• ঢাকা বুধবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ৪ আশ্বিন ১৪২৫

রাখাইনে ধর্ষণের বিষয় এড়িয়ে গেলেন সু চি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
|  ২৭ ডিসেম্বর ২০১৭, ১৪:৩৭
মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গাদের ওপর সেনা, পুলিশ ও বৌদ্ধ মিলিশিয়াদের পরিচালিত বর্বর নির্যাতন, হত্যা ও ধর্ষণের মতো ঘটনায় বিভিন্ন সময় উদ্বেগ প্রকাশ হলেও দেশটির কর্তৃপক্ষ বিষয়টিকে কোনো আমলে নেয়নি।

এ ধারাবাহিকতায় সম্প্রতি জাতিসংঘের বিশেষ দূত প্রমিলা প্যাটেনের সঙ্গে এক আলোচনায় দেশটির সংখ্যালঘু রোহিঙ্গা মুসলিম নারীদের ওপর যে যৌন সহিংসতা চালানো হয়েছে, সে বিষয়ে কথা বলতে চাননি মিয়ানমারের স্টেট কাউন্সিলর অং সান সু চি।

জাতিসংঘ মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেসের কাছে জমা দেয়া এক প্রতিবেদনে এসব কথা বলেছেন প্রমিলা প্যাটেন।

গার্ডিয়ান জানায়, জাতিসংঘের যুদ্ধ বা সংঘর্ষে যৌন হয়রানি বিষয়ক এ বিশেষ প্রতিনিধি চলতি মাসের মাঝামাঝি মিয়ানমার সফর করেন। 

এ সময় তিনি সু চি ছাড়াও দেশটির সেনাবাহিনী ও অন্যান্য কর্মকর্তার সঙ্গে বেশ কিছু বৈঠক করেন। তার ভিত্তিতেই তিনি ওই প্রতিবেদন তৈরি করেন।

প্রমিলা প্যাটেন বলেন, মিয়ানমার সেনা, সীমান্ত পুলিশ এবং বৌদ্ধ মিলিশিয়ারা রাখাইন রাজ্যে যে ব্যাপক ও বিশেষ কায়দায় যৌন সহিংসতা চালিয়েছে, সে ব্যাপারে বাস্তব কোনো আলোচনায় যেতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন অং সান সু চি।

গত সপ্তাহে মহাসচিবের কাছে জমা দেয়া প্রতিবেদনে প্রমিলা বলেছেন, এটি ছিল সৌজন্য সাক্ষাৎকার (সু চি)। কিন্তু দুঃখজনক হল- প্রায় পৌনে এক ঘণ্টার সাক্ষাতে বাস্তব কোনো বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়নি।

প্যাটেন বলেন, এ ব্যাপারে সরাসরি আলোচনায় না গিয়ে সু চি বলেছেন- অন্যান্য শীর্ষ কর্মকর্তার সঙ্গে আপনার এ ব্যাপারে আরও অনেক ভালো বৈঠক হবে।

গত ২৫ আগস্ট রোহিঙ্গাদের ওপর মিয়ানমার সেনাবাহিনী, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য ও দেশটির বৌদ্ধ মিলিশিয়াদের পরিচালিত অভিযানে এখন পর্যন্ত ৬ লাখ ৫৫ হাজারের বেশি রোহিঙ্গা বাংলাদেশে পালিয়ে এসেছে। 

আবাসন, আবাদি জমিসহ দুই শতাধিক রোহিঙ্গা গ্রাম জ্বালিয়ে দেওয়া হয়েছে। কিন্তু মিয়ানমার সরকার ও সেনাবাহিনী তাদের কৃতকর্ম অস্বীকার করে যাচ্ছে। 

জাতিসংঘ এই বর্বর অভিযানকে রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে ‘জাতিগত নিধন’ বলে অভিহিত করেছে।

ওয়াই/পি

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়