• ঢাকা শনিবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ৭ আশ্বিন ১৪২৫

রাখাইনে সহিংসতার জন্য সু চিকে সরাসরি দায়ী মনে করে না কানাডা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
|  ১১ নভেম্বর ২০১৭, ১১:১২ | আপডেট : ১১ নভেম্বর ২০১৭, ১৩:৫৭
মিয়ানমারের রাখাইনে সাম্প্রতিক সহিংসতার জন্য দেশটির বেসামরিক সরকার অংশের প্রধান অং সান সু চিকে দায়ী মনে করে না কানাডা। বরং দেশটি মনে করে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী সু চির সুনাম ক্ষুণ্ণ করতে সেখানে সহিংসতা চালিয়ে যাচ্ছে। খবর ন্যাশনাল পোস্ট, গ্লোবাল নিউজের।

শুক্রবার ভিয়েতনামে এপেক সম্মেলনের ফাঁকে এক বৈঠকে মিলিত হন মিয়ানমারের রাষ্ট্রীয় উপদেষ্টা অং সান সু চি এবং কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো। ওই বৈঠকে ট্রুডো মিয়ানমারে রাষ্ট্রীয়ভাবে সহিংসতার বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন।

বৈঠকে থাকা কর্মকর্তারা বলছেন, ট্রুডো রোহিঙ্গা ইস্যুতে ‘খুব সোজাসাপটা’ কথা বলেছেন সু চির সঙ্গে। তারা জানাচ্ছে, দুই নেতা প্রথমে অনেক বিষয়ে একমত পোষণ করেননি।

৪৫ মিনিট ব্যাপী ওই বৈঠকে রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে কানাডার বিশেষ দূত বব রে এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী ক্রিস্টিয়া ফ্রিল্যান্ডও উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠক শেষে ব্রিফিংয়ে রে বলেন, আমরা মনে করি রোহিঙ্গা ইস্যুতে আরো অনেক কিছু করতে হবে এবং আরো অনেক কিছু করা যেত।

তিনি বলেন, আরো অনেক গুরুতর বিষয় নিয়ে আমাদের কাজ করতে হবে। কারণ এটা শুধু মানবিক সংকটই নয়, রাজনৈতিকও বটে।

গেলো ২৫ আগস্ট রাখাইনে সেনা অভিযান শুরু হওয়ার পর এই প্রথম সু চির মুখোমুখি হলেন ট্রুডো।

রে আরো বলেন, রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে ফিরিয়ে নেয়া এবং শরণার্থী ক্যাম্পের পরিস্থিতি উন্নয়নে নেইপিদোর সঙ্গে কাজ করে যাবে কানাডা। তবে কাজটা যে অতোটা সহজ হবে না সেটা তিনি স্বীকার করছেন।

এসময় সু চি রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিতে বাংলাদেশের সঙ্গে মিলে কাজ করার ব্যাপারে তার ইচ্ছার কথা পুনর্ব্যক্ত করেছেন। আর সেটি জাতিসংঘের সাবেক মহাসচিব কফি আনানের রিপোর্ট অনুসারেই হতে হবে, বলে জানাচ্ছেন রে।

রে বলেন, সু চির জন্য এটি সহজ হবে না কারণ দেশটিতে তার ক্ষমতা খুব সীমিত।

উল্লেখ্য, ২০০৭ সালে প্রথম নারী হিসেবে কানাডার সম্মানসূচক নাগরিকত্ব দেয়া হয় সু চিকে। ২০১২ সালে কানাডার তৎকালীন পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন বেয়ার্ড মিয়ানমারে গিয়ে সু চিকে তার সম্মাননাসূচক নাগরিকত্বের বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

রোহিঙ্গাদের ওপর সহিংসতা শুরু হলে সু চির সম্মানসূচক নাগরিকত্ব বাতিলের জন্য ট্রুডো নেতৃত্বাধীন লিবারেল সরকার ব্যাপক চাপের মধ্যে রয়েছে।

এদিকে রাখাইনে সহিংসতার ঘটনায় সমালোচনার মধ্যেই বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠান সু চিকে দেয়া সম্মাননাসূচক প্রত্যাহারও করে নেয়।

রাখাইনে সেনা অভিযান শুরু হলে ছয় লাখের বেশি মানুষ প্রতিবেশী বাংলাদেশে পালিয়ে আসে। জাতিসংঘ বলছে সেখানে জাতিগত নিধন চলছে।

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়