• ঢাকা রবিবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ৮ আশ্বিন ১৪২৫

হঠাৎ অ্যাকাউন্টে আসে ৩৫ লাখ ডলার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
|  ০১ ডিসেম্বর ২০১৭, ১৭:২৩ | আপডেট : ০১ ডিসেম্বর ২০১৭, ১৭:৪৯
একদিন ব্যাংক অ্যাকাউন্ট চেক করে দেখলেন অ্যাকাউন্টে ৩৫ লাখ মার্কিন ডলার। কি করবেন তখন? কিন্তু এমনই এক ঘটনা ঘটেছে সিডনি বিশ্ববিদ্যালয়ের এক সাবেক শিক্ষার্থীর সঙ্গে। একসঙ্গে এতো টাকা পেয়ে ‍ধুম খরচও করেছেন তিনি। কিনেছেন দামী সব ব্র্যান্ডের পণ্য। অ্যাকাউন্টে টাকা আসার পরবর্তী ১১ মাসে তিনি হার্মেস, চ্যানেল, দিওয়র ব্র্যান্ড থেকে পণ্য কিনেছেন। খবর চ্যানেল নিউজ এশিয়ার।

ঘটনাটা ঘটেছে ২০১৪ সালে। সে বছর জুনে দুর্ঘটনাবশত চৌত্রিশ লাখ ৮০ হাজার মার্কিন ডলার ক্রিস্টিন জিয়া জিন লি নামে ওই শিক্ষার্থীর অ্যাকাউন্টে ঢুকে যায়। ২১ বছর বয়সী মালয়েশীয় লি যখন বিষয়টি বুঝতে পারেন তখন তিনি নামীদামী সব ব্র্যান্ডের হ্যান্ডব্যাগ, কাপড় এবং বিভিন্ন ফ্যাশন সামগ্রী কেনা শুরু করেন।

কিন্তু পুরো বিষয়টি ব্যাংকের কাছে ধরা পড়ে ১১ মাস পর। কেননা লি তার পেপ্যাল অ্যাকাউন্টে একদিনে দশ লাখ ১৫ হাজার অস্ট্রেলিয়ান ডলার ট্রান্সফার করে। এতেই ব্যাংক কর্তৃপক্ষ বুঝতে পারে যে কোথাও একটা ভুল হয়েছে।

পরে মালয়েশিয়ায় যাওয়ার সময় সিডনি বিমানবন্দর থেকে ৪ মে, ২০১৬ সালে তাকে আটক করা হয়।

লিকে উদ্ধৃত করে সিডনি মর্নিং হেরাল্ড তখন জানিয়েছিল, সে মনে করেছিল যে ওই অর্থ তার বাবা-মা তাকে পাঠিয়েছে।

লির বিরুদ্ধে ধোঁকা দিয়ে অসৎভাবে আর্থিক সুবিধা নেয়া ও সেটি জেনেও ওই অর্থ খরচের অভিযোগ গঠন করা হয়। কিন্তু লিকে আদালতে তোলা হলে আদালত জানায় তিনি হয়তো আইন নাও ভেঙে থাকতে পারেন।

তবে আদালত এক রায়ে ৩৫ লাখ ডলার বেহাত খরচ করেছেন এমন অভিযোগ থেকে অব্যাহতি দিয়েছেন লিকে।

গেলো বছরের এপ্রিলে লি দিওয়র ও হার্মেসের পণ্যগুলো ফেরত দেয়। যেগুলোর মূল্য প্রায় ১০ লাখ অস্ট্রেলিয়ান ডলার। ওই বছরই মে মাসে দেশটির সুপ্রিম কোর্ট বাকি ৩৫ লাখ অস্ট্রেলিয়ান ডলার আদায়ে লির স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি ক্রোক করার নির্দেশ দেয়।

এদিকে লির আইনজীবী হুগো অ্যাশটন জানিয়েছেন, অভিযোগ থেকে মুক্তি পাওয়ায় ‘নিশ্চিতভাবেই লি এখন স্বস্তিবোধ করছেন’।

তিনি আরো বলেন, এ মামলা আমাদের শিখিয়েছে যে অ্যাকাউন্ট ব্যবস্থাপনায় ব্যাংকগুলোর আরো সতর্ক হওয়া উচিত। 

ওয়েস্টপ্যাক ব্যাংকের একজন মুখপাত্র জানিয়েছেন, অর্থ উদ্ধারে আমরা ‘সম্ভাব্য সব পদক্ষেপই’ হাতে নিয়েছি। আর এ জন্য আমরা প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থাই মাথায় রেখেছি।

ওই মুখপাত্র আরো জানিয়েছেন, লির বিরুদ্ধে আদালত ও পুলিশ যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে সেটি তাদের ব্যাপার। তবে আমরা তাদের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানাই।

এ/এমকে 

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়