• ঢাকা শুক্রবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ৬ আশ্বিন ১৪২৫

ভূমধ্যসাগরে ভাসছিল ২৬ কিশোরীর মৃতদেহ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
|  ০৭ নভেম্বর ২০১৭, ১৩:০২
ইতালির কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তারা ২৬ জন কিশোরীর মৃত্যুর বিষয়টি তদন্ত করছে। রোববার ভূমধ্যসাগরে ওই কিশোরীদের মৃতদেহ পাওয়া যায়। খবর সিএনএনের।

ধারণা করা হচ্ছে ওই কিশোরীরা নাইজার এবং নাইজেরিয়া থেকে লিবিয়া হয়ে ইউরোপ আসার সময় এই ঘটনা ঘটে থাকতে পারে। ওই কিশোরীদের বয়স ১৪-১৮ বছরের মধ্যে।

ইতালির দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় সালেরনো শহরের পুলিশের প্রধান লেরেনা সিকোত্তি বলেছেন, আজ মঙ্গলবার ওই কিশোরীদের মৃতদেহের ময়নাতদন্ত করা হবে। ওই কিশোরীদের ওপর শারীরিক বা যৌন নির্যাতন করা হয়েছিল কিনা সেটিও তদন্ত করে দেখবেন তারা।

ভূমধ্যসাগরে রাবারের তৈরি একটি ডিঙি নৌকার পাশে মৃতদেহগুলো ভাসছিল। যখন উদ্ধারকারীরা সেখানে পৌঁছান, নৌকাটি ধরে ভেসে থাকতে পারায় বেশ কয়েকজন বেঁচে ছিল। সে এক মর্মান্তিক দৃশ্য। পাশেই ভাসছিল ওই কিশোরীদের মৃতদেহগুলো।

রোববার চারটি পৃথক উদ্ধারাভিযানে প্রায় ৪০০ অভিবাসন প্রত্যাশীকে উদ্ধার করা হয়। স্প্যানিশ ক্যান্টাব্রিয়া জাহাজে করে তাদের সালেরনো বন্দরে আনা হয়।

উদ্ধারকৃতদের মধ্যে ৯০ জন নারী রয়েছেন। যাদের মধ্যে এক সপ্তাহ বয়সী এক শিশুসহ ৫২ জন অপ্রাপ্তবয়স্ক রয়েছেন।

ইউরোপ প্রত্যাশীরা লিবিয়াকে তাদের অভিবাসনের প্রাথমিক পয়েন্ট হিসেবে ব্যবহার করে থাকেন। সাব-সাহারান আফ্রিকা থেকে অনেকেই যুদ্ধ, নির্যাতন এবং মধ্যপ্রাচ্য ও দক্ষিণ এশিয়া থেকে আর্থিক অবস্থার উন্নতির জন্য এই ভয়াবহ পথ পাড়ি দিয়ে ইউরোপে ঢোকার চেষ্টা করে।

উত্তর আফ্রিকার দেশ লিবিয়াকে মানবপাচারকারীরা তাদের অন্যতম রুট হিসেবে ব্যবহার করে থাকে।

এদিকে সোমবার ইতালির পুলিশ একজন মিশরীয় এবং একজন লিবিয়ানকে মানব পাচারের অভিযোগে আটক করে। তবে ওই ব্যক্তিরা ওই কিশোরীদের পাচারের সঙ্গে জড়িত নয় বলে ধারণা করা হচ্ছে।

অভিবাসনবিষয়ক আন্তর্জাতিক সংস্থার তথ্য মতে এ বছরের শুরুতে ভূমধ্যসাগরীয় এই রুটে ২ হাজার ৮৩৯ জন অভিবাসন প্রত্যাশী মারা গেছে। এ সময় দেড় লাখের বেশি অভিবাসী ইউরোপে পৌঁছেছে। যাদের মধ্যে শতকরা ৭৪ ভাগই ইতালি হয়ে ইউরোপে ঢুকেছে।

এ/এপি

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়