• ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ৫ আশ্বিন ১৪২৫

ব্রিটেনে এক শরণার্থীর গল্প...

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
|  ১৭ জানুয়ারি ২০১৮, ১২:১৮ | আপডেট : ১৭ জানুয়ারি ২০১৮, ১২:৩০
সুখপাল সিং আলুওয়ালিয়া অভিবাসনের শক্তি সম্পর্কে খুব ভালোভাবেই জানেন। উগান্ডায় ব্রিটিশ সাম্রাজ্য যখন জনপ্রিয়তার চূড়ান্ত পর্যায়ে তখনই তার জন্ম। কিন্তু ১৯৭২ সালে তিনি উগান্ডা ছাড়তে বাধ্য হন। তার নতুন আবাস হয় ব্রিটেন।

১৯ বছর বয়সে লন্ডনে ধুঁকতে থাকা একটি অটোপার্টস ব্যবসা কিনে নেন সুখপাল। ইউরো কার পার্টস নামের ওই প্রতিষ্ঠানটি ২০১১ সালে ৩৭৫ মিলিয়ন ডলারে বিক্রি করেন তিনি। তবে এর আগে কয়েক হাজার ব্যক্তির কর্মসংস্থান সৃষ্টি করেছেন সুখপাল।

তবে ব্রিটেন সম্প্রতি অভিবাসীদের সংখ্যা কমিয়ে আনার যে পদক্ষেপ নিয়েছে, সেটির ব্যাপারে সোচ্চার হচ্ছেন তিনি। এক সময়ের এই শরণার্থী মানুষজনকে অভিবাসনের অর্থনৈতিক সুবিধা বোঝানোর চেষ্টা করছেন।

--------------------------------------------------------
আরও পড়ুন: ভারতে হজ ভর্তুকি তুলে নিলো সরকার
--------------------------------------------------------

তিনি বলেন, আমি বিশ্বাস করি ব্রিটেনের মেরুদণ্ড হচ্ছে অভিবাসীরা। আমাদের এটা কখনই ভুলে যাওয়া উচিত হবে না।

১৯৫৮ সালের উগান্ডায় জন্মগ্রহণ করেন সুখপাল। ওইসময় সাবেক ব্রিটিশ কলোনিতে দক্ষিণ এশিয়ার অনেক পরিবার রেলওয়ে ও অন্যান্য অবকাঠামোতে কাজ করতে সেখানে পাড়ি জমায়। নতুন এই দেশে এসে অনেকেই বেশ উন্নতি করেন। এমনকি দেশটির অর্থনীতিতে বড় ধরনের ভূমিকা রাখা শুরু করেন।

সুখপাল বলেন, আমরা খুব ভালো করছিলাম। আমাদের বেড়ে ওঠার পরিবেশটা ছিল বেশ দারুণ।

তবে ১৯৭১ সালে এক অভ্যুত্থানে সেনাবাহিনীর কমান্ডার ইদি আমিন ক্ষমতা দখল করে নেয়। পরের সময়টা ইতিহাস। তার শাসনামল ছিল আফ্রিকার ইতিহাসের অন্যতম একটি রক্তাক্ত একটা সময়।

সুখপাল আরও বলেন, ইদি আমিন একটা পাগল লোক। একদিন তিনি ঘোষণা দিলেন দক্ষিণ এশিয়ার এই উগান্ডার নাগরিকরা দেশের জন্য খারাপ। তারা ব্রিটিশদের এজেন্ট। তাদেরকে দেশ থেকে বের করে দিতে হবে। ওই ঘোষণার মাত্র ৩০ দিনের মধ্যে আমাদের উগান্ডা ছাড়তে হয়েছিল।

দুই ভাই, বাবা-মাসহ সুখপাল ব্রিটেনে চলে আসেন। ছোট একটা ঘরে জায়গা হলেও সুখপালের খুব একটা সময় লাগেনি ভাগ্য বদলাতে। 

সুখপাল বলেন, আমি ব্রিটিশদের উদারতা ও আর্দ্র হৃদয়ের কথা কখনও ভুলতে পারবো না। বিপদের সময় তারা এগিয়ে আসে এবং সাহায্যে জন্য হাত বাড়িয়ে দেয়। তারা নিজেদের নিয়ে ভাবে না।

মাত্র এক বছরের মাথায় নিজেদের অ্যাপার্টমেন্টে উঠে যায় সুখপালের পরিবার।

তবে ব্রিটেনের স্কুল খুব একটা ভালো লাগেনি সুখপালের। তাই লন্ডনের রাস্তার পাশে দোকানে গিয়ে কাজ করা শুরু করেন তিনি।

তিনি বলেন, যখন আপনি নিঃস্ব তখন আপনাকে পুরোটাই দিতে হবে। রাস্তার মার্কেটে কাজ করে আমি ব্যবসায়িক দক্ষতা ও লেনদেনের বিষয়গুলো খুব ভালোভাবে শিখেছি।

১৯৭৮ সালে মাত্র ১৯ বছর বয়সে ইউরো কার পার্টস কিনে নেন সুখপাল। সাড়ে সাত হাজার ডলার লোন নিয়ে ডুবন্ত একটি কোম্পানিকে টেনে তোলেন তিনি।

তিনি বলেন, আমি গাড়ির পার্টস সম্বন্ধে কিছুই জানতাম না। কিন্তু আমি কঠোর পরিশ্রম করেছি। আগের মালিক নয়টা থেকে পাঁচটা পর্যন্ত কাজ করতেন। কিন্তু আমি সাতটা থেকে ধরে গ্রাহকের চাহিদা অনুযায়ী কাজ করেছি।

এক পর্যায়ে তিনি লন্ডনের বিভিন্ন স্থানে এমনকি পুরো যুক্তরাজ্য জুড়ে তার ব্যবসার প্রসার ঘটান।

প্রথমে ১০, পরে ৫০, তারপর ১০০ জন। শুরুর দিকে আস্তে আস্তে লোক বাড়ছিল। পরে লোক নিয়োগে পাচ্ছিল রোলার কোস্টারের গতিতে।

ইউরো কার পার্টস ২০১১ সালে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছায়। যুক্তরাজ্য জুড়ে ৮৯টি স্থানে শাখা খোলে ইউরো কার পার্টস। এসময় প্রতিষ্ঠানটিতে কর্মীর সংখ্যা ছিল সাড়ে তিন হাজার। পরে সুখপাল এটিকে মার্কিন অটোপার্টস কোম্পানি এলকেকিউ করপোরেশনের কাছে বিক্রি করেন।

সুখপাল বলেন, আমি এখন ছয়-সাতটি কোম্পানিতে বিনিয়োগ করেছি। আমি এখন একজন সিরিয়াল উদ্যোক্তা।

বর্তমানে ডমিনভস গ্রুপের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন সুখপাল। তার তিন ছেলে এখন এই রিয়েল এস্টেট ব্যবসা দেখাশোনা করেন।

সুখপালের প্রতিষ্ঠান দাতব্য কাজও করে থাকে। ভবিষ্যতে ভারতে নিজের পূর্বপুরুষদের ভিটেমাটিতে ফিরতে চান সুখপাল।

তিনি বলেন, আমি কঠিন সময়গুলো ভুলে যেতে চাই। মনে রাখতে চাই শুধু ভালো সময়গুলো।

আরও পড়ুন

এ/পি

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়