close
ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২৩ নভেম্বর ২০১৭ | ০৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৪

চার শর্তে রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নেবে মিয়ানমার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
|  ১১ নভেম্বর ২০১৭, ২০:৪০ | আপডেট : ১২ নভেম্বর ২০১৭, ০৯:১৬
রাখাইনে নির্যাতনের মুখে বাংলাদেশে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিতে চারটি শর্ত জুড়ে দিয়েছে মিয়ানমার। নীতিগতভাবে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গাদের রাখাইনে ফিরিয়ে নিতে আপত্তি নেই বলেও জানিয়েছে দেশটি।

যেসব রোহিঙ্গা মিয়ানমারে দীর্ঘদিন বসবাসের প্রমাণপত্র দাখিল করতে পারবেন, স্বেচ্ছায় রাখাইনে ফিরতে চাইবেন, পরিবারের কেউ মিয়ানমারে রয়েছেন তেমন প্রমাণ দেখাতে পারবেন এবং বাংলাদেশে কোনো শিশুর জন্ম হলেও তার বাবা-মা উভয়েই মিয়ানমারের স্থায়ী বাসিন্দা প্রমাণিত হলে তাদের ফিরিয়ে নেয়া হবে। যারা এই চার শর্ত পূরণ করতে পারবেন, শুধু তাদের ফেরত নেয়া হবে।

তবে এরই মধ্যে এই চার শর্ত নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। অনেকেই বলছেন, বাড়িঘর পুড়িয়ে দেয়ার পর প্রাণ বাঁচাতে যারা দেশ ছেড়েছেন, তাদের কাছে কী আর এই সব তথ্য-প্রমাণ থাকবে?

শুক্রবার ইয়াঙ্গুনে ‘ভারত-মিয়ানমার সম্পর্কের আগামী দিন’ শীর্ষক এক আন্তর্জাতিক সম্মেলনে রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিতে মিয়ানমারের স্টেট কাউন্সেলর অং সান সু চির চারটি শর্ত তুলে ধরে মিয়ানমার।

সম্মেলনে মিয়ানমারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের স্থায়ী সচিব ইউ কিইয়াও জেয়া বলেন, রাষ্ট্রীয় উপদেষ্টা অং সান সু চি গত ১২ অক্টোবর এ নিয়ে দেশের নীতিগত অবস্থান স্পষ্ট করেছেন। এ বিষয়ে পুনর্বাসন ও উন্নয়নের কাজও শুরু হচ্ছে।

ইউ কিইয়াও জেয়া বলেন, স্কুলে পড়া, হাসপাতালে চিকিৎসা ও চাকরির নথির মতো কিছু প্রমাণ তো দেখাতেই হবে। না হলে ফেরত নেয়াটা মুশকিল এবং এই প্রক্রিয়া সময়সাপেক্ষও!

এদিকে রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নেয়ায় এত কড়া শর্তের ব্যাপারে ওই কূটনীতিক বলেন, রাখাইন প্রদেশে রোহিঙ্গা সমস্যা কেবল মানবিক বিষয় নয়। নিরাপত্তাও একটা বড় কারণ।

তিনি বলেন, সু চি ক্ষমতায় এসে মানবিকতার খাতিরে কফি আনান কমিশন গঠন করেছেন। রাখাইনে পুনর্বাসন-উন্নয়নের কাজ হাতে নিয়েছেন।

আন্তর্জাতিক সম্মেলনে সম্মেলনে এছাড়া যোগ দিয়েছেন ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থা রিসার্চ অ্যান্ড অ্যানালিসিস উইংয়ের(‘র’) সদ্য অবসরে যাওয়া প্রধান রাজেন্দ্র খান্না, কলকাতার ইন্সটিটিউট অব সোশ্যাল অ্যান্ড কালচারাল স্টাডিজ, ইয়াঙ্গুনের ভারতীয় দূতাবাস এবং মিয়ানমার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের থিংক ট্যাঙ্কের বিশেষজ্ঞরা।

গত ২৫ আগস্ট রাখাইনে সেনা অভিযান শুরু হলে ছয় লাখের বেশি রোহিঙ্গা বাংলাদেশে পালিয়ে আসে।

 

এ/কে

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়