর যারা এ ধরনের কন্টেন্ট পোস্ট বা শেয়ার করে তাদের ফেসবুক থেকে বের করে দেয়া হচ্ছে।

বিবিসিকে মঙ্গলবার ফেসবুক জানিয়েছে, তাদের প্লাটফর্মে ‘ঘৃণামূলক বক্তব্যের কোনো জায়গা নেই’। 

ফেসবুকের একজন মুখপাত্র বলেছেন, আমরা এ ধরনের অভিযোগকে গুরুত্ব সহকারে নেই। নিরাপদ কন্টেন্ট ও ঘৃণামূলক বক্তব্য প্রচার ঠেকাতে মিয়ানমারের বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে মিলে বেশ কয়েক বছর ধরেই আমরা কাজ করে যাচ্ছি।

যদিও জাতিসংঘে মিয়ানমারের তদন্তকারী ইয়াংহি লি অভিযোগ করেছেন, ফেসবুক সেখানে খুব বড় বিষয়। দেশটির সরকার ফেসবুক ব্যবহার করে তথ্য ছড়িয়ে দিয়েছে।

তিনি বলেন, মিয়ানমারে সবকিছু ফেসবুকের মাধ্যমে করা হয়েছে। এমনকি ঘৃণামূলক বক্তব্য ছড়িয়ে দেয়ার ক্ষেত্রেও ফেসবুকের ভূমিকা রয়েছে।

লি বলেন, সরকারি বার্তা ছড়িয়ে দেবার জন্য ফেসবুক ব্যবহার করা হয়েছে। কিন্তু আমরা জানি অতিমাত্রায় জাতীয়তাবাদী বৌদ্ধদের নিজেদের ফেসবুক অ্যাকাউন্ট রয়েছে। সেগুলো ব্যবহার করে রোহিঙ্গা ও অন্যান্য উপজাতি সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে সহিংসতা ও ঘৃণা ছড়ানো হয়েছে।

আমি আশঙ্কা করছি ফেসবুক এখন একটি দানব হয়ে উঠেছে। যদিও এটি তাদের প্রাথমিক লক্ষ্য ছিল না।

উল্লেখ্য, গেলো বছরের ২৫ আগস্ট রাখাইনের মিয়ানমার সেনাবাহিনীর ক্লিয়ারেন্স অভিযান শুরু হলে প্রায় সাত লাখ রোহিঙ্গা প্রতিবেশী বাংলাদেশে পালিয়ে আসে।

আরও পড়ুন:

এ/পি