ট্রাম্পের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে প্রশ্ন

প্রকাশ | ০৫ জানুয়ারি ২০১৮, ১৬:০২

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মার্কিন কংগ্রেসের অন্তত ডজনখানেক সদস্যকে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে ব্রিফ করেছেন একজন মনোবিজ্ঞানী। ইয়েল বিশ্ববিদ্যালয়ের ওই অধ্যাপক যাদের ব্রিফ করেছেন তাদের অধিকাংশই ডেমোক্রেট দলের সদস্য।

ওই ব্রিফটি করেছেন ‘দ্য ডেঞ্জারাস কেস অব ডোনাল্ড ট্রাম্প: টুয়েন্টি সেভেন সাইক্রিয়েট্রিস্টস অ্যান্ড মেন্টাল হেলথ এক্সপার্টস অ্যাসেসেস অ্যা প্রেসিডেন্ট’-এর এডিটর ডা. ব্যান্ডি লি। মার্কিন গণমাধ্যম জানাচ্ছে, গেলো মাসের ৫ ও ৬ তারিখ ওই ব্রিফ করেন লি।

লি বলেন, প্রেসিডেন্টের আচরণ ও মানসিক স্বাস্থ্য দেশের জন্য যে বিপজ্জনক সেটি নিয়েই আইনপ্রণেতারা উদ্বিগ্ন।

তিনি আরো বলেন, ডেমোক্রেটদের মধ্যে এই ভীতিটা সর্বজনীন। তবে পুরো বিষয়টা নির্ভর করছে রিপাবলিকানদের ওপর।

রাজনৈতিক সাময়িকী পলিটিকো জানাচ্ছে, ক্যাপিটল হিলকে লি যে বিষয়টা বলেছেন সেটা হচ্ছে, প্রেসিডেন্ট সব কিছু গুলিয়ে ফেলছেন। আমরা সেটির লক্ষণই দেখতে পাচ্ছি।

পলিটিকোকে দেয়া সাক্ষাৎকারে লি বলেন, ট্রাম্প আবারো ষড়যন্ত্র তত্ত্বের দিকে অঙ্গুলি নির্দেশ করবেন। আগে যা করেছেন এমন বিষয় অস্বীকার করবেন। আর সহিংস ভিডিওর প্রতি আরো আকৃষ্ট হয়ে পড়বেন।

লি আরো বলেন, কোনো একটি ঘটনায় তার তাৎক্ষণিক টুইট করার প্রবণতা দেখে মনে হচ্ছে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প চাপে ভেঙে পড়ছেন। প্রেসিডেন্সির চাপে তার অবস্থা আরো খারাপ হবে এবং তাকে দমিয়ে রাখা যাবে না।

ওই ব্রিফে একজন রিপাবলিকান সদস্যও ছিলেন। তবে লি তার পরিচয় প্রকাশ করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সম্পর্কে লির বিশ্লেষণ আমেরিকান সাইক্রিয়েট্রিক অ্যাসোসিয়েশনের গোল্ডওয়াটার রুলের পরিপন্থী। ওই রুলে বলা হয়েছে, কোনো পাবলিক ফিগারের কেস ব্যক্তিগতভাবে বিচার বিশ্লেষণ না করে পেশাদার মতামত দেয়া যাবে না।

তবে হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র সারাহ স্যান্ডার্স এ ধরনের মন্তব্যকে ‘অপমানজনক ও হাস্যকর’ বলে উল্লেখ করেছেন।

সারাহ বলেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প যদি ‘অযোগ্য হতেন, তাহলে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে এখন পর্যন্ত রিপাবলিকানদের সবচেয়ে যোগ্য প্রার্থীদেরকে তিনি পরাজিত করতে পারতেন না।

এদিকে ৫৭ জন ডেমোক্রেট হাউজ অব রিপ্রেজেনটেটিভসে একটি বিল উত্থাপন করছেন যা প্রেসিডেন্টের ‘মানসিক বা শারীরিক অযোগ্যতা’ নির্ধারণে একটি কমিশন গঠনে করতে সাহায্য করবে।

মার্কিন সংবিধান অনুযায়ী দুই প্রক্রিয়ায় প্রেসিডেন্টকে ক্ষমতাচ্যুত করা যায়। প্রথম প্রক্রিয়া হচ্ছে প্রেসিডেন্টের অভিশংসনে কংগ্রেসে ভোটাভুটি অনুষ্ঠিত হবে। পরে সিনেটও এ বিষয়ে ভোটাভুটির মাধ্যমে প্রেসিডেন্টকে অপসারণ করা হবে।

আর দ্বিতীয় ধাপটি হচ্ছে সংবিধানের ২৫তম সংশোধনী। সেখানে বলা হয়েছে, যদি ভাইস প্রেসিডেন্ট ও মন্ত্রিসভার অধিকাংশ সদস্য মনে করেন প্রেসিডেন্ট অযোগ্য তাহলে ভাইস প্রেসিডেন্ট ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেবেন।

এ/পি